এক অনন্ত জলিল

প্রকাশিত: 7:34 PM, June 29, 2020

এক অনন্ত জলিল

শাহ আলম রাজন : অনন্ত জলিল এক বিদঘুটে ইংরেজি উচ্চারণ নিয়ে সেলুলয়েড পর্দায় অসম্ভব কে সম্ভব করতে চাচ্ছেন। অনন্ত জলিল যখন ঝুলন্ত খলিলের মত সিনেমায় নিজস্ব ঢংয়ে ডায়লগ দিচ্ছেন তখন ঠিকই আমাদের আব্দুল জাব্বার জলিল চাচা সিনামার গল্পকে হার মানিয়ে করোনা কালিন সময়ে কল সেন্টারের মাধ্যমে সেবা প্রদান করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। তাঁর নিজস্ব উদ্যোগে এই আপদকালিন সময়ে অসংখ্য মানুষের সেবা করা হয়েছে । তিনি শুধু দান করেননি বরং অন্যান্য মানুষকে সেবা প্রদানে উৎসাহ দিয়েছেন। বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষকে অভয় দিচ্ছেন । নিজ ফেইসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে সেবা প্রদান করেছেন। নিজস্ব ফোন লাইনটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রেখেছেন। এমন একজন মহতী মানুষ এই সময়ে পাওয়া খুব কঠিন ।
জলিল চাচা একজন সফল ব্যবসায়ী। আমার পাশ্ববর্তী গ্রাম সুনামপুরে তাঁর জন্ম। ট্রাভেল ব্যবসার মাধ্যমে তাঁর উত্থান। যাত্রীক ট্রাভেলস মাধ্যমে তাঁর পথচলা। ধীরে ধীরে আটাবের প্রেসিডেন্ট। আনন্দ টাওয়ারের স্বত্বাধিকারী। আমার কাছে বড় পরিচিতি হল তিনি হলেন একজন সমাজ সেবক এবং পরিমিত বোধের একজন বিনয়ী নম্র ভদ্র মহাপুরুষ।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আমারা শৈশবে একটি মিথের মাধ্যমে বড় হয়েছিলাম। জলিল নবাব মিথ। এই দ্বন্দ্বে বড়চকের একজন মানুষ খুন হয়েছিলেন। আমার মনে আছে নবাব ভাইকে নিয়ে জালাল পুর বাসির মৌসুমি হৈচৈ। আমাদের জালাল পুরে আমরা অনেকেই অহেতুক অনেক মানুষকে আইটেম বানাতে পারি। নবাব খলিল এই দ্বন্দ্ব টুকু কি ছিল তার রহস্য উন্মোচন হয় নি। নবাব ভাইকে আমি চিনি । তিনিও একজন সফল ব্যবসায়ী। কলম্বিয়া গ্রুপের চ্যেয়ারম্যান। ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। জলিল চাচার বাড়ি পাশে তাঁদের বাড়ি। তাঁরা সহপাঠী ছিলেন। এটি ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব নাকি শ্রেণীগত সংঘাত তা আমার জানা নেই। আজকাল কোন তথ্য সঠিক মেলেনা। তবে জলিল চাচা বা নবাব ভাই বিশেষ প্রয়োজনে সমাজকে অনেক কিছু দিচ্ছেন। জলিল চাচার দান সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। জালাল পুর কলেজে জলিল ভবন সহ বিভিন্ন অনুদান সময়ের সাক্ষী। সন্তানদের তিনি সুশিক্ষিত করেছেন। তাঁর বড় ছেলে রনির সাথে একাধিক বার দেখা হয়েছিল। শুনেছি তার বাবার সম্পদের কোন লোভ নেই। একজন পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে সে নিজকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। মানুষের সম্পদের যোগ্য উত্তরাধিকারী তাঁর সন্তান। কিন্তু জলিল চাচা অকাতরে বিলিয়ে দিচ্ছেন তাঁর সম্পদ। সমাজে অল্প বিস্তর সবাই দান করে কিন্তু জলিল চাচার মত এত সমাজ সেবা কেউ আমাদের দক্ষিণ সুরমায় করেননি। তিনি রাজনৈতিক সচেতন। বর্তমান সরকারের অনেক মন্ত্রী তাঁর একান্ত কাছের মানুষ। কোন ধন্যবাদ এবং সংবর্ধনা তাঁর জন্য যথেষ্ট নয়। সম্ভবত তিনি সেটা চাননা। আমরা শুধু তাঁর নেক হায়াত এবং আল্লাহ্ সন্তুষ্টি কামনা করতে পারি। জয়তু জলিল চাচা। আল্লাহ্ যেন তাঁর দান কবুল করেন।

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর