অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা ইউনুছের রেলওয়ের বাড়ি ও দোকান

প্রকাশিত: ২:৪০ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৭, ২০২০

অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা ইউনুছের রেলওয়ের বাড়ি ও দোকান

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটে রেলওয়ের ভ‚মি দখল করে বাড়ি ও দোকান করে অপরাধীদের আস্তানা গড়ে তুলেছে দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দির ইউনুছ। দক্ষিণ সুরমার টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের পেছনে রেলওয়ের ভ‚মি দখল করে ইউনুছ নির্মাণ করে এই বাড়িঘর ও দোকান। বাড়ির সামনে টি-স্টল ও অন্যান্য পন্যসামগ্রী বেচাকেনার নামে দোকান করে ইউনুছ, সেখানে চালায় নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড। এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও তীর-জুয়াড়িদের নিরাপদ আস্তানা ইউনুছের এই বাড়ি ও দোকান। প্রতিদিন এই বাড়ি ও দোকানে বসানো হয় ভিন্ন ভিন্ন নামে তীর-জুয়ার বোর্ড।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউনুছের এই বাড়ি ও দোকান মূলত রেওয়ের ভ‚মি। রেলওয়ের কোন লীজ বা অনুমোদন নেই এই বাড়ি ও দোকান নির্মাণের। ইউনুছের এই বাড়ি ও দোকানে মূলত পণ্যের কোন ব্যবসা হয় না। প্রকৃতপক্ষে এটা জুয়া ও মাদক বিক্রেতা এবং জুয়াড়ি ও মাদকসেবীদের একটি নিরাপদ আস্তানা। মাদক ও জুয়া থেকে ইউনুছ কামাই করে থাকে লাখ লাখ টাকা। ইউনুছ তার এই বাড়ি ও দোকান কেন্দ্রিক গড়ে তুলেছে একটি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী চক্র। এ চক্রের মাধ্যমে ইউনুছ এলাকায় কায়েম করে রেখেছে ত্রাসের রাজত্ব। এ চক্র এই বাড়ি ও দোকানকে কেন্দ্র করে এলাকা জুড়ে ছিনতাই ও রাহাজানীমূলক নানা অপরাধ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। ইউনুছের ওই বাড়ি এবং দোকান সন্ত্রাসীচক্র ও মাদকসেবীদের মিলন মেলা এবং আড্ডাখানায় পরিণত হয়ে আসছে।

 

অভিযোগ পাওয় গেছে, জুয়া ও মাদকের পাশাপাশি ইউনুছ অনুমোদন বিহীন একটি সমিতি গঠন করে ক্ষুদ্র ঋণ তথা দাদন ব্যবসা শুরু করে। এই ব্যবসার মাদ্যমে ক্ষদ্র ব্যবাসী ও হতদরিদ্র মানুষদের কাছ থেকে চড়া অংকের সুদ আদায় করে থাকে। একে দ্বিগুন ও তিনগুন টাকা সুদ না দিলে তার সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্র লেলিয়ে দিয়ে তাদের কাছ থেকে জোর করে ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে সুদের টাকা আদায় করে থাকে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে অনেক গরীব পরিবার তাদের সহায় সম্বল বিক্রি করে ইউনুছের সুদের টাকা পরিশোধ করে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, রেলওয়ে কলোনী এলাকার নারী-পুরুষ ইউনুছের কাছে জিম্মি হয়ে দিনাতিপাত করছে। বিভিন্ন কলোনীতে নারী ও কিশোরীদের জোরপূর্বক রেখে ভাড়ায় দেহব্যবসাও করে ইউনুছ। আর দেহভোগী কামুক ও খদ্দেরদের যোগাযোগ দরদাম এবং সাপ্লাইখানা হচ্ছে ইউনুছের উল্লেখিত বাড়ি ও দোকান। প্রতিরাতে ইউনুছের এই বাড়ি ও দোকান থেকে সিলেট নগর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে দেহপসারিনী নারী ও স্বল্প বয়েসী কিশোরীদের সাপ্লাই দেওয়া হয়ে থাকে। আবার সকালে এ দোকান ও বাড়িতেই এদের ফেরত গ্রহণ করা হয়।

 

স্থানীয় কতিপয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালীদের শেল্টারে রেলওয়ের ভ‚মিদখল করে বাড়ি দোকান বানিয়ে অপরাধের এই আস্তানা গড়ে তুলেছে ইউনুছ। ফলে যেমন তার বিরুদ্ধে কার্যকরী কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, তেমনি ইউনুছের অপরাধ-অপকর্ম ব্যপারে নিরব পুলিশও। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তারা অচিরেই উচ্ছেদ ও ইউনুছের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে।

 

ইউনূছের এই আস্তানার শেল্টার দাতাদের চিহ্নিত করতে দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ’র একটি তালাশ টিম মাঠে রয়েছে। অচিরেই তাদের মূখোশ উন্মোচন করে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর