সাপ ধরেই ইব্রাহিম আলীর ৫৯ বছর

প্রকাশিত: ১:৩১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

সাপ ধরেই ইব্রাহিম আলীর ৫৯ বছর

ডেস্ক প্রতিবেদন  : সাপের আচরণ বিধ্বংসী। সাপ দুর্র্ধষ এবং ভয়ংকর। সেই সাপ ঢুকেছে আপনার ঘরে কিংবা অফিসে। অথবা বাড়ির আশপাশে, ঝোঁপঝাড়ে কোথাও সাপের উপস্থিতি টের পেয়েছেন। কি করবেন, কাকে খুঁজবেন? ভয় এবং উৎকন্ঠার এমন সময় অবশ্যই উপযুক্ত একজন সর্পরাজ আপনার বেশী প্রয়োজন। তিনি হয়তো আপনাকে, আপনার পরিবারকে তাৎক্ষণিক বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারেন। অফিস, পরিবার, পরিবেশকে করতে পারেন শংকামুক্ত।
ইব্রাহিম আলী। হালকা পাতলা গায়ের গঠন। মাথায় অনেকটা ঝাকরা চুল। প্রায় ছয়ফুট লম্বা কালো চেহারার এই মানুষটি সবার পরিচিত। গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে। তিনি সাপ ধরেন। যে কোনো বিষাক্ত সাপ ধরতে পারেন। বিচিত্র এবং ভযংকর এই পেশায় যিনি পার করেছেন জীবনের উনষাট বছর। সাপের সাথে এখনো আছেন। তবে তিনি সাপ খেলা দেখান না কিংবা কখনো সাপকে মারেন না। তার মতে ‘সাপ ধরা একটা মানবসেবা, এই সেবাই আমার ধর্ম। কেউ সাপ ধরার জন্য ডাকলে আমি বিরক্ত নয় বরং খুশি হই।’
ইব্রাহিম আলীর বাবা তাহের আলী এবং মা কম্পানী বেগম। বাড়ি সুনামগঞ্জ সদরের সোনাপুরে হলেও মূল বাড়ি ভারতের আসামে। দুই ছেলে, চার মেয়ের জনক ইব্রাহিম আলীর বয়স যখন বারো তখন থেকে সাপের সঙ্গে তার সখ্যতা। বাবা ছিলেন ওঝা। ঝাড় ফুুঁক করতেন। বাবার হাত ধরেই তার এই পেশায় আসা। এখনো পুরনো পেশায় আছেন। খবর পেলেই ছুটে যান বাসা-বাড়ি অফিস আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রাম থেকে শহরে। সাপ ধরাই তার নেশা। সাপ ধরার পাশাপাশি সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীকেও সুস্থ করার কলা কৌশল তার রপ্ত রয়েছে বলে দুই বাংলার জনপ্রিয় এই সর্পরাজ দাবী করেন। তিনি বলেন ‘আসামের পানাম রাজ্য থেকে দীক্ষা নিয়েছি। সাপের জন্য মেঘালয়, মিজুরামসহ নানা স্থানে ভ্রমণ করেছি।’ বললেন ‘বিজ্ঞানের এ সময় অনেক আধুনিক চিকিৎসাও আছে। সাপে কামড় দিলে সাথে সাথে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবার সুযোগ তৈরী হয়েছে।’
ইব্রাহিম আলী জানান, ‘সিলেট বিভাগের এমন কোনো উপজেলা নেই যেখানে আমি সাপ ধরিনি। ভাইপার, কোবরা, মাছুয়ালাত, কিং গোখরা, গোমা, বাঁশপাতারি, পঙ্খীরাজ, দারাজ, দুধরাজ-কত ধরণের বিষাক্ত সাপ ধরেছি তার কোনো হিসেবে নেই। সাপ ধরার পর আমি সেগুলো ঘরে রাখিনা। আমার যে সকল অনুসারিরা সাপ খেলা দেখায় তাদের দিয়ে দেই। আমি কখনো সাপ বিক্রি করিনা। শুধু মানুষ বিপদে পড়লে উদ্ধার করার চেষ্টা করি। তার মতে, সাপ ধরতে তন্ত্রমন্ত্রের চেয়ে বেশী প্রয়োজন মনের সাহস এবং হাতের কৌশল। তিনি বলেন, ‘সাপ একটি নিরীহ প্রাণী। তাকে আঘাত না করলে কাউকে ছোবল দেয় না। তবে যে কাউকে সাপ না ধরার জন্য তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন। এতে ভযংকর বিপদ হতে পারে।’
ইব্রাহিম আলীর ইচ্ছে, জীবনের শেষ দিনগুলো যেন মানুষের সেবা করার সুযোগ পান। এ ক্ষেত্রে অবশ্য সরকারি কোনো সহযোগিতা পাননি কখনো। তার দুই ছেলের একজন মাইদুল। বিশ বছরের মাইদুলও বাবার মতো সাপ বশ করতে পারদর্শী। তিনিও খবর পেলে ছুটে যান সাপ ধরতে। ছবিতে ইব্রাহিম আলীর সাথে রয়েছে নাতি রাকিবুল হোসেন। সাপ ধরতে প্রায় সময় তার সহযাত্রী হয় পাচ বছরের এই শিশুটি। কখনো সাপ ধরার প্রয়োজনে মোবাইল ০১৭৪৭৩১৫৮৮১ নম্বরে ফোন দেওয়া যাবে ইব্রাহিম আলী।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর