কমলগঞ্জে মা’সহ গণধর্ষণের শিকার ২ যাত্রী ॥ ৭ জন আটক

প্রকাশিত: 8:47 PM, December 21, 2019

কমলগঞ্জে মা’সহ গণধর্ষণের শিকার ২ যাত্রী ॥ ৭ জন আটক

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে স্বামীর সাথে দেখা করে বাসায় ফেরার পথে কমলগঞ্জের দেওরাছড়া চা বাগান এলাকায় দুই গৃহবধূ গণধর্ষনের শিকার হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সাড়াশি অভিযান চালিয়ে মূল হোতা সিএনজি অটোরিক্সা চালক ইউসুফসহ ৭ জনকে আটক করেছে। শুক্রবার রাতে ৯টার দিকে গণধর্ষণের এই ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার রাত থেকে পুলিশের ৬টি টিমের নেতৃত্বে ৬ঘন্টার অভিযানে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ঘটনায় ব্যবহৃত ৩টি সিএনজি এবং ৭ জনকে আটক করা করেছে। ধর্ষণের শিকার ২নারী বর্তমানে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের একজনের বয়স আনুমানিক বয়স ২৮ এবং অন্যজনের ২৪। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ পিপিএম (বার) শনিবার দুপুরে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভিকটিমদ্বয়কে দেখতে যান এবং তাদের খোঁজখবর নেন। এ ঘটনায় শনিবার বিকাল ৫টায় এক ধর্ষিতা নারীর স্বামী আল আমিন বাদি হয়ে কমলগঞ্জ থানায় দুই জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জনকে আসামী করে গণধ:র্ষণের অভিযোগে কমলগঞ্জ থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্র এবং গণধর্ষনের শিকার দুই নারীর জবানবন্দিতে জানা যায়, হোসনে আরা বেগম (২৪) ও নাছরিন বেগম (২৮) নামের ২ গৃহবধু একে অপরের পরিচিত। হোসনার স্বামী বাহার মিয়া একটি মারামারির মামলায় মৌলভীবাজার জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন। তার সাথে দেখা শেষে শুক্রবার রাতে ৯টার দিকে গনধর্ষণের শিকার এই দুই নারী ৩ বছরের একটি শিশুসহ মৌলভীবাজার শহরের পৌর পার্ক থেকে কমলঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের বিক্রমকলস গ্রামের বাড়িতে যাবার উদ্দেশ্যে সিএনজি অটোরিক্সা রিজার্ভ করেন। সিএনজি অটোরিক্সাটি কিছু দূর যাওয়ার পর ২ জন যাত্রী তুলেন চালক। তখন এই দুই নারী বাঁধা দিলে চালক জানায়, তার পরিচিত এরা বিপদে পড়ছে সামনে গেলেই নেমে যাবে। দেওরাছড়া চাবাগানের এক নির্জন জায়গায় আসলে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা আরো ৭/৮ জন তাদেরকে সিএনজি অটোরিক্সা থেকে নামিয়ে সন্তানের সামনে মাসহ দুই নারী যাত্রীকে জোরপূর্ব্বক গণধর্ষণ করে। এক নারীকে ৭ জন মিলে এবং অন্য নারীকে দুইজন মিলে গণধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষকের শিকার নারীর ৩ বছর বয়সী বাচ্চাটিকে মারধোর করা হয়।
ধর্ষণ শেষে এই দুইনারী ভয়ে কৌশলের আশ্রয় নেন, তারা চালককে বলেন যা হবার হয়েছে এবার আমাদের দিয়ে আসেন। চালক তাদেরকে নিয়ে আবার কমলগঞ্জের মুন্সিবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে পথে রহিমপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আব্দুল মজিদ খানের দোকানে সামনে পৌছানোর আগে এক নারী জানান তার একটু জরুরী কাজ আছে এই দোকানে একটু থামতে হবে। দোকানের সামনে থামানো মাত্র তারা চিৎকার শুরু করেন এবং চালক সিএনজি রেখে পালিয়ে যায় । খবর পরে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ এসে তাদেরকে চিকিৎসার জন্য রাত ১১টায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।
রহিমপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আব্দুল মজিদ খান জানান, আমার দোকানে ঢুকে তারা অভিযোগ দেয় এ সময় চালক পালিয়ে যায়। জেনেছি তার নাম ইউসুফ মিয়া তার বাড়ী মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বনশ্রী গ্রামে। পরে বিষয়টি কমলগঞ্জ থানা পুলিশকে জানান। তিনি আরো জানান, গণধর্ষনের শিকার এক নারী তাকে জানিয়েছেন এই সিএনজি চালকেক নিয়ে তারা এর আগেও এসেছেন।
এদিকে দুই নারী যাত্রী গণধর্ষণের ঘটনাটি মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম(বার) এর নির্দেশে শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান, মৌলভীবাজার মডেল থানাসহ জেলা পুলিশের তিনটি টিম রাতভর অভিযান চালিয়ে শনিবার ভোর রাত ৫টা পর্যন্ত মৌলভীবাজার সদর থানা ও কমলগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে জড়িত ৩টি সিএনজি অটোরিক্সা ও ৭ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন- আলমগীর হোসেন (২৫), পিতা-মৃত সিরাজুল ইসলাম, গোবিন্দশ্রী, মৌলভীবাজার, রুবেল মিয়া (২৭), পিতা- মৃত আকলু মিয়া, নিতেশ্বর, ইউসুফ আলী (৩৫), পিতা-মৃত মফিজ উদ্দিন, গোবিন্দশ্রী, মোঃ সলিম মিয়া (২৬), পিতা-কমরু মিয়া, সাং-নিতেশ্বর, সর্ব থানা ও জেলা-মৌলভীবাজার, রবিলাল উরাং (২০), পিতা- সবুজ উরাং, দেওড়াছড়া চা-বাগান (গুঙ্গিবিল লাইন), কমলগঞ্জ, বিকাশ মুন্ডা (২৩), পিতা-নিতাই মুন্ডা, সাং-দেওড়াছড়া চা-বাগান (রাশি টিলা) ও আবু সুফিয়ান বাবুল (৪৫), পিতা-মৃত কুরবান আলী, সাং-দেওড়াছড়া চা-বাগান, থানা-কমলগঞ্জ।
এদিকে শনিবার বিকাল ৫টায় এক ধর্ষিতার স্বামী আল আমীন (৩৩) বাদি হয়ে কমলগঞ্জ থানায় ইউসুফ মিয়া ও সেলিম মিয়ার নাম উল্লেখ করে আরো ৭/৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে কমলগঞ্জ থানায় গণ ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭ জন অভিযুক্ত এবং ৩টি সিএনজি আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ৭ জন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। তাদেরকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আদালতে ধর্ষকদের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্ধী গ্রহন করা হবে। খুব গুরুত্বের সাথে এ মামলা তদন্ত করে যাদের নাম আসবে তাদেরকে আটক করা হবে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর