কানাইঘাটের কাড়াবাল্লাহ বিদ্যানিকেতন এডহক কমিটি গঠনের অনুমতি প্রদান করলো সিলেট শিক্ষাবোর্ড

প্রকাশিত: ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২০

কানাইঘাটের কাড়াবাল্লাহ বিদ্যানিকেতন এডহক কমিটি গঠনের অনুমতি প্রদান করলো সিলেট শিক্ষাবোর্ড

বিজয়রে কণ্ঠ ডেস্ক : বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়াতে সিলেট জেলা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কানাইঘাটের লক্ষ্মীপ্রসাদ পুর্ব ইউনিয়নাধীন কাড়াবাল্লাহ বিদ্যানিকেতনকে এডহক কমিটি গঠনের জন্য গতকাল ২৫/১০/২০ তারিখে লিখিত অনুমতি পাঠিয়েছে সিলেট জেলা শিক্ষাবোর্ড। ইতিমধ্যে লিখিত অনুমতি হাতে পৌছেছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাষ্টার এনামুল হক সাহেব।

চিঠিতে বলা হয়, সরকারের নির্দেশ হচ্ছে যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে বা যারা ইতোপূর্বে নির্বাচনি তফসিল ঘোষনার পরও সূত্রে উল্লেখিত পত্রের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে নির্বাচন করতে পারেনি বা স্থগিত রয়েছে বা কমিটির মেয়াদ শেষ পর্যায়ে এবং অবশিষ্ট মেয়াদের মধ্যে বিধি মোতাবেক নির্বাচন করা সম্ভব নয় সেসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে পরবর্তী নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও প্রতিষ্ঠানসমূহ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য এডহক কমিটি গঠনের অনুমতি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। যেতেহু কাড়াবাল্লাহ বিদ্যানিকতেনের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি, সেজন্য আমরা ঐ বিদ্যালয়ে দ্রুত কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশ প্রদান করিলাম।

উল্লেখ : কাড়াবাল্লাহ বিদ্যানিকেতন একটি সুপ্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠান, ২০০২ সালে জন্ম নেয়া প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশবিদেশে পরিচিত। শুরুতেই বহুমাত্রিক সফলতার চাবিকাঠি হয়ে দাড়ায় প্রতিষ্ঠানটি। যেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে ছাত্ররা আজ দেশবিদেশের আনাচে-কানাচেতে বিভিন্ন পেশায় লিপ্ত। অল্পদিনে আলোর মুখ দেখা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কাড়াবাল্লাহ বিদ্যানিকেতন অন্যতম। এলাকার মানুষ প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে বুক ভরা আশা আর চোখ ভরা সপ্ন দেখতে থাকে। এলাকার মানুষের জন্য গর্বেরধন হয়ে দাড়ায় কাড়াবাল্লাহ বিদ্যানিকেতন। প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে এখনো মানুষের সপ্ন দেখার শেষ নেই। কিন্তু বিগত অর্ধযুগ ধরে স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দেখা দেয় ধূম্রজাল! যা এখনো অব্যাহত। ২০১২ সালে সর্বশেষ কমিটি গঠন হওয়ার পর ১৪ সালের কমিটি গঠনে ধন্দ দেখা দিলে এখন পর্যন্ত কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি! গ্রুপিং আর অন্তর কোন্দলের কারণে অপেক্ষার প্রহর নিয়ে অতিক্রম হলো ৬ টি বছর! বিগত ৬ বছরেও আসে নাই স্থায়ী কোন সমাধান। ইতিপূর্বে যারাই সমাধানের পথ খোঁজেছিলো তারাই এবং কমিটি গঠনের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো তারাই আবার বিভিন্ন মামলামোকদ্দমায় জর্জরিত হতে হয়েছিলো! সবমিলিয়ে একটি শ্বাসরুদ্ধকর সময় অতিক্রম করছে বিদ্যালয়টি। যেখানে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে ২ বছর পরপর কমিটি গঠন হতো সেখানে আজ ৬ টি বছর ধরে অযোগ্য ও অদক্ষ একজন সভাপতি দ্বারা বিদ্যালয় তার সূনাম-সূখ্যাতি বিনষ্ট করছে বলে দাবি করছে এলাকাবাসী এবং স্টুডেন্টদের অভিভাবকরা। অবশেষে বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে দক্ষ নেতৃত্ব বাছাই করতে সোচ্চার হয়ে ওঠে এলাকার সর্বস্তরের যুব সমাজ, তারা প্রতিজ্ঞা করে বিদ্যালয়ের চলমান সমস্যা নিরসনের। একে একে বাস্তবায়ন করতে শুরু করে তাদের পথচলা। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির জন্য দৌড়ঝাঁপ করে বিভিন্ন অফিস আদালতে। এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যুব সমাজের সাথে এক জোট হয় স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীরাও। অবশেষে যুব সমাজের দাবির মুখে গতকাল ২৫/১০/২০ ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন প্রদান করে সিলেট জেলা শিক্ষাবোর্ড। লিখিত অনুমতি হাতে পৌছানো হয় প্রধান শিক্ষক মাষ্টার এনামুল হক সাহেবের কাছে।

যুব সমাজ আশা করছে স্কুলের সুস্থ মস্তিষ্ক ফিরিয়ে আনতে বর্তমান দায়িত্বশীলরা খুব দ্রুত কমিটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর