জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে গতিশীল করতে আট সুপারিশ

প্রকাশিত: 12:39 PM, January 5, 2020

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে গতিশীল করতে আট সুপারিশ

ডেস্ক প্রতিবেদন : দেশের নদ-নদী রক্ষায় ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। কিন্তু সুপারিশ ছাড়া আর কিছুই করার এখতিয়ার নেই এই কমিশনের। ফলে পরিদর্শন, সভা, সেমিনারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে জাতীয় এই কমিশনের কাজ।
সাধারণ মানুষের তীব্র সমালোচনা আর উচ্চ আদালতের রায়ের পর কমিশনকে একটি কার্যকর রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কোথায় কতটা সংস্কার করলে শক্তিশালী রূপ নিয়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আইন সংশোধনই প্রধান কাজ। আইনে যদি কাজ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে অন্য সবকিছু এমনিতেই সংস্কার হয়ে যাবে। এরপরও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আপাতত আটটি বিষয়ে আলোকপাত করলেই কমিশন গতিশীল হবে।
এ বিষয়ে কমিশনের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, আমরা আমাদের সুপারিশগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছি। বেশ কয়েক দফায় আমরা সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকেও জানিয়েছি। আমাদের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হলে নদী কমিশন শক্তিশালী হবে। আর নদী কমিশন শক্তিশালী হলে নদী দখল ও উচ্ছেদ অভিযান আরও গতি পাবে। এখন আমরা পরিদর্শন করি, জেলা প্রশাসকদের বলি, অনেক সময় আমাদের কথা তারা শোনেন। আবার কখনও শোনেন না। আমরা যদি স্বায়ত্তশাসিত একটি সংস্থা হই, তখন তারা আমাদের কথা শুনতে বাধ্য।
তিনি আরও বলেন, নদী কমিশন আইন ২০১৩ এর সংশোধনের কাজ চলছে। এই আইনটি সংশোধিত হলে আমাদের কাজের গতি আরও বেড়ে যাবে।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। তারমধ্যে আট বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো−সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত এবং হাইকোর্টের রায়ে প্রদত্ত আদেশ ও নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় নদী রক্ষা আইন-২০১৩ সংশোধন করা। এছাড়া বর্তমানে কমিশনে চেয়ারম্যান ছাড়া মাত্র একজন সার্বক্ষণিক সদস্য থাকায় কাজের গতি বাড়াতে এ সংখ্যা বাড়িয়ে ৪ জন সদস্য সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি সহযোগী বিশেষজ্ঞও চেয়েছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।
এছাড়া সুপারিশে বলা হয়েছে, উচ্ছেদ ও উদ্ধার কার্যক্রমে জেলা প্রশাসককে সহায়তা করার জন্য জনবল ও টাকা দেওয়া জরুরি। সীমানা নির্ধারণের জন্যও প্রকল্পে অর্থায়ন জরুরি। বিভাগীয় নদী কমিশনের সভাপতির মাধ্যমে উচ্ছেদ কার্যক্রম করতে যেসব লজিস্টিক সাপোর্ট দরকার সেগুলো কেনার জন্যও অর্থের প্রয়োজন। এসব টাকা কমিশনের মাধ্যমে দেওয়ার ব্যবস্থা করা গেলে কাজ আরও দ্রুত হতো। কাজের জন্য এখন কমিশন শুধু জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেয়। আর পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় জেলা প্রশাসকরা সবচেয়ে কম গুরুত্ব দিয়ে নদী উদ্ধারের কাজ করে।
সুপারিশে নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কমিশন কম গুরুত্ব পায়। অথচ নদী উদ্ধারের কাজগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কমিশনের কার্যালয়সহ বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় পরিদর্শন ও পরিবীক্ষণ এবং নদ-নদী উদ্ধার ও উচ্ছেদ কাজে নিরাপত্তা দিতে কমিশনের আওতায় পুলিশ মোতায়েনের স্থায়ী ব্যবস্থার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে সুপারিশমালায়। একইভাবে নদ-নদী রক্ষায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা বিধানে নৌ-পুলিশ কমিশনের আইনের আওতাধীন নিয়োগের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এখন নৌ-পুলিশ কমিশনের অধীনে নেই। কমিশন চাইলে তাদের সহায়তা করে।
সুপারিশে নদী দখল রোধে জনসচেতনতা বাড়াতেও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জনসচেতনতা বাড়াতেও বরাদ্দ খুব জরুরি। কিন্তু এজন্যও পর্যাপ্ত অর্থায়ন প্রয়োজন। যাতে করে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা নদী রক্ষা কমিটিসহ নদী রক্ষায় নিয়োজিত সংগঠনগুলো ও সর্বোপরি প্রিন্ট ও ই-মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক প্রচারণা চালানো যায়।
আট দাবির শেষ গুরুত্বপূর্ণ দাবি হচ্ছে, কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতার জন্য প্রশিক্ষণ ও বিদেশে গিয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। এই খাতে গবেষণা ও সমীক্ষার জন্যও অর্থায়ন দরকার। এছাড়া নৌপথে নদ-নদী পরিদর্শন ও পরিবীক্ষণের জন্য জলযানের ব্যবস্থা করা এবং গাড়ির ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করেছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর