সিসিক’র অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট উন্নয়ন : নগরবাসীর নাভিশ্বাস

প্রকাশিত: ৫:৩২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০২০

সিসিক’র অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট উন্নয়ন : নগরবাসীর নাভিশ্বাস

খলিলুর রহমান
নগরে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) অবকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত রয়েছে। নগর উন্নয়নে ও একটি উন্নতমানের সিটি উপহার দিতে মেয়র আরিফুল হকের আন্তরিকতার কোন কমতি নেই। তবে এ সব উন্নয়ন কাজে অনিয়ম আত্মসাত ও গাফিলতিরও কোন কমতি নেই। ফলে অপরিকল্পিত উন্নয়নের যাতাকলে পড়ে সহায় সম্পদ, ভিটেমাটি এমনকি প্রাণও দিতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

 

আর উন্নয়নের ফায়দা লুটছে গুটি কয়েক স্বার্থান্বেষী লোকজন। নগরের রাস্তা স¤প্রসারণে মার্কেট, বিপনীবিতান, বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত, এমনকি মসজিদ-মাদরাসা স্কুল কলেজ ও উপাসনালয় ভেঙে হচ্ছে নেওয়া হচ্ছে ভ‚মি।

 

নগরের যানজট নিরসনেই রাস্তা স¤প্রসারণ ও উন্নয়ন কাজ। কিন্তু নিরসন হচ্ছে না যানজট। বরং আরো প্রকট হয়ে উঠছে যান ও জনজট। যেখানে রাস্তার ধারে বসানো স্ট্যান্ডে গাড়ি পার্কিং হতো ২০ টি, রাস্তা প্রশস্ত হওয়ায় ২০টির বদলে এখন পার্কিং করা হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০টি। যেখানে হকার বসতো ২০ জন, এখন বসছে ১শ’জন হকার ও ভাসমান ব্যবসায়ী। লাভবান হচ্ছে গাড়ির মালিক-শ্রমিক ও হকার নিয়ন্ত্রক চাঁদাবাজরা। দ্বিগুন থেকে তিনগুন বেড়ে চলেছে তাদের অবৈধ আয়।

 

সিলেট নগরে চলাচলরত স্বল্প পাল্লার যানবাহন যেমন সিএনজি অটোরিকশা, কার-লাইটেস, মাইক্রোবাস, ইমা-লেগুনা ক’টি চলবে বা কোন জায়গার এবং কোন জেলা ও সিটির গাড়ি চলবে সে ব্যাপারে কোন বিধি ও নির্দেশনা নেই। নেই কোন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ফলে সিলেট বিভাগ এমনকি সারা দেশ থেকে ছোট পাল্লার ব্যবসায়িক যানবাহন এসে ভিড় করছে সিলেট নগরে। রাস্তা প্রশস্থ হওয়ায় এগুলো স্থান করে নিচ্ছে রাস্তায় ও অবৈধ স্ট্যান্ডে। ফলে স্ট্যান্ডবাজ ও চাঁদাবাজদের এখন পোয়াবারো।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রকৌশলী জানান, সিলেট নগরে রাস্তা যতটুকু স¤প্রসারণ করা হয়েছে বা হচ্ছে এত তিনগুণ বেশিও যদি প্রশস্ত করা হয়, যানজট নিরসন হবে না। যতক্ষণ না নগরে চলাচলরত যানবাহনের সংখ্যা ও প্রকৃতি নির্ধারণ-নিরূপণ এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা না হবে। এটা না করওেল নগর উন্নয়নে শুধু ঠিকাদার-প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের পকেটই ভরবে। কর্মসংস্থান হবে শ্রমিকদের সত্য, কিন্তু গরবাসীর জীবনমানের কোন উন্নতি হবে না। বরং বিনা লাভে লাখো কোটি টাকার ভ‚মি বিসর্জন দিতে হবে নগরবাসীসহ প্রতিষ্ঠানগুলোকে। তাই অপরিকল্পিত উন্নয়ন নগরবাসীর জন্য নাভিশ্বাস হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

 

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নগরে আগে যে হারে হকার বসতো, রাস্তা প্রশস্ত হওয়ায় এর দ্বিগুণ ও তিনগুণ হকার বসছে। লাভ হচ্ছে হকার নিয়ন্ত্রক, চাঁদাবাজ ও পুলিশের। সচেতন নাগরিকরা বলেন, সিলেট নগরকে সুশৃঙ্খল ও উন্ননের মডেল করতে হলে সার্বিক দিক দিয়ে সুষ্টু পরিকল্পনা হতে নিতে হবে। নগরে জনসংখ্যা কত, জনসংখ্যা অনুপাতে কি সংখ্যক যানবাহন দরকার। রাস্তার ধারে স্ট্যান্ডে কি সংখ্যক যানবাজন রাখা যাবে এবং কোন কোন শহর বা কোন কোন জেলার গাড়ি নগর পরিবহণে চলবে,ফুটপাতে হকার বসবে কোন সময়, কোথায় ক’জন হকার বসবে, বাসাবাড়িতে কোন ধরনের ভাড়াটিয়া থাকবে। জনসংখ্যার চাপ কমাতে কর্মসংস্থান, ব্যবসা চাকুরি ও শিক্ষার প্রয়োজন ছাড়া এমন ভাড়াটিয়াদের ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। জনসংখ্যান চাপ কমলে যানবাহনের প্রয়োজনও কমবে বিধায় যানজট নিরসন করা সহজ হবে এবং বারবার রাস্তা প্রশস্ত করে জনগনকে আইর্থক ক্ষতির মূখে পড়তে হবে না।

 

এদিকে অপরিকল্পিত উন্নয়নের সুযোগে অর্থলিপ্সু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট জনশক্তি একেবারে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জনগনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই উন্নয়ন কার্জ সমাধান ও বিল ওঠানোই তাদের মূখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই যেখানে সেখানে যখন তখন গর্ত খনন ও কোন প্রকার রোধক বা বেষ্ঠনী না দিয়েই কাজ চালিয়ে যাওয়ায় খাদে পড়ে লোকজন আহত ও নিহত হচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের সুষ্টু তদারকির অভাবে এামনটাই হচ্ছে বলে সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন। মাত্র ক’দিন আগে নগরের চৌকিদেখী এলাকায় নিম্নমানের কাজে নির্মানাধীন কালভার্র্ড ধ্বসে পড়ে একজন সংবাদকর্মী গুরুতর আহত হন। গত সোমবার আম্বরখানা হোমায়রা ম্যানশনের সামনে নির্মনাধীন ড্রেনে পড়ে কবি সাহিত্যিক ও শিক্ষক নেতা আদুল বাসিত মুহাম্মদ নিহত হয়েছেন। নিহতের ঘটনায় অবশ্য সিটি কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছন। বস্তুত: উন্নয়নকাজের সুষ্টু ও সঠিক তদারকি করলে এমন দুর্ঘটনায় লোকজনকে পতিত হতে হতো না সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর