গোয়াইনঘাটের ডৌবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ২৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ : স্মারকলিপি

প্রকাশিত: 4:35 PM, July 19, 2020

গোয়াইনঘাটের ডৌবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ২৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ : স্মারকলিপি
খলিলু রহমান : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ৯নং ডৌবাড়ি ইউপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. বশির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীীত ও আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২০১৯-২০২০ একমিাত্র অর্থবছরে দরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান (ইজিপিপি) প্রকল্পের ২৮ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন তিনি। এ মর্মে অভিযোগ এনে ইউনিয়নের শতাধিক লোক গত ২৪ জুন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন। পরে গত ৯ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবরে স্মারকলিপি দেওয়ার পর এর অনুলিপি সরকার ও প্রশাসনের বিভিন্ন দাািয়ত্বশীল মহলে প্রেরণ করা হয়েছে।
ইউনিয়নবাসীর অভিযোগ গত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ডৌবাড়ি ইউনিয়নের রাস্তাঘাট পুনঃনির্মাণ ও মেরামতের জন্য ইজিপিপি’র ৮ টি প্রকল্প দাখিল করেন ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বশির উদ্দিন। এর মধ্যে হাটগ্রাম ইউসুফ আলীর বাড়ি হতে হাতিরপাড়া মানিকগঞ্জ রাস্তায় কোন কাজই করা হয়নি। কাজ না করিয়েই এ প্রকলেœপ ৩৮ জন শ্রমিকের নামে ৩লাখ ৪ হাজার টাকা আত্মসাত করেন। এছাড়া অন্য আরো ৭ টি প্রকল্প মিলিয়ে ৩৫১ জন শ্রমিকের নামে ২৮ লাখ ৮ হাজার টাকা আত্মসাত করেন। প্রকল্পগুলোর মধ্যে ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের একটি রাস্তায় ৩৮জন শ্রমিকের টাকা, ৭নং ওয়ার্ডের একটি রাস্তায় ৫৪ জন শ্রমিক , ৬নং ওয়ার্ডের একটি রাস্তা মেরামতের নামে ৬০ জন শ্রমিক, ৯নং ওয়ার্ডের একটি রাস্তা মেরামতের নামে ২৫ জন শ্রমিক , ১নং ওয়াডের একটি রাস্তা মেরামতের নামে ৬৯ জন শ্রমিক, ২নং ওয়ার্ডের একটি রাস্তায় ২৫ জন শ্রমিক, ৩নং ওয়ার্ডের একটি রাস্তায় ৫০জনশ্রমিক এবং ১নং ওয়ার্ডের আরেকটি রাস্তায় ২৫ জন শ্রমিকের নামে এই ২৮ লাখ ৮ হাজার টাকা লোপাট করেন তিনি। প্রত্যেকটি রাস্তায় কাজ না করিয়ে ইউপি সদস্যদের সাথে যোগসাজশে শ্রমিকদের নামের আইড ও ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করেন। এসব ভুয়া নাম-স্বাক্ষরে মাস্টাররোল তৈরী ও দাখিল করে চেয়ারম্যান বশিল সাকুল্য টাকা উত্তোলন ও আত্মসাত করেন বলে অভিযোগে প্রকাশ। এছাড়াও সাম্প্রতিক করোনা ও বন্যার ত্রাণ বিতরণেও আত্মসাত এবং স্বজন প্রীতির অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান বশির উদ্দিনের বিরুদ্ধে।
সরকার দল আওয়ামী লীগের দাবিদার হলেও জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীর সাথে রয়েছে চেয়ারম্যান বকশিরের গভীর সখ্যতা। ফলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সব সময় তার কাছে বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন বলে উল্লেখ করা হয়। স্মারকলিপিতে ইউনিয়নবাসী চেয়ারম্যন বশিরের আত্মসাতমূলক সকল কর্মকান্ডের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
অভিযোগের ব্যাপারে বৃহস্পতিবার রাতে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান বশির উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি অনিয়ম-দুর্নীতি আত্মসাত ও স্বজনপ্রীতির সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।

 

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর