জৈন্তাপরে সীমান্তের চোরাচালান চক্রের গডফাদার রুবেল, নির্মাণ করছেন কোটি টাকার বাড়ি

প্রকাশিত: ২:৪২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২, ২০২০

জৈন্তাপরে সীমান্তের চোরাচালান চক্রের গডফাদার রুবেল, নির্মাণ করছেন কোটি টাকার বাড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক, জৈন্তাপুর
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্ত এখন বিজিবির সোর্স চোরাচালান রাজ্যের মুকুটহীন স¤্রাট সীমান্তের রাজা চোরাচালান চক্রের গডফাদার রুবেল এর নিয়ন্ত্রণে। সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চোরাচালান চক্রের গডফাদার মিরজান হোসেন রুবেল প্রতিদিন রাতে ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু, স্বর্ণ, মদ, গাঁজা, ইয়াবা, অস্ত্র, ভারতীয় ফালি (কাঠ), লাকড়ি, জাল টাকা, মাছ ধরার বরশি, শাক-সবজি, ভারতীয় বিড়ি ও গরু পাচাঁর করছে। পাচাঁরকৃত মালামাল থেকে নামে-বেনামে চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ নিয়ে পত্রিকায় একাধিক বার সংবাদ প্রকাশের পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে রুবেলের এর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে এই চোরাচালান চক্রের গডফাদার লাইনম্যানের দাপট ও চাঁদাবাজির পরিমাণ আরও বেড়ে গেছে।

 

রুবেল জৈন্তাপুর উপজেলা সদরের ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের কেন্দ্রীমৌজা (কাটালবাড়ী) গ্রামের আহমদ আলী মেম্বারের পুত্র।

 

অবশ্য চোরাচালানের গডফাদার রুবেল নাম বললে কারো সাধ্য নেই লোকটিকে চেনার। বিশেষণ হিসেবে নামের আগে যুক্ত করতে হবে চোরাচালানের গডফাদার। অর্থ্যাৎ চোরাকারবারি চোরাচালানের গডফাদার মিরজান হোসেন রুবেল। এই নামেই জৈন্তার চোরাচালান রাজ্যের সাথে মিশে গেছে নামটি। তাঁর নেই কোনো প্রতিদ্ব›িদ্ব সহযোগিতায় তার মামা বেন্ডিস করিম। তিনি চোরাচালান রাজ্যের মুকুটহীন স¤্রাট।

 

স্থানীয় এলাকার লোকজন জানান, বেন্ডিস করিমের সহযোগিতায় রুবেলের বিজিবি ও জৈন্তাপুর পুলিশের সাতে তার এত সম্পর্ক তা দেখলে মনে হয়ী সে তাদের প্রধান। জৈন্তাপুর সিমান্তে আর কারো তদারকি চলে না, অনেকেই রুবেলকে দুই বাহিনীর প্রধান বলেই জানেন। রুবেলের একটি চোরাচালান চক্র নিয়ে সীমান্ত এলাকায় ত্রাসের রামরাজত্ব কায়েম করছে। বিনিময়ে রুবেলে তার বাহিনীর লোকজন নিয়ে জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে দিনের আলোতে ও রাতের আধাঁরে টাকার বিনিময় বুঙ্গার মাল পাচার করছে।

 

রুবেল এর বাহিনীর পাহারায় শীর্ষ চোরাকারবারীদের বড় বড় গরুর চালান দেশে আসছে। সাথে রয়েছে মাদকের চালান। মটরশুঁটির বদলে ভারতে যাচ্ছে দেশী সুপারী। রুবেল কিন্ত রাজার বেশে তার রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে। সে কোন কিছুর পরোয়া করছে না। কারণ, পুলিশ ও বিজিবি দুইটিই তার হাতে। তাদের সখ্যতা থাকার কারণে কারো সাধ্য নেই রুবেলকে ঠেকানোর।

 

কিন্তু রহস্যজনক কারণে স্থানীয় প্রশাসন সীমান্তের রাজা চোরাচালান চক্রের গডফাদার রুবেল এর বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় সে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সীমান্ত এলাকায় রুবেল ত্রাসের রামরাজত্ব কায়েম করছে।

 

একটি বিশেষ সূত্র জানায়, চোরাচালানের গডফাদার রুবেলের জৈন্তাপুরে রয়েছে দুইটি বিলাশ বহুল বাড়ি ও গাড়ি। আবার নতুন একটি বিলাশ বহুল বাড়ি নির্মাণের কাজ চলতেছে। রয়েছে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি। সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানকারীদের নেতৃত্ব দিয়ে রুবেল এখন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার কোন নজর নেই রুবেলের উপর। তার এমন কান্ড দেখে অবাক উপজেলাবাসী। চোরাচালান চক্রের গডফাদার রুবেল এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী বলে মনে করছেন উপজেলার সচেতন মহল।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর