ধর্মঘটে অচল সিলেট : জনদুর্ভোগ চরমে

প্রকাশিত: ৮:১৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০২০

ধর্মঘটে অচল সিলেট : জনদুর্ভোগ চরমে

আব্দুল খালিক
মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে সিলেট বিভাগ জুড়ে শুরু হয় টানা তিন দিনের পরিবহন ধর্মঘট। অ্যাম্বুলেন্স, বিদেশ যাত্রী, ফায়ার সার্ভিস, সংবাদপত্র ও জরুরী ওষুধ বহনকারী গাড়ি ব্যতীত সব ধরনের পণ্য পরিবহন ও গণপরিবহন এই ধর্মঘেটর আওতায় ছিল। ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়ে গোটা সিলেট। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে জনভোগান্তি। এর আগে গ্রিল লাগানোর সিদ্ধান্ত বাতিলসহ ৬ দফা দাবিতে সোমবার থেকে ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি চালিয়ে যান অটোরিকশা চালকরা। তবে তাদের এই কর্মসূচিতে জনজীবনে তেমন একটা প্রভাব পড়েনি। বাস, লেগুনা ও অটো টেম্পুর চলাচল থাকায় যাত্রীরা নিজ নিজ গন্তব্যে পৌছতে পেরেছেন অনায়াসে।

 

এদিকে অটোরিকশা চালকদের কর্মসূচি চলাকালীন সময়ে সিলেটের সকল পাথর কোয়ারী খুলে দেওয়ার দাবিতে ও ১০ লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জিবিকা রক্ষার্থে মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে টানা ৭২ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। তাদের এ দাবিকে সমর্থন জানিয়ে সব ধরণের গণ পরিবহন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন জেলা বাস মালিক সমিতিসহ গণপরিবহন নেতারা। সেই সাথে বিভাগীয় পরিবহন নেতারাও এই আন্দোলনের সাথে একাত্মতা পোষন করেছেন বলে সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ থেকে সোমবার এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

 

মঙ্গলবার সকাল থেকেই সিলেটের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, শহরের মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে ধর্মঘট পালন করছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। ধর্মঘটের কারণে সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো যানবাহন। বন্ধ থাকে সব ধরনের গণপরিবহনও। নগরেও প্রাইভেট কিছু যানবাহন চলাচল করলেও তাতে বাধা দেন পরিবহন শ্রমিকরা। যানবাহন শূন্য সড়ক-মহাসড়কের বিভিন্ন মোড়ে ছিলো তাদের ¯েøাগানমুখর অবস্থান। ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ এমন ¯েøাগান দিয়ে কর্মসূচিকে উজ্জীবিত করতেও দেখায় শ্রমিকদের।

 

অপরদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরের হুমাযুন রশিদ চত্বরে অবস্থান নেন পরিবহন নেতারা। এসময় সিলেট বিভাগীয় পরিবহন শ্রমিক ইনিয়নের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম আহমদ ফলিক মিয়া বলেন, সিলেটের সব পাথর কোয়ারী খুলে দেওয়ার দাবি নিয়ে পাথর ব্যবসায়ী ও পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, আমরা সেই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছি। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। তাতেও কাজ না হলে পরিবহন সেক্টরের নেতৃবৃন্দদের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তবে, ধর্মঘট চলাকালীন সময়ে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহŸান জানান তিনি।

 

বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক ঐক্য পরিষদ ও সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রæপের সভাপতি গোলাম হাদী ছয়ফুল তার বক্তব্যে বলেন, সিলেটে সব পাথর কোয়ারী খুলে দিতে আমরা সরকারের প্রতি বার বার অনুরোধ জানিয়েছি। কোনো কাজ হয়নি। ইতোমধ্যে আমরা কয়েক দফা মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছি। কিন্তু আমাদের দাবিকে বার বার উপেক্ষা করা হয়েছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে তাদের টনক নড়েনি। এমনকি সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আমাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে আমাদের ন্যায্য দাবি না মানায় জীবন-জীবিকা রক্ষার্থে সিলেটের সব পাথর কোয়ারী খুলে দেওয়ার দাবিতে আমরা বাধ্য হয়ে ধর্মঘট আহ্বান করেছি।

 

তিনি বলেন, এ ধর্মঘট নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলবে। এর মধ্যে আমাদের দাবির স্বপক্ষে কোনো সমাধান আসলে আমরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করবো। নয়তো পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

 

এরপর পরিবহন নেতাদের সাথে নিয়ে হুমাযুন রশিদ চত্বর থেকে একটি মশাল মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বাস টার্মিনাল ঘুরে কদমলীস্থ মুক্তিযোদ্ধা চত্বর অতিক্রম করে আবারও হুমাযুন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

 

এসময় বিভিন্ন জেলা শহর থেকে ছেড়ে আসা ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও দূরপাল্লার বাস হুমাযুন চত্বর আসলে তাদেরকে শহরে ঢুকতে দেয়নি আন্দোলনরত শ্রমিকরা। বেশ কিছু পণ্য ও গণপরিবহনকে অন্য রুটে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে, রাত ৮টা পর্যন্ত চত্বরে সিলেটগামী গাড়ির দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর