মাশরাফিকে বিদায়ি অর্ঘ্য

প্রকাশিত: 2:39 PM, March 7, 2020

মাশরাফিকে বিদায়ি অর্ঘ্য

ক্রীড়া কণ্ঠ : যার নেতৃত্বে বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন উচ্চতায় উঠেছে বাংলাদেশ, অধিনায়ক হিসেবে সেই মাশরাফি বিন মর্তুজার শেষ ম্যাচটা স্মরণীয় করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন সতীর্থরা, এটাই স্বাভাবিক। চেষ্টাটা চালাতে গিয়ে রেকর্ডের পর রেকর্ড হবে, এমনটা কজন ভেবেছিলেন? লিটন দাস আর তামিম ইকবাল যেভাবে অনুপ্রেরণাদায়ী অধিনায়ককে বিদায়ী অর্ঘ্য অর্পণ করলেন, সেটা তো রীতিমতো অভাবনীয়ই ছিল!

সিরিজের তৃতীয় এবং শেষ ম্যাচ, আগের দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় এই ম্যাচটা ছিল কেবলই আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার। অবশ্য জিম্বাবুয়েকে আরও একবার ধবলধোলাইয়ের লক্ষ্যও ছিল। তবে সেই লক্ষ্যগুলো আড়ালে পড়ে গিয়েছিল আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফির দেওয়া এই ঘোষণায়Ñ ‘জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটাই অধিনায়ক হিসেবে আমার শেষ ম্যাচ।’ সেই ম্যাচে দর্শকের ঢল নামল সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে, বৃষ্টি এসে বাদ সাধলÑ কিন্তু টস হেরে ব্যাটিং পাওয়া টিম বাংলাদেশ হয়ে উঠল অপ্রতিরোধ্য।

আসলে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিলেন লিটন আর তামিম। ৪৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচেও তাই স্বাগতিকদের ঝুলিতে জমা ৩২২ রান। আগের ম্যাচেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ দলীয় পুঁজির যে রেকর্ডটা গড়েছিল বাংলাদেশ, সেটারই পুনরাবৃত্তি হলো। আগের ম্যাচের মতো এদিনও সেঞ্চুরি হাঁকালেন তামিম। মাঝে এক ম্যাচ বিরতি দিয়ে সেঞ্চুরি তুলে নিলেন লিটনও। ওয়ানডেতে এই প্রথম সেঞ্চুরি পেলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনারই।

লিটন শুধু ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলেই ক্ষান্ত দেননি, ১৭৬ রান করে গড়েছেন ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস খেলার রেকর্ড। আগের ম্যাচেই তামিমের করা ১৫৮ রানকে পেছনে ফেলেছেন এই ডানহাতি। ক্যারিয়ারের ১৩তম সেঞ্চুরি তুলে তামিম এদিন অপরাজিত রইলেন ১২৮ রানে। কার্ল মুম্বার বলে সিকান্দার রাজাকে যখন ক্যাচ দেন লিটন, বাংলাদেশের ইনিংসে তখন মোটে ১৩ বল বাকি ছিল। বৃষ্টি শেষে খেলা শুরুর পর যেভাবে ব্যাট চালাচ্ছিলেন, শেষতক টিকে থাকতে পারলে ডাবল সেঞ্চুরিটাও হয়তো পেয়ে যেতেন।

লিটন ডাবল সেঞ্চুরি না পেলেও ওয়ানডেতে প্রথম ৩০০ রানের জুটিটা কিন্তু ঠিকই পেয়ে যেত বাংলাদেশ। সেটা আর হয়নি, ২৯২ রানে ভেঙেছে তামিম-লিটন জুটি। ওয়ানডের ইতিহাসেই এর থেকে বড় জুটি আছে আর মোটে পাঁচটি। জুটিতে এটাই বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ। আগের সর্বোচ্চ ছিল সাকিব আল হাসান আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। কার্ডিফে ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে স্মরণীয় সেই জয়ের দিনে ২২৪ রানের জুটি গড়েছিলেন তারা। সেটা ছিল পঞ্চম উইকেট জুটিতে। উদ্বোধনী জুটিতে এতদিন সর্বোচ্চ ছিল শাহরিয়ার হোসেন আর মেহরাব হোসেনের, এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ১৭০ রান তুলেছিলেন দুই টাইগার ওপেনার। এদিন তাদের ছাপিয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে তামিম আর লিটন জুটি।

এদিন দুই ওপেনার যেভাবে ব্যাট চালিয়েছেন, তাদের সামনে জিম্বাবুয়ের বোলারদের বড্ড অসহায়ই ঠেকেছে। শুরুতে তামিম ছিলেন হিসেবি, লিটন খেলে গেছেন সাবলীলভাবে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন এই ডানহাতি, তামিমও বেরিয়ে আসেন খোলস ছেড়ে। বৃষ্টির বাগড়ায় যখন খেলা বন্ধ হয়, ৩৩.২ ওভারে বাংলাদেশের রান তখন বিনা উইকেটে ১৮২। ততক্ষণে হয়ে গেছে লিটনের সেঞ্চুরি, ভেঙে গেছে উদ্বোধনী জুটির সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও। বৃষ্টির পর খেলা শুরু হতেই লিটন মাতলেন রেকর্ড ভাঙার খেলায়। অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে তামিম দেখলেন তার রেকর্ড ভেঙে যাওয়া। তাল মিলিয়ে নিজেও এগিয়ে গেলেন।

৭টি চার আর ৬টি ছক্কায় ১০৯ বলে ১২৮ রানে অপরাজিত রইলেন তামিম। লিটন রেকর্ড গড়া ১৭৬ রানের ইনিংসটি খেলেছেন ১৪৩ বলে, ১৬টি চার আর ৮টি ছক্কায়। শেষদিকে মাহমুদউল্লাহ (৪ বলে ৩ রান) আর অভিষিক্ত আফিফ হোসেন (৪ বলে ৭) লিটন-তামিমের মতো আগ্রাসী হতে পারলে দলের সংগ্রহটা নিঃসন্দেহে আরও বড় হতো, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দলীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটা টানা তিন ম্যাচে নতুন করে লেখা হতো। তা না হলেও অবশ্য আক্ষেপ নেই স্বাগতিক শিবিরে। বৃষ্টি আইনে জিম্বাবুয়ের জয়ের লক্ষ্যটা যে হয়েছে পর্বতসম, ৩৪২ রান। সেই লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে শুরু থেকেই জিম্বাবুয়ে ছিল দিকভ্রান্ত পথিকের মতো!

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর