ফয়সল আহমদ চৌধুরীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

প্রকাশিত: 12:46 PM, January 3, 2019

ফয়সল আহমদ চৌধুরীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার) আসনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরী।


সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার) আসনের দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের ভোটার ও নাগরিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরী।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বরের প্রহসনের নির্বাচন দেখে আমি স্তব্ধ, হতভম্ব, সংক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের নামে গণতন্ত্রের কবর রচনার এমন নীলনকশা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি এ প্রহসনের নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছি। প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং নতুন করে নির্দলীয় সরকারের অধিনে অধীনে পুনঃনির্বাচনও দাবি জানিয়েছি।’

তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধিনে বিশেষ করে আওয়ামী লীগের অধিনে নিরপেক্ষ নির্বাচন যে কোনোভাবেই সম্ভব নয় তা এদেশের সর্বস্তরের মানুষ এবার প্রত্যক্ষ করেছেন। প্রশাসনকে নির্লজ্জভাবে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিএনপি ভুল করেনি। কারণ শাসক দল আগেই বুঝতে পেরেছিল তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনসমর্থন তাদের পক্ষে থাকবে না। সেকারণে নিজেদের ভরাডুবি ঠেকাতে তারা ৩০ডিসেম্বর প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রহসনের নির্বাচন মঞ্চস্থ করেছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে স্বাধীন জনমত ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কবর রচিত হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে এদেশের মানুষই তাদের এ অপকর্মের সমুচিত জবাব দেবেন।’

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি, ২৩ দল এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টভূক্ত দলগুলোর নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার শুরু করে। নির্বাচনের আগেরদিন পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। আমার নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির গণজোয়ার ঠেকাতে একাধিক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে (ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান) গ্রেফতার করা হয়। নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা, বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তল্লাশীর নামে হয়রানি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, তাদের স্বজনদের নির্যাতন করে চরম ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। তবুও ধানের শীষের গণজোয়ার ঠেকাতে না পেরে নির্বাচনে জিততে ইতিহাসের কলঙ্কময় প্রহসনের পথ বেছে নেওয়া হয়। তারা প্রশাসনের সহযোগিতায় ভোটের আগের রাতেই ভোট বাক্স ব্যালট ভর্তি করে রাখে। তাতেও ভরসা করতে না পেরে দিনের আলোয় জোরপূর্বক ভোটারদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট কাস্ট করে, অনেক কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করেও দেয়া হয়। এরকম অসহায় পরিস্থিতিতে বারবার নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোন প্রতিকার বা সহযোগিতা পাইনি।’

ফয়সল আহমদ চৌধুরী বলেন, এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও আমার প্রাণপ্রিয় বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জবাসী যে অভূতপূর্ব ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়েছেন তাতে আমি মুগ্ধ। ধানের শীষের প্রতি, ব্যক্তিগতভাবে আমার প্রতি যে ভালোবাসার নিদর্শন দেখিয়ে তাতে আমি চিরকৃতজ্ঞ। ইনশাআল্লাহ, আমৃত্যু তাদের হাসি-আনন্দ, দুঃখ- বেদনায় পাশে থেকে এই কৃতজ্ঞতার ঋণ শোধের চেষ্টা করে যাবো।

নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারাভিযানকালে গত এক মাসে আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন, অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও এবং আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন, পুলিশী তল্লাশীর নামে বাসা বাড়ি তছনছের কারণে অনেকের সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; তাদের সকলের প্রতি আমর সহমর্মিতা-সমবেদনা। তাদের পাশে থাকার সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।’

গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলাবাসী, দলের নেতাকর্মী, সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে আপনারা আপনাদের সামর্থ মত চেষ্টা করেছেন। প্রহসনের আর প্রতারণার করে সরকার দল হয়তো আপাতত তা ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে আস্থা রাখুন, শেষ পর্যন্ত সত্যের জয়, আপনাদের জয় হবেই।’ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর