সিলেট ট্রাক টার্মিনাল ইজাদারদের বিরুদ্ধে ব্যাপকহারে চাঁদাবাজির অভিযোগ : ক্ষোভ

প্রকাশিত: 12:55 AM, September 21, 2020

সিলেট ট্রাক টার্মিনাল ইজাদারদের বিরুদ্ধে ব্যাপকহারে চাঁদাবাজির অভিযোগ : ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদন : সিলেট ট্রাক টার্মিনাল ইজাদার পক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপকহারে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। টার্মিনালের বাইরে যেখানে সেখানে ট্রাক দাঁড় করিয়ে আদায় করা হচ্ছে টোল। সিলেট জেলা ট্রান্সপোর্ট মালিক গ্রুপ ইজারা গ্রহণের পর থেকে বেপরোয়ভাবে এ চাঁদাবাজি শুরু করেছে। ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নসহ সাধারণ শ্রমিকরা এ অভিযোগ করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অভিযোগে প্রকাশ, সিলেট নগরীকে যানজট মুক্ত রাখতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলাধীন সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের পারাইরচকে (২য় পৃষ্ঠায় দেখুন)
সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। বিগত ২০১৩ সালের ২৩শে নভেম্বর তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে ২০১৯ সালের ১৯শে অক্টোবর পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালের উদ্বোধন করেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে ৩৪ লাখ ৬ হাজার টাকায় এক বছরের জন্য ট্রাক টার্মিনালটির ইজারা গ্রহণ করে সিলেট জেলা ট্রান্সপোর্ট মালিক গ্রুপ। ইজারা গ্রহিতা সিলেট জেলা ট্রান্সপোর্ট মালিক গ্রুপ গত বছরের ১অক্টোবর সিলেট সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে ট্রাক টার্মিনালের দখল বুঝে নেয়। ইজারাদার পক্ষ টার্মিনালে দাঁড় করা প্রতিটি ট্রাক থেকে টোল ১৫০ টাকা হারে টোল আদায়ের পরিমান নির্ধারণ করা হয়েছে।
কিন্তু ইজাদার সিলেট জেলা ট্রান্সপোর্ট মালিক গ্রুপ এই নীতির কোন ধার ধারছে না। সিলেট মেট্রেপলিটন এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে টোল আদায়ের নামে শুরু করেছে চাঁদাবাজি। ইজাদার পক্ষের লোকজন যেখানে-সেখানে দাঁড় করা ট্রাক থেকে এমনকি চলন্ত ট্রাক থামিয়ে হলেও টোল আদায় করে নিচ্ছে।
দক্ষিণ সুমার কদমতলী, চন্ডিপুল, আলমপুর, পারাইচক, শিববাড়ি, উত্তর সুরমার মেন্দিবাগ সুবহানীঘাট, বাইপাস মোড়-সহ সব ক’টি এলাকায় সড়কের উপর রাখা ট্রাক ও চলন্ত ট্রাক থামিয়ে তারা আদায় করে নিচ্ছে টোল নামের চাঁদা। এছাড়াও অভারলোড বলে বিনা রসিদে ট্রাক প্রতি ৪/৫শ’ টাকা করেও আদায় করে থাকে।
ইজারা গ্রহিতা সিলেট জেলা ট্রান্সপোর্ট মালিক গ্রুপ গত ১লা অক্টোবর সিলেট সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে ট্রাক টার্মিনালের দায়িত্ব বুঝে নেন। ইজারা গ্র্রহণের পর থেকে শ্রমিকরা টার্মিনালে ট্র্রাক না রাখায় ইজারাদার পক্ষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, এ ধরনের অজুহাত সৃষ্টি করে রাস্তায় ট্রাক দাঁড় করিয়ে এ টাকা আদায় করে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, ট্রাক টার্মিনাল বুঝে নেয়ার ৬-৭ মাস পূর্ব হতেই জেলা ট্রান্সপোর্ট মালিক গ্রুপ সিটি করপোরেশনকে কোনো রাজস্ব না দিয়ে টার্মিনালের নাম ব্যবহার করে টার্মিনালের টোল আদায় শুরু করে এবং এখনো তা অব্যাহত রেখেছে। ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের মতে, ট্রান্সপোর্ট গ্রুপের কয়েকজন নেতা প্রভাব অতি দাপটের সাথে এমনটি করে চলেছেন।
ইজারাদার পক্ষের চাঁবাজরা নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা যেমন দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজার পয়েন্ট, পাররাইচক, সিলেট তামাবিল সড়কের জৈন্তাপুর সদর, ফতেহপুর, পরগনা বাজারসহ এ রোডের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করছে। ইজারাদার পক্ষের এহেন অবাধে চাঁদাবাজির কারণে ট্রাক মালিক ও শ্রমিকরা পন্য বহনে চরম অনীহা প্রকাশ করে। ফলে পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি-সহ নিত্যপাণ্যের দাম ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া টোল দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখায় যানজটের সৃষ্টি হয়ে থাকে।
তবে টার্মিনালের ইজারাদার সিলেট জেলা ট্রান্সপোর্ট মালিক গ্রুপ চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, অপেন টেন্ডারের মাদ্যমে স র্বাচ্চ দর দিয়ে আমাদের ইজারাকে মেনে নিতে পারছেন না ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা। তারা টার্মিনালে ট্রাক প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় ইজারাদার পক্ষ ক্ষতির সম্মূখীন হচ্ছে। তাদের এ প্রতিবন্ধকতার কারণে যত্রতত্র ট্রাক দাড়ঁ করিয়ে যানজট সৃষ্টি করা হয়ে থাকে।
টার্মিনালে ট্রাক প্রবেশে প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ অস্বীকার করে সিলেট জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ট্রাক টামির্নালের ইজারাদারের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। তবে ইজারার নামে টার্মিনালের বাইর থেকে টোল আদায়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে এবং এ আপত্তি বিধি সম্মসত বলেও জানান তিনি।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর