গোলাপগঞ্জে অবাধে চলছে টিলাকাটা : নিরবতায় প্রশাসন!

প্রকাশিত: 3:21 PM, December 6, 2019

গোলাপগঞ্জে অবাধে চলছে টিলাকাটা : নিরবতায় প্রশাসন!
সাকিব আল মামুন, গোলাপগঞ্জ : পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে টিলা কাটায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সিলেটের গোলাপগঞ্জে অবাধে চলছে টিলাকাটা। প্রশাসনের নিরবতার সুযোগে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বেড়েই চলছে একের পর টিলা কাটার ঘটনা। নানা কৌশলে টিলা কেটে সাবাড় করছে ভূমিখেকোরা। এতে টিলাবেষ্টিত এ অঞ্চলের পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি পাহাড়-টিলার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দিনের পর দিন টিলা কাটা চললেও রহস্যজনক কারণে নির্বিকার পরিবেশ অধিদফতর, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। নামমাত্র অভিযান চললেও সেসব অভিযান তেমন ফলপ্রসু হচ্ছে না। আর কত পাহাড় টিলা ধ্বংস হওয়ার পর টনক নড়বে প্রশাসনের-এমন প্রশ্নের কোন উত্তর খোঁজে পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়- উপজেলার টিলাবেষ্টিত এলাকা আমুড়া ইউনিয়নের ধারাবহর গ্রামের বিভিন্ন জায়গায়, ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের নিশ্চিন্ত খর্দ্দাপাড়ার হাইনাপাড়া এলাকায়, নিশ্চিন্ত পোস্ট অফিস সংলগ্ন টিলা, বিএনকে স্কুল সংলগ্ন টিলা, কানিশাইল বর্মপুর এলাকা, রায়গড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্মুখের টিলা, বাঘা সোনাপুর পয়েন্ট ও লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানেই সুকৌশলে ভোররাত এবং রাতের আধারে মাটি ব্যবসায়ীরা টিলার মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। একের পর এক টিলা ধ্বংস করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ না নেয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন উপজেলার সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ একশ্রেণীর মাটি ব্যবসায়ীরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কখনও রাতে কখনও সরকারী ছুটির দিনে বেপারোয়া ভাবে অবাধে টিলার মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, প্রশাসন একাধিকবার লোক দেখানো অভিযান করলেও তাতে টিলা কাটা বন্ধ না হয়ে ঐ চক্র আরও বেপারোয়া হয়ে মাটি কেটে চলেছে। ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের রায়গড় গ্রামের বাসিন্দা শামীম আহমদ বলেন, ভোরে ও রাতে ট্রাক দিয়ে কৌশলে মাটি বিক্রি করে টিলা ধ্বংস করছে একটি চক্র। বাঘা ইউনিয়নের গোলাপনগর গ্রামের অধিবাসী আব্দুল আহাদ বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও মাটি ব্যবসায়ী চক্র বেপারোয়া হয়ে ইউনিয়নের একাধিক জায়গায় কৌশলে টিলার মাটি কেটে দোকান মার্কেট তৈরি করছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শবনম শারমিন বলেন, অত্যন্ত সুকৌশলে রাতের আধারে মাটি কেটে নিয়ে যায়। অনেক সময় অভিযান চালিয়ে এদের কাউকে পাওয়া যায় না। টিলা কাটার অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক ইউনিয়ন তহসিলদারদের এব্যাপারে কঠোর থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারপরও স্থায়ীভাবে টিলাকাটা বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর