ঋণের টাকা আত্মসাত করে অভিযোগ দায়ের পুলিশের বিরুদ্ধে : চাঞ্চল্য

প্রকাশিত: 11:40 PM, September 24, 2020

ঋণের টাকা আত্মসাত করে অভিযোগ দায়ের পুলিশের বিরুদ্ধে : চাঞ্চল্য
আদালতের অনুমতিক্রমে অধর্তব্য অপরাধের একটি মামলার তদন্ত করে অপরাধী হয়ে গেলেন পুলিশের এএসআই। তাকে বানিয়ে দেওয়া হলো সুদখোর। ঘটনাটি প্রকাশ পেয়েছে ২২ সেপ্টেম্বর সিলেটের একটি স্থানীয় দৈনিকে। ঋণের টাকা আত্মসাত করে তা হজম করতে পাওনাদারের বদলে একজন পুলিশ অফিসারের চরিত্রে কলংক লেপনের ঘটনা অনেকটা বিরল।
অভিযোগে প্রকাশ, সিলেট মেট্রোপলিটন জালালাবাদ থানার কান্দিগাওয়ের মোঃ আব্দুর রহিমের কাছ থেকে ২০১৯ সালের ১৮ জানুয়ারী ব্যবসার নামে ৭৫ হাজার টাকা কিস্তি ঋণ নেন একই থানার কান্দিগাঁও তিলকপুরের শানুর আলী ও তার স্ত্রী হাজেরা বেগম। প্রতিমাসে ৩ হাজার টাকা করে পরিশোধ করার কথা। সরলমনা আব্দুর রহিম তাদেরকে ব্যবসা সহযোগিতায় এ ঋণ দেন। কিন্তু কিস্তি আদায় তো দুরের কথা, সাকুল্য টাকাই আত্মসাত করে ফেলেন শানুর ও হাজেরা। স্থানীয়ভাবে অনেক চেষ্ঠা তদবিরের পরও টাকা আদায় করতে পারন নি আব্দুর রহিম। উপরন্তু
গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর টাকা চাইতে গেলে শানুর আলী ও তার স্ত্রী পাওনাদার আব্দুর রহিমকে টাকা না দিয়ে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে ধাওয়া করেন। এতে করে চরম নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েন আব্দুর রহিম ও তার পরিবার। প্রাণের নিরাপত্তা চেয়ে আব্দুর রহিম গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর এসএমপির জালালাবাদ থানায় শানুর ও তার স্ত্রী হাজেরার বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরী (নং-৭০২) করেন। তদন্তভার দেওয়া হয় থানার এএসআই মোঃ মানিক মিয়াকে। প্রাণনাশের হুমকি ও ধাওয়ার ঘটনা আইনত অধর্তব্য অপরাধ। তাই তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোঃ মানিক মিয়া তদন্তের জন্য আদালতের অনুমতি চান। সিলেট মেট্রোপলিটন ১ম আদালত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখের ৬১৬৯ স্মারকের আদেশে এএসআই মোঃ মানিক মিয়াকে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদ দাখিলের অনুমতি দেন। আদালতের আদেশে এএসআই মোঃ মানিক মিয়া ঘটনার সরেজমিন তদন্ত করে সাক্ষ্য-প্রমাণে ঘটনার সত্যতা পান। পরে সাক্ষী উল্লখে গত বছরের ১০ নভেম্বর এ ঘটনায় আদালতে ৫০৬(২) ধারায় একটি প্রসিকিউশন প্রতিবেদন দাখিল করেন। যা’এসএমপি’র জালালাবাদ থানার নন এফ আই আর-১৫২/১৯।
প্রসিকিউশন পেয়ে আদালত আইনানুসারে কারণ দর্শাতে শানুর ও তার স্ত্রী হাজেরাকে একাধিকবার নোটিশ দিলেও আদালতের নোটিশ আমলে নেয়নি শানুর ও হাজেরা। ফলে আদালত প্রসিকিউশন ড্র করে তাদের বিরুদ্ধে সমন পরবর্তী গ্রেফতারী পরোওয়ানা জারি করেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আদালতের পরোয়ানা তামিলে থানা পুলিশ শানুরকে গ্রেফতার করে। জামিনে বেরিয়ে পলাতক হওয়ায় ওয়ারেন্ট মূলে ফের তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এবার জামিনে বেরিয়ে পুলিশের পিছে অযথা লেগে যায় টাকা আত্মসাতকারী শানুর ও তার স্ত্রী হাজরা। তারা অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই মোঃ মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে সুদ ও ঘুষখোরীর মিথ্যা ও অযাচিত অভিযোগ করে এসএপি কমিশনারের কাছে। অভিযোগ করেই ক্ষান্ত হয়নি। গত ২২ সেপ্টেম্বর তা প্রচার করে স্থানীয় একটি প্রিন্ট মিডিয়ায়। কিন্তু মিডিয় অভিযোগ দায়েরের কোন তারিখ উল্লেখ করেনি।
এ ব্যাপারে এএসআই মোঃ মানিক মিয়া জানান- আমি নিজে থেকে কিছুই করিনি। আদালতের নির্দেশে শুধুমাত্র হুমকির অভিযোগেল তদন্ত করি। সত্যতা পেয়ে নির্দশ মোতাবেক প্রসিকিউশন দেই। এই প্রসিকিউশন বলে গ্রেফতারের কোন প্রশ্নই ওঠে না। পলাতক এবং ওয়ারেন্ট থাকায় ফেরারী আসামী হিসেবে পুলিশ শানুরকে একাধিকবার গ্রেফতার করেছে। ওয়ারেন্টী আসামী গ্রেফতার পুলিশের কোন হয়রানী বা অপরাধ নয়। সুদ ব্যবসা ও ঘুষ গ্রহণের ব্যাপার সম্পূর্ণ অস্বীকার করে এএসআই মানিক বলেন- ওয়ারেন্টী আসামী গ্রেফতার ও কোর্টে চালান করে আসামীর কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ পাগলের প্রলাপ বৈ কিছু নয়।
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর