সাংবাদিক চৌধুরী মম ও কাউন্সিলর সেলিমের ডিজিটাল আইনী লড়াই

প্রকাশিত: ৫:৩৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৭, ২০২০

সাংবাদিক চৌধুরী মম ও কাউন্সিলর সেলিমের ডিজিটাল আইনী লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটে সাংবাদিক চৌধুরী মম বনাম কাউন্সিলর সেলিমের মধ্যে শুরু হয়েছে ডিজিটাল আইনী লড়াই। পক্ষে-বিপক্ষে দায়ের করা হয়েছে মামলা। চৌধুরী মুমতাজ আহমদ মম-এর পক্ষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট ছালেহ আহমদ সেলিম সহ ৫জনকে আসামি করা হয়েছে এবং কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ সেলিমের মামলায় সাংবাদিক চৌধুরী মুমতাজ আহমদ মম সহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

উভয় পক্ষই এখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় (আইনত) পলাতক রয়েছেন। যদিও তারা প্রকাশ্যে নিজেদের কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

জানা গেছে, গত ২৯ নভেম্বর ‘দৈনিক একাত্তরের কথা’ পত্রিকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিলেট মহানগর আওয়ামীগ নেতা অ্যাডভোকেট ছালেহ আহমদ সেলিমের বিরুদ্ধে ‘ভয়ে চুপ উপশহর’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ সেলিম ও তার সমর্থক অন্য ৪জন তাদের সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকে ‘দৈনিক একাত্তরের কথা’ সম্পাদক চৌধুুরী মুমতাজ আহমদ মম ও একই পত্রিকার প্রকাশক নজরুল ইসলাম বাবুলের বিরুদ্ধে প্রচারনা চালান। তারা বিভিন্ন সময়ে দৈনিক একাত্তরের কথা সম্পাদক চৌধুরী মুমতাজ আহমদ মম ও পত্রিকার প্রকাশক নজরুল ইসলাম বাবুলের ‘পরনারী আসক্তি’র নানা তথ্য তুলে ধরেন। তারা তাদের সোস্যাল মিডিয়া ফেইসবুকে একযোগে চৌধুুরী মুমতাজ আহমদ মম ও নজরুল ইসলাম বাবুলের বিভিন্ন সময়ে একাধিক ‘পরনারী’র সাথে অশ্লীল ফোনালাপ, অশ্লীল অডিও রেকর্ড, অশ্লীল ভিজ্যুয়াল চিত্র এবং অশ্লীল ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে তা ভাইরাল করে দেন। এতে চৌধুরী মম ও বাবুল দু’জনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত নৈতিক চরিত্রের প্রকাশ ঘটিয়ে তাদের পারিবারিক মান-মর্যাদা চরমভাবে ক্ষুণœ এবং তাদের সামাজিভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। তাই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দৈনিক একাত্তরের কথা’ সম্পাদক চৌধুরী মুমতাজ আহমদ মম ও প্রকাশক নজরুল ইসলাম বাবুল। তারা নিজেদেরকে ভিকটিম বানিয়ে তাদের ব্যক্তিগত সহকারী রানা মিয়াকে দিয়ে বুধবার (২ ডিসেম্বর) রাতে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করান।

 

মামলার আসামিরা হলেন- সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ছালেহ আহমদ সেলিম, জকিগঞ্জের শাহবাগ মহিদপুর গ্রামের মৃত মাসুকুর রহমানের ছেলে হুমায়ুন রশীদ সুমন ওরফে এইচ আর সুমন, সিলেট নগরের উপশহর এফ বøকের ৪নং রোডের কামাল উদ্দিন, জকিগঞ্জের হাসিতলা সোনাসার গ্রমের মৃত কবির মিয়ার ছেলে কাজী জুবায়ের আহমদ ও এহসান আহমদ নামের জনৈক ব্যক্তি।

 

মামলার খবরে তোলপাড় সৃষ্টি হলে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন সিসিক কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ সেলিম। তিনি শুক্রবার (৪ডিসেম্বর) রাতে এসএমপির শাহপরাণ(র.) থানায় দৈনিক একাত্তরের কথা সম্পাদক চৌধুরী মুমতাজ আহমদ মম-সহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পাল্টা একটি মামলা টুকে দেন। এরপর তিনি শনিবার (৫ডিসেম্বর) রাতে একটি লাইভ অনুষ্ঠানে দৈনিক একাত্তরের কথা সম্পাদক চৌধুরী মুমতাজ আহমদ মমকে ‘ধর্ষক সম্পাদক’ আখ্যায়িত করে তাঁর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলার ঘোষণা দেন।

 

ঘেষিত মামলায় চৌধুরী মুমতাজ আহমদ মম ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন- দৈনিক একাত্তরের কথা পত্রিকার প্রকাশক মো. নজরুল ইসলাম বাবুল, একই পত্রিকার প্রতিবেদক সাঈদ চৌধুরী টিপু, জিকরুল ইসলাম, পত্রিকার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মুহিত আলম মুহিত, পত্রিকার অনলাইন ভার্সনের এডমিন আহমদ মারুফসহ ১৮ জন ।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের মধ্যে ৭জন সাংবাদিক এবং পত্রিকা সংশ্লিষ্ট নন এমন আরো ১১জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

 

সিলেট কোতোয়ারি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সেলিম মিঞা মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান- কারো ব্যক্তিগত সম্পর্কের মানুষের সাথে অশ্লীল কথোপকথন, অশ্লীল অডিও রেকর্ড, অশ্লীল ভিজ্যুয়াল চিত্র ও অশ্লীল ভিডিও ফুটেজ সোস্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গুরুতর অপরাধ। তাই এই আইনে রানা মিয়ার মামলাটি রুজু করা হয়েছে। মামলার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

এসএমপি’র শাহ পরাণ(র.) থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী কাউন্সিলর সেলিম কর্তৃক মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত বলেন, বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার প্রাথমিক তথ্যের সত্যতা পেয়ে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে জানান তিনি।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর