চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় বড়লেখায় প্রতিবাদ : এলাকাবাসীর ক্ষোভ

প্রকাশিত: 1:59 AM, May 12, 2020

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় বড়লেখায় প্রতিবাদ : এলাকাবাসীর ক্ষোভ

বড়লেখা সংবাদদাতা : বড়লেখার চান্দগ্রামে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে এক প্রতিবাদসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার ৩নং নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যন ময়নুল হক ও ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার সুনাম উদ্দিনের পক্ষে এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। শত শত লোক জড়ো করে দুর্নীতির পক্ষে সাফাই গেয়ে এমন অভিনব প্রতিবাদ সভা নিয়ে গোটা উপজেলায় চলছে তোলপাড়।

জানাগেছে, উপজেলার ৩নং নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যন ময়নুল হক ও ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার সুনাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে লাগামহীন দুর্নীতি ও সরকারি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ এনে স্থানীয় এক ব্যাক্তি সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাররে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এর পর পরই চেয়ারম্যান ময়নুল ও ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য সুনাম উদ্দিন নিজেদের লোক দিয়ে শুক্রবার চান্দগ্রাম বাজারে এই প্রতিবাদ সভার ডাক দেন।
সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে স্থানীয় চেয়ারম্যন ময়নুল হক ও রশিদ আহমদ সুনামের পক্ষে হাজার লোক এই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন। এ প্রতিবাদ সভাকে ঘিরে এলাকায় এখন তুলকালাম সৃষ্টি হয়ছে। গোটা ইউনিয়নে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে । সভায় দরখাস্তকারীর এলাকা নিয়ে মন্তব্য করায় ইউনিয়নের বাসিন্দা এখন দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। যে কোন সময় পক্ষে-বিপক্ষে সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিয়েছে।

নিজেদের দুর্নীতি আড়াল করার হীন উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান এর নিজ বাড়িতে আলোচনা করে চান্দগ্রাম বাজারে এধরনের প্রতিবাদ সভার আয়োজনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ। নাম-প্রকাশ না করার শর্তে একজন মেম্বার ও এলাকার একাধিক মুরব্বী প্রতিবেদককে বলেন, চোরের মার বড় গলা। এলাকার একজন নাগরিক চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতেই পারে, তদন্তে আসল রহস্য বেড়িয়ে আসবে।

প্রশাসনের নিকট অভিযোগ দায়ের করা হয়ছে- সময় সাপেক্ষে তদন্ত হবে। এটা নিয়ে এতো বারাবারি রহস্যই থেকে যায়। তারা আরো বলেন, সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চেয়ারম্যনের এমন কান্ডে আমরা মর্মাহত। তারা চেয়ারম্যানের এমন আচরনের নিন্দা জানান এবং দাখিলকৃত বদরুজ্জামান কর্তৃক চেয়ারম্যানের দূর্নীতির অভিযোগ সঠিক তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে জোর দাবী জানান।
বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে এ ব্যাপারে মোঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি চেয়ারম্যান ময়নুল হক এর বিরুদ্ধে বদরুজ্জাম কর্তৃক দরখাস্ত পেয়েছেন জানিয়ে বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও ঝুঁকির এই মুহুর্তে লোক জমায়েত করার তো দুরের কথা এখন নিজে ও নিজের পরিবারকে ঘরে থেকে নিরাপদ রাখা প্রয়োজন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শোয়েব আহমদের সাথে মোঠো ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান ময়নুল হক এর পক্ষে চান্দগ্রাম বাজারে প্রতিবাদ সভার সংবাদ পেয়ে আমি সিএনজি যোগে সরেজমিনে গিয়েছিলাম এবং প্রতিবাদ সভা শেষ পর্যায় আমাকে কথা বলার জন্য মাইকে ঘোষনা দিলে আমার বক্তব্যে আমি এধরনের আয়োজনের প্রতিবাদ জানাই এবং সবাইকে নিজ নিজ ঘরে যাওয়ার আহবান জানাই। তিনি আরো বলেন, যে কেউ জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে পারে। তদন্তে আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে কিন্তু করোনা ভাইরাসের ঝুঁকির মধ্যে এটা সঠিক হয়নি।

বড়লেখা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে তিনি বলেন চান্দগ্রাম বাজারে প্রতিবাদ সভা হয়েছে। এটা প্রথমে আমি জানতে পারি নাই। সভা হওয়ার পর আমি জেনেছি। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বা এই সময়ে প্রতিবাদ সভা করা ঠিক হয়নি।
চেয়ারম্যান ময়নুল হকের মোবাইলে বার বার যোগাযোগের চেষ্ঠা করেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

চেয়ারম্যান ময়নুল হক এর বিরুদ্ধে দরখাস্তকারী বদরুজ্জামান এর সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আমাকে চেয়ারম্যান ময়নুল হকের লোক জন বারবার ফোনে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে, আমি এবং আমার পরিবার বর্তমানে অসহায় বোধ করছি। তিনি আরো বলেন, আসল ঘটনা আড়াল করতে চেয়ারম্যান নিজে পরিকল্পিতভাবে লোকজন ভাড়া করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও ঝুঁকির মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এই প্রতিবাদ আয়োজন করেছেন।

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর