এলাকাবাসীর মানববন্ধন : জকিগঞ্জে সুরমার করাল গ্রাসে ভিটেমাটি হারা দুইশত পরিবার

প্রকাশিত: ৬:২৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০২০

এলাকাবাসীর মানববন্ধন : জকিগঞ্জে সুরমার করাল গ্রাসে ভিটেমাটি হারা দুইশত পরিবার

মো. হাবিবুর রহমান
জকিগঞ্জের ৮নং কসকনকপুর ইউনিয়নাধীন হাজীগঞ্জবাজার সংলগ্ন মৌলভীরচক গ্রাম সুরমা নদীর ভাঙনের শিকার৷ সুরমার তান্ডবে গ্রামের প্রায় দুইশত পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন৷ কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে, কেউ অন্যত্র নিজের জায়গায়, কেউ অন্যের দয়ায় দান করা জায়গায় মাথা গুজার ঠাঁই নিয়েছেন৷

 

১৯৫৯ সালে ইউনিয়ন কাউন্সিল গঠিত হয়৷ ১৯৬০ থেকে ১৯৬৫ সালের মধ্যে ইউনিয়ন কাউন্সিলের মাধ্যমে তৎকালিন সরকার সুরমা ডাইক নির্মাণ করে৷ কসকনকপুর পূর্ব মৌলবীরচক গ্রামের দক্ষিণ পার্শ্ব দিয়ে যাওয়া এলাকার প্রাচীন রাস্তাকে ডাইকে রূপান্তর করা হয় বিধায় এই ডাইক-ই এলাকার ৫, ৬,৭ ও ৮নং ওয়ার্ডবাসীর চলাচলের একমাত্র রাস্তা হিসেবে বিদ্যমান থাকে৷ ডাইক কাম রাস্তার উত্তর পার্শ্বের মৌলবীরচক গ্রামের ২৯টি বাড়ি, হাজী মালিক(রহ.) মাজার, গ্রামের কবরস্থান, পুরাতন মসজিদ, বরদার কামারশালা সুরমা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়৷ যার ফলে প্রায় দুইশত পরিবার ভিটেমাটি হারায়৷

 

বর্তমানে ভিটেহারা অস্তিত্বহীন প্রায় ত্রিশটি পরিবার ভাঙন কবলিত স্থানে মাটি কামড়ে কোনমতে বসবাস করে৷ ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় বর্তমান বাড়িগুলো ভেঙে এলাকার চলাচলের একমাত্র রাস্তাটিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়৷ যার ফলে দুর্ভোগে পড়েন ৫, ৬, ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডের মানুষ৷ বিকল্প কোন রাস্তা না থাকায় ওয়ার্ড সমূহের প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে৷ রাস্তা কাম ডাইক ভেঙে যাওয়ায় বর্ষায় সমস্ত জকিগঞ্জ উপজেলা বন্যার ঝুকিতে পড়ে৷ এলাকাবাসী দফায় দফায় স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেও ভাঙন প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি৷ ফলে দুর্ভোগ কাটেনি হাজীগঞ্জবাসীর৷

 

সম্প্রতি ভাঙন আরও তীব্র হওয়ায় মৌলভীরচক সূরমা নদীর তীরবর্তী মামন মিয়ার বসত ঘর গত ০৬-১২-২০ তারিখ মধ্যরাতে নদীগর্ভে ধ্বসে চলে যায়৷ পার্শ্ববর্তী লোকজন মামনের বৃদ্ধা মা সহ পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে৷ স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন লস্কর মামন মিয়ার আশ্রয়ের জন্য মুসলিম হ্যান্ডস সোসাইটি, ফুলতলী সাহেব বাড়ী বরাবরে আবেদন করেছেন৷ আবেদনটি এখনও প্রক্রিয়াধীন৷

 

রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন জনপদের লোকজন উপজেলা চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন৷ নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে এলাকার হাজার হাজার জনগণ ইলেক্ট্রোনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার উপস্থিতিতে বিশাল মানববন্ধনে জড়ো হন।

 

মানববন্ধনে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের সবিনয় আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন- হাজি মো. আব্দুল লতিফ, প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন লস্কর, আব্দুল মানিক মিরাসী, জালাল উদ্দীন, জকিগঞ্জ প্রবাসী ফোরাম সভাপতি সোলেমান আহমদ লস্কর, মাস্টার আবুল কালাম আজাদ, রেজাউল হক রাজু, আব্দুল বাসিত মিরাসী, কামরুল ইসলাম, মাওলানা জুবায়ের আহমদ, এমাদ উদ্দিন, কামিল আহমদ প্রমুখ।

 

মানববন্ধনে বক্তারা জকিগঞ্জ কানাইঘাটের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাফিজ আহমদ মজুমদারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি যেনো অচিরেই এই নদী ভাঙন প্রতিরোধে প্রকল্প পাশ করিয়ে বøক কার্পেটিং করে বাংলাদেশের মানচিত্র রক্ষা করে এলাকার মানুষের যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দেন ও ভাঙন কবলিত বাড়িগুলো রক্ষার ব্যবস্থা করেন৷

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর