দুর্দিনে সুনামগঞ্জবাসীর পাশে দাঁড়ালেন যারা

প্রকাশিত: 7:06 PM, April 2, 2020

দুর্দিনে সুনামগঞ্জবাসীর পাশে দাঁড়ালেন যারা

আজিজুল ইসলাম আজিজ, সুনামগঞ্জ : করোনা ভাইরাসের শঙ্কিত পৃথিবী। মরণব্যাধি এই রোগের আক্রমনে প্রতিদিনই বিদায় নিচ্ছে অনেক তাজা প্রাণ। মৃত্যুর লাইন দীর্ঘ হচ্ছে প্রতিদিন। মানুষের বোবা চিৎকার, হৃদয় ফাঁটা আর্তনাদ প্রকৃতিকে করেছে নীরব। পৃথিবীর সকল মানুষ এখন ঘরমুখী। অদৃশ্য ভয়ঙ্কর শক্তির সাথে নিরস্ত্র যুদ্ধে মানুষ বড় অসহায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ঢাল-তলোয়ার বিহীন বাংলাদেশের মানুষ খুব বেশি অসহায়। প্রকৃতির কাছে আত্মসমর্পণ করে বেঁচে থাকার দৃঢ় স্বপ্নে আজ গৃহবন্দী। দরিদ্র দিনমজুরদের পরিবার খাদ্য সংকটে। ঘরে ক্ষিদের যন্ত্রণা। বাহিরে করোনার ছোবল।
কঠিন এই দুঃসময়ে সুনামগঞ্জবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছেন সদরের জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।। রাজনীতিবিদ ও সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, পৌর মেয়র মোঃ নাদের বখত, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল ও আইনজীবি মোঃ আবুল হোসেন।
নুরুল হুদা মুকুটঃ
নুরুল হুদা মুকুট সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি। দীর্ঘদিন থেকে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ এর গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আন্দোলন সংগ্রামে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর একজন বলিষ্ঠ প্রতিনিধি হয়ে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কে নেতৃত্ব দিয়ে একটি শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে গড়ে তুলেছেন। দলের বাহিরে নিজেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে আবিষ্কার করেছেন বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনে। আওয়ামী লীগ এর মনোনীত প্রার্থীকে পিছনে ফেলে বিপুল ভোটে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এজন্যই জনতা নাম দিয়েছেন সুনামগঞ্জের মুকুট বিহীন সম্রাট নুরুল হুদা মুকুট। আজ সুনামগঞ্জবাসীর দুর্দিনে অনাহারী দিনমজুরদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন নুরুল হুদা মুকুট। নিজের কর্মীদের অসহায়দের পাশে থেকো নিঃস্বার্থ সেবা করার নির্দেশ দিয়েছেন। মরণঘাতী করোনা থেকে পরিবার সমাজ ও দেশকে রক্ষা করার জন্য সুনামগঞ্জের সকল শ্রেণির মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান করেছেন। সুনামগঞ্জের কর্মহীন দিনমজুরদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

পীর ফজলুর রহমান মিসবাহঃ
পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ সুনামগঞ্জ-৪ আসনের একজন জনবান্ধন সংসদ সদস্য। যিনি সাধারণ মানুষের নেতা নামেই খ্যাত। সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনে বিপুল ভোটে দ্বিতীয় বারের নির্বাচিত সাংসদ। যার জনপ্রিয়তা দেখে অনেকেই প্রতিহিংসার আগুনে নিজেরা পুড়েন। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান পীর মিসবাহ। পেশায় আইনজীবী। লোভ-লালসাহীন নির্মোহ পীর মিসবাহ ভালোবাসেন সাধারণ মানুষকে। ভালোবাসেন হাওরবেষ্টিত জল-জোসনার শহর সবুজ সুনামগঞ্জকে।
সাধারণ বাড়িতে বসবাস করেন। নেই কোনো অহংকার। নেই দাম্ভিকতা। প্রতিনিয়ত মানুষকে সচেতন করছেন। সদর-বিশ্বম্ভরপুর বাসীর জন্য তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে কর্মহীন দিনমজুরদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করছেন। কর্মীদের মাধ্যমে খাদ্য পৌঁছে দিচ্ছেন সকল অসহায়দের মাঝে।

মোঃ নাদের বখতঃ
নাদের বখত সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র। যার পরিবার মহান মুক্তিযুদ্ধে সুনামগঞ্জে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাবা ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক।মাতৃভূমিকে পাকিস্তানি শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নিজের দুই সন্তানসহ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। বড় ভাই অকাল প্রয়াত মেয়র আয়ুব বখত জগলুল ছিলেন সুনামগঞ্জের রাজনীতির আরেক কিংবদন্তি। যিনি ছাত্র রাজনীতি থেকে তিল তিল করে উঠে এসেছিলেন। জায়গা করে নিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে। দুইবারের পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এর মনোনয়ন নিয়ে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে পৌরবাসীর সেবা করেছিলেন। সুনামগঞ্জকে একটি আধুনিক দৃষ্টিনন্দন সুনামগঞ্জ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। স্বপ্নের অধিকাংশ বাস্তবায়ন করেছিলেন। কিন্তু বিধাতার ডাকে অকালে যেতে হলো পরপারে। বড় ভাই আয়ুব বখত জগলুল এর আকস্মিক মৃত্যুর পর আমেরিকার জৌলুসপূর্ণ জীবনের মায়া ছেড়ে নাদের বখত ফিরে আসেন জল জোছনার শহরে। বড় ভাইয়ের অসম্পূর্ণ কাজ সমাপ্ত করতে। প্রান্তিক শহরের সাধারণ মানুষের সেবা করতে। ছুটে চলছেন পুরো শহর জুড়ে। শহরকে পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত করতে নিজ শ্রমিকদের সাথে নিজেই কাজ করেছেন। সচেতন করছেন পৌরবাসীকে। করোনার কারণে সুনামগঞ্জ পৌরসভার গৃহবন্দী কর্মহীন দিনমজুরদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন নিজ হাতে।

খায়রুল হুদা চপলঃ
খায়রুল হুদা চপল সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জননন্দিত চেয়ারম্যান। যিনি বহুগুণে গুণান্বিত একজন সাদামাটা উচ্চশিক্ষিত মার্জিত নেতা। সুনামগঞ্জের মুকুট বিহীন সম্রাট নুরুল হুদা মুকুট’র সহোদর। তিনি একাধারে সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক। সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এর সভাপতি। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এর পরিচালক। সুনামগঞ্জবাসীর সেবা করার জন্য, প্রতিনিধিত্ব করার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর মনোনয়ন নিয়ে বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন। আজকের দুর্দিনে উপজেলাসীর পাশে থেকে সরকারের ত্রাণ ছাড়াও নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে মাঠে চষে অসহায়দের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছেন নিজের অর্থায়নে। ধাপে ধাপে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রাখছেন।

মোঃ আবুল হোসেনঃ
মোঃ আবুল হোসেন উদীয়মান তরুণ রাজনীতিকের আলোকিত দৃষ্টান্ত। পেশায় আইনজীবী। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতির সংগঠন বাংলাদেশ সেচ্ছাসেবক লীগ সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হোন। নির্বাচনের আগে থেকে অদ্যাবধি উপজেলার গ্রামে গঞ্জে পাড়ায় মহল্লায় সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছেন। মানব জাতির কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে গৃহবন্দী সুনামগঞ্জ সদরের কর্মহীন শ্রমজীবী, দরিদ্র অভুক্ত মানুষের কাছে স্বচ্ছতার সহিত প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য মাঠে থেকে কাজ করছেন। নিজে একজন নবীন আইনজীবী, সম্পদ টাকার জৌলস কিছুই নেই। প্রচার প্রসার না করে নীরবে নিভৃতে নিজের অর্থায়নে সহযোগিতা করছেন খেটে-খাওয়া অসহায় কর্মহীন মানুষকে। নির্বাচনী এলাকার সকল অসহায় মানুষকে সাহায্য করতে না পারলেও খোঁজ নিচ্ছেন সবসময়।

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর