মোবাইল প্রযুক্তির অপপ্রয়োগে অসংক্রামক ডায়াবেটিস

প্রকাশিত: 8:50 PM, November 9, 2019

মোবাইল প্রযুক্তির অপপ্রয়োগে অসংক্রামক ডায়াবেটিস

ড. মোঃ রহিমুল্যাহ মিঞা : ডায়াবেটিস একটি অগ্ন্যাশয় সমস্যাজনিত রোগ, যার প্রাদুর্ভাব দিনদিন সাংঘাতিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এ রোগের প্রভাব মানবসমাজে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, যা অন্যকোন দশকে পৃথিবীর ইতিহাসে ইহা এত বৃদ্ধি পায়নি। তার প্রধান কারণ টি হচ্ছে মোবাইল প্রযুক্তির অপব্যবহার। মোবাই ফোন শরীরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিনভাবে জড়িত, যা ছাড়া আমাদের চলেই না। ডায়াবেটিস একটি অসংক্রামক রোগ। এই রোগের কারণে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, বিশেষ করে রেডিও ফ্রিকুয়েন্সির প্রভাবে ইহা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেমন- শরীরে নিয়মিত বেদনাদায়ক অবস্থা-অস্বস্তি লাগা, অপরিকল্পিত খাদ্যাভাস, অবৈজ্ঞানিক জীবন ব্যবস্থা, যকৃতের অস্বাভাবিক কার্যকারিতা, অগ্ন্যাশয় সহজে কাজ করে না, অস্বাভাবিক শারীরিক স্থ’ূলতা এবং মোটা, জেনেটিক সমস্যা এবং অস্বাভাবিক ব্লাড কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ এবং শারীরিক দুর্বলতা, পরিবারের পূর্বপুরুষ হতে ডায়াবেটিসের প্রভাব বহন করে, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির অত্যধিক অপব্যবহার, অস্বাভাবিক তৃষ্ণা এবং ক্ষুধার্ত লাগা, হঠাৎ প্রসাবের চাপ লাগা এবং তৎক্ষণাৎ প্রসাবের রঙ মেঘাচ্ছন্ন সদৃশ হওয়া।বিভিন্ন গবেষকের মতে-ডায়াবেটিসের কারণগুলো হচ্ছেঃ (১) রেডিও ফ্রিকুয়েন্সির অপপ্রয়োগ, (২)স্থূলতা জনিত, (৩)জেনেটিক জনিত, (৪)বেদনাজনিত, (৫)অগ্ন্যাশয়ের অস্বাভাবিকতা, (৬)যকৃতের অস্বাভাবিকতা, (৭)অনিয়মিত খাদ্যাভাস ও জীবন ব্যবস্থা।

আপনি যখন যেখানে অবস্থান করেন, সেখানেই আপনার ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পেতে পারে রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে। আপনার এই অবস্থানটা বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে জানা যায়। এ ব্যাপারে আমরা অনেকেই অবগত নই। কারণ, আমরা অনেকেই রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি তথা তরঙ্গমালার প্রভাব সম্পর্কে জানিনা। এই তরঙ্গমালা আমাদের উপকার-অপকার দুটিই করে, তা নির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যে থেকে। আমাদের শরীরে নির্দিষ্ট তরঙ্গমালা উৎপন্ন হয় বলে আমাদের শরীরে স্বাভাবিক পেসাব-পায়খানা হয়। তবে এই তরঙ্গমালার পরিধি ভিন্ন হলে তা নেগেটিভ প্রভাব পড়ে আমাদের শরীরের উপর।ধরুন, আপনি এখন বেডরুমে অবস্থান করছেন, এরপর আপনি যাচ্ছেন আম্বরখানা, সেখান থেকে দরগাগেইট, তারপর জিন্দাবাজার এবং শেষে বন্দরবাজার অফিসে। আপনার সঙ্গে মোবাইলফোন থাকার কারনে, এসব জায়গায় আপনার অবস্থান নেটওয়ার্ক গ্রাফের মাধ্যমে জানা যায়। কারণ আপনার সঙ্গে মোবাইল ফোন আছে। এই পাঁচ জায়গায় আপনি পেসাব লাগার অনুভব করতে পারেন। এসব জায়গায় কমপক্ষে পাঁচজন ব্যক্তি আছেন, যারা রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি নিয়ে টেলিমেটিক্সের মাধ্যমে মানুষেরপ্রতি তরঙ্গমালার অপব্যবহার করে। কাজেই, যেখানেই পেসাব লাগার অনুভব করবেন, সেখান থেকে খুব দ্রুত বর্তমান অবস্থানটি পরিবর্তন করবেন। এ ক্ষেত্রে আপনি ভাববেন না যে, আপনার ডায়াবেটিস হয়েছে। এটি হয়েছে অতিরিক্ত রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি প্রয়োগ করার প্রভাবে। ঠিক আমাদের শরীরে রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি না থাকলে পেসাব পায়খানা হবে না। রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি উৎপন্ন হয় বলে আমাদের পেসাব-পায়খানা লাগে, কিন্তু পরকালে জান্নাতীদের রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি উৎপন্ন হবেনা, ফলে তাদের এসব হবে না। ইহা আল্লাতা’য়ালার নি’য়ামাত। আর দুনিয়ার জীবনে, একটি হ্যাকার গ্রুপ এসব অপকর্মে জড়িত। আমরা সবাই দো’য়া করি আল্লাহ তা’য়ালা যেন তাদেরকে হেদায়াত নসীব করুন। তবে আমাদেরকে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। যেমনঃ বেডরুমে থাকাকালীন যদি কারও হঠাৎ প্রচুর পেসাবের চাপ লাগে, তবে তাকে সঙ্গে সঙ্গে বাথরুমে গিয়ে তা সম্পন্ন করা উচিৎ। কিন্তু পেসাবের গতি যদি ভিন্ন হয় অর্থাৎ ধীরে ধীরে হয়, তখন ভাবতে হবে যে উক্ত বাথরুম ডিজিটাল পয়জনিং তথা রেডিয়েশন পলুশন হয়েছে। আর উক্ত ব্যক্তি দুষিত জায়গায় অবস্থানের জন্য বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে, যেমনঃ পেসাব-পায়খানা একসঙ্গে হবে, পেসাবে জ্বালা-যন্ত্রণা করবে, ঘন ঘন পেসাব লাগবে, নির্দিষ্ট জায়গায় গেলে পেসাব লাগবে।এসব কিছু জানার আগে আমি বিভিন্ন পরীক্ষা করি কুকুর-বিড়ালের উপর। আমি গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেমের (জিপিএস) সাথে স্থানাঙ্ক সনাক্তকরণের মাধ্যমে অগ্ন্যাশয় এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গগুলির দিকে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে কুকুর এবং বিড়ালদের উপর আমার পরীক্ষা চলছিল। প্রথমত মানব / প্রাণীর দেহের অবস্থানটি জিপিএস এবং গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেমস (জিএনএসএস) সহ দ্রাঘিমাংশ, অক্ষাংশ এবং উপবৃত্তাকার উচ্চতা চিহ্নিত করে টেলিমেটিক্স, প্রযুক্তি-রাডার এবং প্রযুক্তি-লেজারের মতো আরএফআইডি (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন) প্রযুক্তি ব্যবহার করেছি। তারপরে জিএনএসএস দ্বারা চিহ্নিত ব্যক্তি বা অবজেক্ট স্ক্যান করে এবং গেটওয়েতে নোড বা পয়েন্টার প্রবেশের বা ওয়্যারলেস সেন্সর নেটওয়ার্কগুলি প্রসারিত করে বা বিদ্যমান অঙ্গের প্রয়োজনীয়তা অনুসারে নেট বিতরণ করা হয়েছে। যখন ওয়ারলেস সেন্সর নেটওয়ার্ক নির্দিষ্ট অঙ্গে প্রবেশ করে, তখন অক্সিজেন সঞ্চালনের অভাবে তাৎক্ষণিকভাবে এই অঙ্গটি নিষ্ক্রিয় হয়, ইতিমধ্যে অগ্ন্যাশয়েতরঙ্গমালা অপপ্রয়োগে উক্ত অঙ্গটিতে অক্সিজেন চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়, ফলে আস্তে আস্তে অগ্ন্যাশয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবং ডায়াবেটিসের সৃষ্টি হয়। অপব্যবহৃত তরঙ্গমালায় তড়িৎ চুম্বকীয় কণিকা থাকে, যা অক্সিজেন তথা ইলেক্ট্রন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে।

আমাদের দেশে সম্প্রতি ডায়াবেটিস একটি বিপজ্জনক রোগ, যা দিন দিন ব্যাপকহারে বেড়ে যাচ্ছে। অনেকে এই রোগে ভুগছেন। এভাবে প্রতি বছর অনেক লোক মারা যাচ্ছে, যা আমাকে চিন্তায় ফেলেছে। আমার দৃষ্টিভঙ্গির কারণে, আমি বাংলাদেশের নাগরিক এবং পাশাপাশি একজন মুসলমানের দায়িত্ব হিসাবে প্রতিবেশীদের প্রতি আমার হক বা অবদান আছে। সম্প্রতি, আমি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া সারাওয়াক -ইউনিমাস থেকে পিএইচডি ডিগ্রি শেষ করে দেশে ফিরেছি। এই পিএইচডি ডিগ্রি কেবল এটি আমার পকেটে হেফাজতে রাখার জন্য নয়, এটি বিশ্বের সমগ্র মানুষের কল্যাণে। উক্ত ডিগ্রি সম্পন্ন করার জন্য আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ থেকে পিএইচডি ফেলোশিপ এবং ইউনিমাস থেকে জামালাহ স্কলারশীপ পেয়েছি। এজন্য আমি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সংস্থা দুটিকে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই। তাই আমার লেখাটি সারা দেশ বা বিশ্বের অনেকের পক্ষে কাজে লাগতে পারে, ইনশাআল্লাহ।

আমার পরীক্ষাটি দুটি প্রাণী যথা কুকুর এবং বিড়ালের উপর বিভিন্ন ধাপে চলে। পরীক্ষাগুলির সময়, আমি টেলিমেটিক্সের মাধ্যমে বিভিন্ন দূরত্ব এবং উচ্চতায় বিভিন্ন রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করি। পরীক্ষার আগে আমি প্রত্যেকটি প্রণীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং নমুনা প্রাণীগুলির রোগমুক্ত জানার জন্য পৃথক পৃথক বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই), শরীরের তাপমাত্রা, শ্বাস প্রশ্বাসের হার এবং রক্তচাপ পরীক্ষা করেছি। এব্যাপারে ডাক্তার, নাসর্, ইন্টার্ন মেডিক্যাল ছাত্র-ছাত্রীরা এই পরীক্ষণে সহযোগিতা করেছে। একটি গতিশীল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে, আমি এই সিদ্ধান্তে এসেছি যে অন্ধকার পরিবেশে কুকুরটি (মোটা প্রাণি বা মানুষ) ৭ মিনিটে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল এবং ১২ মিনিটে বিড়াল (ক্ষীণ প্রাণি বা মানুষ) অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এবং আলোতে প্রায়ই দ্বিগুণ সময়ে প্রাণীগুলো অসুস্থ ছিল। তবে এই প্রাণীগুলিকে অসুস্থ করতে অন্ধকার, আলোর চেয়ে বেশি সংবেদনশীল । পরীক্ষালব্দ সময় এবং ফ্রিকুয়েন্সি যদি আরও বাড়িয়ে দেওয়া যেতো অথবা তা দ্বিগুণ করলে এর প্রভাব নেতিবাচক হতো। যা আমার গবেষণা নিবন্ধে এবং ইউটিউবে তুলে ধরেছি। ইউটিউবের অনুসন্ধানে আমার নাম দিলে চলে আসবে। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং রেফার্ড জার্নালে ৭ টি গবেষণাপত্র, ২০০ টি সেমিনার অধিবেশন, ৮ টি সম্মেলন, ২০ টি মসজিদে আলোচনা সভা পরিচালনা করে এবং ৭৫০০ টি লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এই কর্মক্ষমতা সেমিনার / সম্মেলন বা সচেতনতা আলাপের মাধ্যমে আয়োজিত, যা সরকারী, বেসরকারী ও বেসরকারী সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেমন: (১) জেলা প্রশাসক অফিস-সিলেট জেলা, (২) জেলা প্রশাসক অফিস-সুনামগঞ্জ জেলা, (৩) জেলা প্রশাসক অফিস- বগুড়া জেলা, (৪) সিলেট সিটি কর্পোরেশন, (৫) মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-টাঙ্গাইল, (৬) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (৭) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-উপশহর-সিলেট, (৮) সিলেট ক্যাডেট কলেজ, (৯) সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ, এবং (১০) পারভিউ মেডিক্যাল কলেজ-সিলেট, (১১) বক্ষ্যাধি হাসপাতাল, সিলেট সহ আরও ১৭০টি প্রতিষ্ঠানে। এই সেমিনারগুলি, লিফলেট বিতরণ এবং সচেতনতা আলোচনা থেকে, প্রায় ৯৬% উত্তরদাতারা প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ধর্মীয় স্থান, আবাসিক এলাকায় এবং গতিশীল সুরক্ষা ব্যবস্থার সাথে ব্যক্তিগত অঞ্চল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ ইউনিট (প্যানসিইউ) অঞ্চল স্থাপনের জন্য মতামত ব্যক্ত করেছেন। যদি আমরা আমাদের ওয়্যারলেস ডিভাইসগুলি বিশেষত মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, ওয়াই-ফাই, প্লাজমা টিভি, এফএম রেডিও এবং সম্পর্কিত ডিভাইসগুলি ৬ ফুটের বেশি ব্যাসার্ধের মধ্যে ব্যবহার করি । সাইবার হ্যাকাররা এসব অবৈধ কাজে জড়িত, তা আমি এই গবেষণাটি চিহ্নিত করেছি।আমার পরীক্ষিত প্রাণীগুলি যখন রেডিও টেলিমেটিক্স্র দ্বারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে তখন তারা মারা যেতে চলেছে। এই রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি মানব দেহে নোড হিসাবে বিতরণ করে বা বৈদ্যুতিক চৌম্বকীয় বর্ণালী (ইএমএস) এর মতো বিতরণযুক্ত ওয়্যারলেস সেন্সর নেটওয়ার্ক। এই ইএমএস অক্সিজেন সরবরাহের সময় সংযোগকারী টিস্যু বাধা বা বাধা প্রভাবিত করে। যদি আমি অন্ধকারে ৭ মিনিটের পরিবর্তে অতিরিক্ত উচ্চ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিটি প্রয়োগ করি তবে এই নমুনাপ্রাপ্ত প্রাণিগুলি তৎক্ষণাৎ মারা যেতে পারত। অধিকন্তু, অসুস্থ প্রাণীরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছিল, যেমন অস্বস্তি, পড়ে যাওয়া এবং খাওয়ানোর সময় অরুচি, শ্বাসকষ্টের সময় অক্সিজেন চলাচল বন্ধ করা, বুকের ব্যথা এবং পেটে ব্যথা, প্রগ্রাবের সাথে পাতলা পায়খানার সমস্যা, পিঠে ব্যথা এবং আরও কিছু অযাচিত পক্ষাঘাতগ্রস্থ লক্ষণ দেখা যায়। আসলে, এই সমস্যার প্রধান কারণ বৈদ্যুতিক চৌম্বকীয় বর্ণালী শক্তির মাধ্যমে অক্সিজেন প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা।

আমার পিএইচডি গবেষণায় যে সমস্ত প্রাণীর অসুস্থতার লক্ষণগুলি দেখাদিয়েছিল তাদের অগ্ন্যাশয়ে, ঠিক তাদের মতোই ডায়াবেটিসরোগীদের মধ্যে একই লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। আমার অনুরোধটি জিপিএস সহ আরএফআইডি ডিটেক্টর দ্বারা রোগীর স্থানাঙ্কগুলির রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি পরীক্ষা করার জন্য, যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাদের দেহে সত্যিকারের রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির চাপ অস্বাভাবিক ছিল কিনা? বা এটি রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অপব্যবহারের কারণে? এটি রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেক্টরের মাধ্যমে জানা যায়। দয়া করে মনে রাখা জরুরী, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি পরীক্ষা করার দরকার হলে ল্যাব টেকনিশিয়ান / বিশেষজ্ঞের ৬ ফুটের মধ্যে কোনও মোবাইল ফোন বা প্রাসঙ্গিক সেন্সর ডিভাইস, কোনও ওয়াই-ফাই, ওয়্যারলেস ডিভাইস বা এমনকি ইন্টারনেট সংযোগ থাকবে না। আরএফআইডি পরীক্ষাটি সংলগ্ন জায়গার রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিটির সাথে তুলনা করতে পারে। তুলনামূলক ফ্রিকোয়েন্সি যদি ওঠানামা করে তবে রেডিও ফ্রিকুয়েন্সির অপব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাছাড়া উপরোল্লিখিত ডিভাইসগুলির কারণে, আরএফআইডি চিহ্নিত প্রতিবেদনগুলি পরিবর্তন করা যেতে পারে। পরীক্ষিত ডেটা বিশ্লেষণ করার সময় কোনও শব্দই নির্দেশ করা যাবে না; এটি রেকর্ড এবং সম্পাদনা করা যেতে পারে। যেখানে ডায়াবেটিস রোগীরা ঘুমান বা বিশ্রাম করেন, তাদের প্যানসিইউ বা একটি নেটওয়ার্কবিহীন লোকেশনে থাকা দরকার। তেমনিভাবে, যদি ইউরিন পরীক্ষার পরে কোনও উচ্চ স্কেল ধরা না পড়ে , তবে আমাদের মনেরাখা উচিত যে আমাদের নিজের মোবাইল বিছানায়, খাবারের টেবিল, পড়ার টেবিল, অফিস টেবিল, এবং বাথরুম এবং গল্প করার জায়গাগুলি থেকে ৬ ফুটের বেশি দূরে থাকা উচিত । আপনাদের মোবাইল ফোনটি কখনই বিছানায় বালিশের নীচে রাখবেন না-অ্যালার্ম বা বিপদাশঙ্কা হিসাবে; পাশাপাশি শোবার ঘরে ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস সর্বদা নিষিদ্ধ করা উচিত। বিভিন্নভাবে মানুষের মধ্যে হৃদরোগ, কিডনি রোগ, ¯œায়ুবিক রোগ, চক্ষুরোগ, গর্ভাবস্থায় জটিলতা, মৌখিক জটিলতাসহ অনেক রোগের দেখা দেয় রেডিও ফ্রিকুয়েন্সির অপব্যবহারের কারণে। তাই ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে আমাদের আধুনিক ওয়্যারলেস সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্ক হওয়া দরকার। তাছাড়া, খাদ্যাভাসের ক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে, যেমনঃ রাতের খাবার রাত ৯ টার মধ্যেই শেষ করা এবং খাওয়া শেষে সঙ্গে সঙ্গে বিছানায় না ঘুমানো, কমপক্ষে ৩৬ মিনিট পরে ঘুমা। ঘুমে যাওয়ার আগে এককাপ তিতা করল্লার জুস খাওয়া, ডান কাঁধে ঘুমানো এবং বিছানায় কখনও মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না।

আপনার সঙ্গে মোবাইল ফোনটি না থাকলেও আপনি হঠাৎ অসুস্থ হতে পারেন। যেমন আপনি কোথাও দাড়িয়ে গাড়ি বা বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। আপনার অবস্থান থেকে ৫০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন হ্যাকার্রা আপনার অগ্ন্যাশয়ে রিমোট মোবাইল ফোনের মাধ্যমে উচ্চ রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি প্রয়োগ করল। আপনি হঠাৎ পেসাব লাগা অনুভব করার সঙ্গে সঙ্গে তৎক্ষণাত আপনার অবস্থান অবশ্যই পরিবর্তন করুন। অন্যথায় আপনি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। এব্যাপারে আপনাকে আরও সচেতন হতে হবে। যেমনঃ (১) আপনি যে বিছানায় ঘুমাবেন সে বিছানায় কখনও মোবাইল ফোন, ল্যাপ্টপ জাতীয় যন্ত্র ব্যবহার করা যাবেনা, (২) আপনি যে বিছানায় ঘুমাবেন, সেখানে কখনও হাঁচি, কাশি, হাই বা এ ধরনের কোন মুখের বাতাসের গতি বেশি হলে দ্রুত বিছানা ত্যাগ করে অন্য জায়গায় তা সম্মপন্ন করুন, (৩) আপনার শরীর থেকে দুষিত বাতাস বিছানায় নির্গত না করে দ্রুত অন্য জায়গায় তা সম্মপন্ন করুন, (৪) আপনি যখন ঘুম যাবেন, তখন আর কোন কথা বা শব্দ করা যাবেনা । যদি প্রয়োজন হয় তবে সংকেত ব্যবহার করুন, (৫) বিছানায় ঘুমানোর পর হঠাৎ প্রেসাব বা পায়খানা লাগলে দ্রুত বিছানা ত্যাগ করে অন্যত্র যান। দশ/বারোবার শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার পরে, যদি আগের অবস্থায় থাকেন, তবে বাথরুমে যান, অন্যথায় যাবেন না। আমার গবেষণায় এও জানা যায় যে, মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষ এবং প্রাণীকূলের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটানো যায়। আর সেটা হচ্ছে হাট্র্ অ্যাটাক ও শ্বাসনালী ব্লক করে করানো যায়। কাজেই, আমার মোবাইল ফোনটি আমি ব্যবহার করবো এবং এর সিকিউরিটি সিস্টেম সম্বন্ধে আমি অবশ্যই সচেতন হবো। এক্ষেত্রে মোবাইল কোম্পানী বা সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা থাকলে তা আরও সাবলীল ও তাৎপর্যপূর্ণ হবে। পরিশেষে, মানবদেহে রেডিও ফ্রিকুয়েন্সির প্রভাব সম্পর্কে সামাজিক মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং অন্যান্যসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা উচিত। গবেষণায় বিভিন্ন মোবাইলফোন সংস্থা এবং বিভাগীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে মিলকরণের জন্য জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ ২০৩০ সম্পর্কিত জাতীয় কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা অনুসারে সমন্বিতভাবে কাজ উচিৎ।

লেখকের প্রোফাইল: ডঃ মোঃ রহিমুল্যাহ মিঞা, পিএইচডি (প্রযুক্তিগত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা), ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া সারাওয়াক, সামারাহান, সারাওয়াক, মালয়েশিয়া। এম.ফিল (তাত্তি¦ক) সহ এমএসসি এবং বিএসসি (সম্মান) ফরেস্ট্রি (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ), স্নাতকোত্তর সহ ব্যাচেলর অফ এডুকেশন (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ)। এ ছাড়া আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সহ স্নাতক এবং কম্পিউটার সায়েন্সে ডিপ্লোমা সহ ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমে এমএসসি ডিগ্রী অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি সিলেটেরলিডিং ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন শিক্ষক। বর্তমানে সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষা সমন্বয়কারী, মর্নিংটন কলেজ অব বিজ্নেস, আম্বোরখানা, সিলেট, বাংলাদেশ।

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর