নয়াপল্টনে ব্যাপক সংঘর্ষ

প্রকাশিত: 4:09 PM, November 14, 2018

নয়াপল্টনে ব্যাপক সংঘর্ষ
  • পুলিশের ওপর হামলা পরিকল্পিত : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • ভোটের পরিবেশ নষ্ট করছে সরকার : ফখরুল

ডেস্ক প্রতিবেদন
মনোনয়নপত্র বিক্রির মধ্যেই রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় বিএনপির প্রধান কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বুধবার দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
গতকাল ছিল বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রির তৃতীয় দিন। এদিনও মনোনয়ন ফরম কিনতে আসা নেতা-কর্মীদের চাপে রাজধানীর নয়াপল্টনের সামনের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, পুলিশ রাস্তা স্বাভাবিক করতে নেতা-কর্মীদের অনুরোধ জানো হয়। একপর্যায়ে দুইপরে মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এ নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে পুলিশ ও নেতা-কর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। এ সময় নেতা-কর্মীরা কার্যালয়ের সামনে থাকা বেশ কয়েকেটি পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
বুধবার দুপুর ১টা থেকে এই সংঘর্ষ শুরু হয়ে প্রায় ২টা পর্যন্ত চলে।

এ ঘটনায় পুলিশের টিয়ার শেলের আঘাতে এক সাংবাদিকসহ বিএনপির ২৫ নেতাকর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের স্থানীয় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি নেতা আব্বাসের সঙ্গে আসা তার কর্মী আসাদুজ্জামান, পল্টন থানা বিএনপি কর্মী কাদির, মাদারীপুর শিবচর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাখাওয়াত, ঢাকার স্বেচ্ছাসেবক দলের সুমন চৌকিদার, মানবজমিনের সাংবাদিক রুদ্র মিজান, গাইবান্ধা পলাশবাড়ীর ছাত্রদল নেতা শামীম রেজা, একই থানার ছাত্রদল নেতা খন্দকার আপেল মাহমুদ, বিএনপি নেতা ড. মইনুল সাদিক, ফরহাদ, এম শুকুর পাটোয়ারী।
বিএনপির কর্মী, পুলিশ ও প্রত্যদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১টার দিকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা শোডাউন শুরু করলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সেখানে আগে থেকে থাকা পুলিশ সদস্যরা টিয়ার শেল নিপে করতে শুরু করে। এর পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। বিএনপির নেতাকর্মীরা দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করতে থাকেন।

একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের প থেকেও টিয়ার গ্যাসের কয়েকটি শেল নিপে করা হয়। এর একপর্যায়ে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে উপস্থিত দৈনিক মানব জমিন পত্রিকার অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদক রুদ্র মিজানের শরীরে টিয়ার শেলের পাঁচটি স্লিন্টার লেগেছে। তিনি পল্টন এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

রুদ্র মিজান গণমাধ্যমকে আরও বলেন, ‘সংবাদ সংগ্রহের জন্য আমি সকাল থেকেই বিএনপি অফিসের সামনে অবস্থান করছিলাম।’
বিএনপির মহিলা দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মুকুল আকতার কনা বলেন, ‘কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুলিশ গুলি (ছড়রা) করতে শুরু করে।’

এই নেত্রী অভিযোগ করেন, থেমে থেমে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী (২টা পর্যন্ত) চলা সংঘর্ষের সময় পুলিশ ছড়রা গুলি ও টিয়ার শেল নিপে করে।
এদিকে টিয়ার শেল নিেেপর বিষয়টি স্বীকার করেনি পুলিশ। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের কিছু হয়নি।

দুপুরে মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পুলিশ রাস্তা থেকে বলেছিল সরে যেতে, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু তারা সে কথা না শুনে হঠাৎ পুলিশের ওপর হামলা করে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মনোনয়ন ফরম নিতে আসা নেতা-কর্মীদের ওপর বিনা উসকানিতে পরিকল্পিত হামলা করেছে সরকার। সংঘর্ষের পর তাৎণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, ‘গত তিন ধরে নেতা-কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে আসে। এখানে (পল্টনে) স্বাভাবিক পরিবেশ বিরাজ করছিল। শেখ হাসিনার নির্দেশে নির্বাচন কমিশন পুলিশ দিয়ে এ হামলা চালাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
পুলিশের ওপর হামলা পরিকল্পিত :

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা ‘পরিকল্পিত’ বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ অভিযোগ করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যখন দেশ একটি সুন্দর নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে, নির্বাচন কমিশন যখন সিডিউল ঘোষণা করেছে, দেশের মানুষ যখন একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের অপোয় রয়েছে, সেই সময়ে এ ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। এটা পরিকল্পিতভাবে হয়েছে।
তিনি বলেন, এই হামলা ধূ¤্রজাল সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচালের একটা অপচেষ্টা। পুলিশের ওপর হঠাৎ আক্রমণ আমাদের সেটাই মনে করিয়ে দেয়। পুলিশের দুটি গাড়ি পোড়ানো এবং ১৬ জন পুলিশ ও আনসার সদস্য আহত হয়েছেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারী ও গাড়ি যারা পুড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোটের পরিবেশ নষ্ট করছে সরকার :

ভোটের পরিবেশ নষ্ট করছে সরকার নিজেই। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাথে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শুরুর আগে গতকাল দুপুরে ইসিতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নয়া পল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, এর মাধ্যমে সরকার ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করছে।

তিনি জানান, সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করছে। এ ধরনের পরিস্থিতি না ঘটানোর আহ্বান জানান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এ মুখপাত্র। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনক ভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের আইন শৃঙ্খলাবাহিনী তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এ ধরনের পরিস্থিতি করে সরকার নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করছে। ভোটের অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য আহ্বান জানাই।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর