কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাকে অশান্ত করতেই চেয়ারম্যানকে জড়িয়ে অপপ্রচার

প্রকাশিত: 9:16 PM, December 21, 2019

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাকে অশান্ত করতেই চেয়ারম্যানকে জড়িয়ে অপপ্রচার

প্রতিদিন ডেস্ক : সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাকে অশান্ত করতেই উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমদকে জড়িয়ে মিথ্যাচারের মাধ্যমে অপপ্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের বাসিন্দা আঞ্জব আলী আঞ্জু। তিনি দাবি করেন, ‘বর্ণিগ্রামের আজির উদ্দিন অবাধে মিথ্যাচার করেছেন। আর এই মিথ্যাচারে কোম্পানীগঞ্জের স্বনামধন্য ও জননন্দিত উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী শামীম আহমদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছেন। অথচ এসবের সাথে তার কোনো সম্পৃকতাও নেই, সেই ঘটনায় তার নাম জড়ানো একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের অংশ।’
শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি আরও বলেন, থানা বিএনপির সভাপতি শাহাবউদ্দিন ও আজির উদ্দিনের নেতৃত্বে নিরীহ মানুষের জমি দখল করে পাথর লুটপাটের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শাহাবুদ্দিন বিএনপির জমানায় ভোলাগঞ্জ কোয়ারি, শারপিন টিলায় অবাধে পাথর লুটপাট করেছেন। এখনো তার দোসররা সক্রিয়। শাহাবুদ্দিন জোরপূর্বক ভোলাগঞ্জের এলসি স্টেশন এলাকায় সরকারি জমি দখল করে রেখেছেন।’
তিনি বলেন, ‘শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে গড়ে উঠা ভুমিখেকো সিন্ডিকেট তার কেনা জমি দখলে নিতে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তাদের মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে জমি দখলে নিয়ে দলবেধে পাথর উত্তোলন করে লুটপাট করা। ২০১৬ সালের ২৮শে জানুয়ারি দক্ষিন সুরমার গোপশহর গ্রামের মরহুম আনোয়ার আলীর তিন ছেলে এমদাদুল হক, মিছবাউল হক, লুৎফুল হকের কাছ থেকে মটিয়া টিলার ৩১ নং খতিয়ান থেকে ১ দশমিক ৯২ একর ভুমি ক্রয় করেন পাড়ুয়া গ্রামের বিলাল হোসেন। পরবর্তীতে তিনি ওই ভুমির নামজারী করেন। ওই বছরই বিলাল হোসেনের কাছ থেকে এই জমিটি আমি ক্রয় করি। বর্তমানে ভুমিটি ব্যবহার করে ভোগ দখল করছি। এখন এই ভুমিতে বিলাল আহমদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এই ভুমির মালিকানা দাবি করে ২০১৬ সালে চিকাঢর গ্রামের বিলাল আহমদসহ তার সহযোগীরা আদালতে মামলা করেন। আমাদের অজ্ঞাতে এক তরফা চলমান মামলা চলতি বছরের ২৩ শে জুন রায় তাদের পক্ষ নেয়। বিষয়টি জানার পর আমার পূর্বের ক্রেতা বিলাল হোসেন জজ আদালতে স্বত্ব আপীল মোকদ্দমা মামলা করেন। এখন মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। সুতরাং কোনো বিচারাধীন মামলা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মন্তব্য করা উচিত নয়। অথচ আজির উদ্দিন বিচারাধীন মামলা নিয়ে যেভাবে অপপ্রচার চালিয়েছে তা কোনোভাবে সমিচিন হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, আজির উদ্দিনের বাড়ি বর্ণি গ্রামে। যে জায়গা নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে সেই জমির দূরত্ব বর্ণি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে আজির উদ্দিনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। শাহাবুদ্দিন, আলী আকবর, তাজউদ্দিনসহ কয়েকজন মিলে একটি সিন্ডিকেট করে জোরপূর্বক ওই ভুমি দখলে নিতে চাইছে। তারা এখন গায়ের জোরে আমার ক্রয় সূত্রের জমিটি দখলে নিতে হামলা চালাতে পারে। এ ব্যাপারে আমি জীবন শঙ্কায় পড়েছি।’
আঞ্জু বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমদ যখন ভারতে অবস্থান করছেন তখন তার বিরুদ্ধে একটি সাজানো ঘটনা দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। হাজী শামীম আহমদ কখনো কাউকে ধমকই দেন না, অথচ বলা হয়েছে তিনি চাঁদা চেয়েছেন। এই অভিযোগের পর থেকে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। একজন স্বনামধন্য চেয়ারম্যানের নামে এমন অপপ্রচার এলাকার মানুষ মেনে নিচ্ছে না। শাহাবুদ্দিন, আজিররা চাইছে এলাকার শান্তিময় পরিবেশ অশান্ত হোক। দাঙ্গা-হাঙামা করে তারা অতীতের ন্যায় মানুষ খুন করবে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শাহরিয়ার আহমদ, রুসন আলী, আশিক মিয়া, আলমাছ আল মামুন, ফখরুল ইসলাম, সাচ্ছাই মিয়া পাপ্পু, রুকনোজ্জামান চৌধুরী, মো. এলাইচ মিয়া মেম্বার, ফরিদ মিয়া, রাজু আহমেদ ও সাজু আহমেদ।

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর