বর্ণিল সাজে জামেয়া রেঙ্গা: কাল থেকে শুরু দস্তারবন্দী মহাসম্মেলন

প্রকাশিত: 7:21 PM, December 24, 2019

বর্ণিল সাজে জামেয়া রেঙ্গা: কাল থেকে শুরু দস্তারবন্দী মহাসম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদন: সিলেটের শীর্ষ ইসলামি বিদ্যাপীঠ ঐতিহ্যবাহী জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গার শতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ৩ দিনব্যাপী দস্তারবন্দী মহাসম্মেলন আগামীকাল ২৫ ডিসেম্বর বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে ইতিমধ্যে মহাসম্মেলন আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত সম্মেলন।

শতবার্ষিকী দস্তারবন্দী মহাসম্মেলন নিয়ে জামেয়ার ফুযালা ও আবনার মাঝে খুশির আমেজ পরিলক্ষিত হচ্ছে। সাথে সাথে রেঙ্গা এলাকাবাসীসহ সিলেটের সর্বত্র আলাদা আনন্দ ও ধন্য ধন্য রব ছড়িয়ে পড়ছে। সবাই যার যার মত করে সম্মেলন সফলের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সর্বমহল থেকে সর্বাত্বক সহযোগিতার আগ্রহ ও আশ্বাসবাণী শুনা হচ্ছে।

দেশর বিভিন্ন এলাকা থেকেকে আগত মুসল্লিদের জন্য সিলেট শহরের প্রবেশমুখ হুমায়ূন রশীদ চত্তরে আঞ্জুমানে তালিমুল কুরআন বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘ইস্তেকবাল বুথ’ স্থাপন এবং খাবার পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জামেয়ার মুহতামিম মাওলানা মুহিউল ইসলাম বুরহান জানান, সম্মেলন সফলে সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলনে আগত অতিথিদের তালিকা, দস্তার প্রধানের সময়সহ সার্বিক বর্ণনা দিয়ে আট পৃষ্ঠার সম্মেলন সিডিউল বই প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া সম্মেলনে আগত মুসল্লিদের আপ্যায়নের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সম্মেলনের জন্য মাদরাসার দক্ষিণে ১ লক্ষ ১০ হাজার স্কয়ার ফিটের মাঠ ও অন্যান্য স্থানে স্বাভাবিকভাবে ধারণক্ষমতা প্রায় লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান। ধারণা করা হচ্ছে, সম্মেলনের প্রথম দুইদিন অন্তত ১০ লক্ষ এবং শেষ দিন ৩০ লক্ষ মুসল্লির সমাগম ঘটবে।

৩দিন ব্যাপী শতবার্ষিকী ও দস্তারবন্দী মহাসম্মেলনে বিভিন্ন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন, আল্লামা আবদুল মুমিন শায়খে ইমামবাড়ী, আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী, আল্লামা মুক্বাদ্দাস আলী জকিগঞ্জী, আল্লামা খলিলুর রহমান হামিদী বরুনী, আল্লামা আলীমুদ্দীন দূর্লভপুরী, শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইদ্রিস লক্ষীপুরী, শায়খ শামসুল ইসলাম খলীল রেঙ্গা, শায়খ জিয়া উদ্দীন আঙ্গুরা, শায়খ মুখলিছুর রহমান কিয়ামপুরী, শায়খ আবদুশ শহীদ গলমুকাপনী, মুফতি গোলাম মোস্তফা এলাহিগঞ্জী, মুফতি মুজিবুর রহমান, আঙ্গুরা, শায়খ এজাজ আহমদ শেওলা, মুফতি শফিকুল হক সুরইঘাটি, শায়খ শফিকুল আহাদ দিরাই, শায়খ আবদুল হাই সৈয়দপুর, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, লাফনাউট, মুফতি ওলীউর রহমান সিলেট। এছাড়া দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম সভাপতিত্ব করবেন।

সম্মেলনে যেসব বিদেশী মেহমান উপস্থিত থাকবেন: আল্লামা সাইদ আহমদ পালনপুরী, দেওবন্দ ভারত, আল্লামা আশহাদ রশিদী, দেওবন্দ ভারত, আল্লামা হাবীবুর রহমান খয়রাবাদী, দেওবন্দ ভারত, আল্লামা সাইয়িদ আসজাদ মাদানী, ভারত, আল্লামা নাসিম আহমদ বারকানভী, ভারত, আল্লামা শায়খ মানসুর বিন মুহাম্মদ মাকিনী, সৌদিআরব, আল্লামা সিদ্দিকুল্লাহ, পশ্চিমবঙ্গ ভারত, মুফতি রাশেদ আযমী, দেওবন্দ, মাওলানা হিব্বুর রাসুল উসামা, আসাম, মাওলানা ইশতিয়াক আহমদ, দেওবন্দ, আল্লামা বিলাল বাওয়া, লন্ডন, মাওলানা ইউসুফ আলী, আসাম, ভারত, আল্লামা আশরাফ মাকদাম, লন্ডন, শায়খ আবদুর রহীম লিমবাদা, লন্ডন, শায়খ মাহমুদুল হাসান লন্ডন প্রমুখ।

দেশী উলামা-মাশায়েখদের মধ্যে যারা নির্ধারিত সময়ে বয়ান করবেন: শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী, হাটহাজারী। আল্লামা আশরাফ আলী, ঢাকা। আল্লামা মাহমুদুল হাসান, যাত্রাবাড়ী। আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী। আল্লামা নুর হুসাইন কাসিমী। আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী। আল্লামা আবদুল মালিক, মারকাযুদ্দাওয়া, ঢাকা। আল্লামা মুফতি মুহাম্মাদ ওয়াক্কাস। আল্লামা সালাহুদ্দীন নানুপুরী। আল্লামা শেখ আহমদ, হাটহাজারী। মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, ঢাকা। আল্লামা আবু তাহের নদবী। মাওলানা মাহ্ফুজুল হক, জামেয়া রাহমানিয়া, ঢাকা। মুফতি দেলোয়ার হুসাইন, ঢাকা। মুফতি মুশতাক্বুন্নবী, কুমিল্লা। শায়খ আবদুল মতিন বিন হুসাইন, ঢালকানগরী। মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনসারী। মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী। মাওলানা মামুনুল হক, ঢাকা। মুফতি শামসুদ্দিন জিয়া, পঠিয়া। মাওলানা হিফজুর রহমান, ঢাকা। আল্লামা শাহ মুহাম্মাদ তৈয়ব, জিরি, চট্টগ্রাম। প্রফেসর শায়খ হামিদুর রহমান, ঢাকা। মাওলানা ড. মুস্তাক আহমদ, ঢাকা। অধ্যক্ষ শায়খ মিজানুর রহমান, কাপাশিয়া, ঢাকা। মুফতি শফিকুল ইসলাম, সাইনবোর্ড, ঢাকা। শায়খ শফিকুর রহমান জালাবাদী, কিশোরগঞ্জ। মুফতি মিজানুর রহমান সাইদ, ঢাকা। মাওলানা আযহার আলী আলোয়ার শাহ, কিশোরগঞ্জ। মুফতি আবুল বাশার সাইফুল ইসলাম, ঢাকা। মুফতি মুজিবুর রহমান, চাঁদপুর। মাওলানা আ ফ ম খালিদ হুসাইন, চট্টগ্রাম। মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক, বরুণী। শায়খ নুরুল ইসলাম খান, সুনামগঞ্জী। মাওলানা সাজিদুর রহমান, বি বাড়ীয়া। মাওলানা জুবায়ের আহমদ চৌধুরী ইন্দেশ্বরী, বেফাক। শায়খ আসগর হুসাইন সুনামগঞ্জী, (লন্ডন)। মাওলানা ফজলুর রহমান, বানিয়াচঙ্গী। মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, ফরিদাবাদ, ঢাকা। মাওলানা আবু সাবের আবদুল্লাহ, ঢাকা। মুফতি মোবারক উল্লাহ, বি-বাড়ীয়া। মাওলানা হাসান জামিল, ঢাকা। মাওলানা আহমদ মায়মুন, ঢাকা। মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমুদ, ঢাকা। মাওলানা যিকরুল্লাহ খান, ঢাকা। মাওলানা আরশাদ রাহমানী, ঢাকা। মাওলানা মুস্তাক আহমদ খান, সিলেট। মাওলানা হারুনুর রশীদ কানাইঘাটি। মাওলানা সিবগাতুল্লাহ নূরী। মাওলানা তাহমীদুল মাওলা। মুফতি লুৎফর রহমান ফরায়েযী। মাওলানা আতাউল হক জালাবাদী। মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন রাজি, লালবাগ, ঢাকা। মুফতি আব্দুল মুনতাকিম, জকিগঞ্জ (লন্ডন), মুফতি নোমান কাসিমী, ঢাকা। মাওলানা তাফহীমুল হক হবিগঞ্জী প্রমুখ।

আমন্ত্রিত উলামায়ে কেরাম হিসেবে যারা সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন: শায়খ নাযীর হুসাইন প্রথমপাশী, শায়খ মাসউদ আহমাদ গলমুকাপন, শায়খ আবদুল মুছাব্বির দেউলগ্রাম, শায়খ আবদুল হক লক্ষীপাশী, শায়খ মুশাহিদ আলী দয়ামীর, মুফতি লুৎফুর রহমান কাসিমী, শায়খ আউলিয়া হুসাইন রামধা, মাওলানা শুয়াইব আলী কটারকুনী, মুফতি জালালুদ্দিন মুরাদগঞ্জ, মাওলানা সালেহ আহমদ জকিগঞ্জ, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া আরজাদাবাদ, শায়খ আবদুস সালাম বাগরখলী, শায়খ আনোয়ারুল হক চৌধুরী, মাওলানা হুসাইন আহমদ বিশ্বনাথ, শায়খ আবদুল বারী ধর্মপুরী, শায়খ আবদুল মালিক রুপসপুরী, মাওলানা ক্বারী ইমদাদুল্লাহ কাতিয়া, মাওলানা হেলাল আহমদ হরিপুর, মাওলানা সৈয়দ মাসউদ আহমাদ মৌলভীবাজার, শায়খ মুনীরুদ্দীন বাহুবল, শায়খ মুজিবুর রহমান নয়াসড়ক, শায়খ মকবুল হুসাইন আসগরী, মাওলানা গোলাম মুহিউদ্দীন ইকরাম ঢাকা, মাওলানা মুজিবুর রহমান দারুল হুদা সিলেট, শায়খ ইউসুফ আহমদ হরিপুর, মাওলানা ফুরকানুল্লাহ খলীল দারুল মাআরিফ চট্টগ্রাম, মাওলানা সৈয়দ ফখরুল ইসলাম সৈয়দপুর, মাওলানা আবদুল বছির সুনামগঞ্জ, মাওলানা সালেহ মুহাম্মদ জাকারিয়া ঢাকাদক্ষিণ, মাওলানা হাবীবে রাব্বানী চৌধুরী তালবাড়ী, মাওলানা আবদুল হান্নান গনেশপুরী, মাওলানা আবদুল মতিন ধনপুরী, মাওলানা শাহ নজরুল ইসলাম, মাওলানা মুহাম্মদ ইসমাঈল ঢাকা, মাওলানা আতিউর রহমান ঢাকা, শায়খ সা’দুদ্দীন ভাদেশ্বরী, মাওলানা লুকমান আহমদ টিকরপাড়া, মাওলানা আতাউর রহমান রায়ধর, মাওলানা সৈয়দ শামীম আহমদ, মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু গহরপুর, মুফতি ফজলুল হক মাদানীনগর, মাওলানা আবদুল হক হক্কানী বগুড়া, মাওলানা আবদুল হাফিজ শাহবাগ, মাওলানা আবদুল মালিক মোবারকপুরী, মাওলানা আবুল বশর রফিক ছাতক, এড. মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী, মুফতি রেজাউল করীম কাসিমী, ক্বারী মাওলানা শায়খ আহমদ হাসান লন্ডন, ক্বারী মাওলানা নাজমুল হাসান ঢাকা, ক্বারী এ কে মনজুর প্রমুখ।

রাষ্ট্রীয় বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত থাকবেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, ধর্মপ্রতিমন্ত্রী এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শফি আহমদ চৌধুরীসহ সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

জামেয়ার দীর্ঘ ৫৩ বছরের আলিম ও হাফিয ফাযিলদের মাথায় পাগড়ী প্রদান করা হবে যে সময়: ১ম দিন বাদ মাগরিব, ১৩৮৮ থেকে ১৪১৫ হিজরীর, বাদ এশা- ১৪১৬ থেকে ১৪২৬ হিজরীর আলিম ফারিগীন এবং সকল আবনাকে পাগড়ী প্রদান করা হবে।
২য় দিন বাদ যুহর ১৩৯০ থেকে ১৪২৯ হিজরীর হাফিজ ফারিগীনকে, বাদ মাগরিব ১৪২৭ থেকে ১৪৩০ হিজরীর আলিম ফারিগীন এবং বাদ এশা ১৪৩১ থেকে ১৪৩৫ হিজরীর আলিমফারিগীনকে পাগড়ী প্রদান করা হবে।
৩য় দিন বাদ জুমআ ১৪৩৬ থেকে ১৪৩৮ হিজরীর আলিম ফারিগীন, বাদ মাগরিব ১৪৩০ থেকে ১৪৪১ হিজরীর হাফিজ ফারিগীনকে এবং বাদ এশা ১৪৩৯ থেকে ১৪৪১ হিজরীর আলিম ফারিগীনকে পাগড়ি প্রদান করা হবে।
জামেয়ার সাড়ে তিনহাজার ফারিগীন ও অসংখ্য আবনাকে মুরব্বীদের পাগড়ি প্রধান করে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হবে।

সম্মেলনে আগত মুসল্লিদের জন্য অজু ও প্রস্রাবখানা তৈরি করা হয়েছে মাঠের পাশেই।
সম্মেলনস্থলে পৌঁছার জন্য মাঠের পূর্বদিকে রেলালাইনের ধরে বাঁশের সাঁকো দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া মাদরাসার ৩টি গেইট এবং সম্মেলনস্থলের পশ্চিম দিক থেকেও মাঠে পৌঁছার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

৯০০ ফিটের ৩ স্তরের মঞ্চের প্রধান মঞ্চ ৩০ ফুট বাই ১৫ ফুট এবং মূল মঞ্চের দুই পাশে ১৫ ফুটের আরও দুইটি মঞ্চ রাখা হয়েছে উলামা অতিথি ও সামাজিক-রাজনীতিক ব্যক্তিদের জন্য।
স্টেইজের ঠিক পেছন দিয়ে ১৫ ফিট প্রস্থ যাতায়াত রাস্তার পরেই পুলিশ কন্ট্রোল রুম, মিডিয়া কর্নার, অস্থায়ী মেহমানখানা, আপ্যায়ন এবং বাথরুমের ব্যবস্থাপনা রাখা হয়েছে।
সম্মেলনে আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তা ও সার্বিক সহায়তা দিতে মাদরাসার শিক্ষার্থী ও এলাকার প্রায় পাঁচশো যুবক স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবেন।
এছাড়া জরুরি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, মোবাইলের নেটওয়ার্ক সচল রাখতে বিকল্প নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট, মুসল্লি ও অতিথিদের গাড়ি পার্কিং সুবিধা এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য ‘মেডিকেল বুথ’ স্থাপন করা হয়েছে।
কাল ২৫ ডিসেম্বর বুধবার বিকাল ২টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১১টায় ৪ অধিবেশনে ১ম দিনের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।
২৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার ২য় দিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উলামা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বিকাল ২টা থেকে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়ে ৪ অধিবেশনে রাত ১১টায় সমাপ্ত হবে।
২৭ ডিসেম্বর ৩য় ও শেষ দিন সকাল ১০ টা থকে শুরু হয়ে ২৮ ডিসেম্বর ফজর পর্যন্ত মোট ৬ অধিবেশনে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ৩দিন ব্যাপী সম্মেলন সমাপ্ত হবে।

শতবার্ষিকী ও দস্তারবন্দী মহাসম্মেলন উপলক্ষে একহাজার পৃষ্ঠার বিশাল একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে। এছাড়া জামেয়া দীর্ঘ ৫১ বছরের শায়খুল হাদিস আল্লামা শিহাব উদ্দীন রাহ.’র জীবন ও কর্ম নিয়ে ৫০০ পৃষ্ঠার পৃথক একটি স্মারকগ্রন্থসহ জামেয়ার শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ব্যাচের ফাযিলদের উদ্যোগে ডজনখানেক পত্রিকা-ম্যাগাজিন প্রকাশ হচ্ছে।
সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা শাহ ইকবাল বিন হাশিম জামেয়ার বিগত ৫৩ বছরের ফাযিল, হাদিসের শায়খসহ প্রায় ৫হাজার নামলিপি একটি খেজুর গাছে অঙ্কন করেছেন, যা দর্শনার্থীদের সহজের দৃষ্টি কাড়বে।

জামেয়ার ফাযিল ও মুইনে নাজিমে তালিমাত, দস্তারবন্দী সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সদস্য হাফিয মাওলানা আহমদ কবীর খলীল এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, জামেয়া রেঙ্গা বৃহত্তর সিলেটের একটি শ্রেষ্ঠ দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দেশ ও জাতির কল্যাণে জামেয়ার ফুযালারা প্রশংসনীয় অবধান রেখে যাচ্ছেন।
শতবার্ষিকী ও দস্তারবন্দী মহাসম্মেলনকে সামনে রেখে গত একবছর ধরে জামেয়ার ফাযিল, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও মুসল্লিদের নিরলস প্রচেষ্টায় বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি, সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে ঐতিহাসিক এই সম্মেলন।
তিনি আরও জানান, উনিশ’শ উনিশ সালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার রেঙ্গা পরগনায় তৎকালীন সময়ের এক নীরব সাধক হযরত মাওলানা আরকান আলী রহ.- এর হাতে যার সূচনা। অতঃপর তাঁরই সুযোগ্য সন্তান খলীফায়ে মাদানী, হযরত মাওলানা বদরুল আলম শায়খে রেঙ্গা রহ. -এর আজীবন সাধনায় এ জামেয়ার উন্নতি-অগ্রগতির দৌড় শুরু হয়। হযরত শায়খ আরকান আলী ও হযরত শায়খে রেঙ্গার মেহনত, খুলুসিয়্যত ও লিল্লাহিয়্যতের প্রতীক এই জামেয়া আজ বিশ্বমুসলিমের কাছে পরিচিত এক আলোর মিনার হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। সিলেটের মাটি ও মানুষের মান সমুন্নত করে রেখেছে। ইতিমধ্যে হাজার হাজার হাফিজ, আলিম, মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও মুবাল্লিগ তৈরী করে মানবতার বিকাশ সাধনে দেশ বিদেশে ছড়িয়ে দিয়েছে। চলতি বছরে জামেয়াটি শতবর্ষে পদার্পণ করেছে এবং এ উপলক্ষে আগামীকাল ২৫ ডিসেম্বর বুধবার থেকে শুরু হয়ে ২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার ফজর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “জামেয়ার শতবার্ষিকী ও দস্তারবন্দী মহাসম্মেলন”।

দস্তারবন্দী মহাসম্মেলন প্রচার উপ-কমিটির প্রধান ও জামেয়ার মুহাদ্দিস মাওলানা তালেব উদ্দিন শমসেরনগরী জানান, জামেয়ার কয়েক হাজার ফাযিল, শিক্ষক, দেড়হাজার শিক্ষার্থী এবং এলাকার সাধারণ মানুষের সহযোগিতা এবং বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক ও উলামায়ে কেরামের উপস্থিতি ও পরামর্শ কাল থেকে শুরু হওয়া সম্মেলনকে প্রাণবন্ত করে তুলবে।

জামেয়ার ফাযিল, স্মারক সম্পাদনা পরিষদের সদস্য মাওলানা শামছুল হক ইবনে সিরাজ জানান, জামেয়ার ১০০ বছরের ইতিহাসে এবারের ৩ দিনব্যাপী এই সম্মেলন সর্ববৃহৎ ও অতিগুরুত্বপূর্ণ হবে এটাই সিলেটবাসীর প্রত্যাশা।

কাল থেকে শুরু হওয়া সিলেটের সর্ববৃহৎ এই বিদ্যাপীঠের শতবার্ষিকী ও দস্তারবন্দী মহাসম্মেলন সফলে জামেয়ার ৪৮তম ব্যাচের পক্ষ থেকে দেশবাসী এবং স্থানীয়, জাতীয় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রিক মিডিয়ার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জামেয়া ক্যাম্পাসে সম্মেলন সফলে মিডিয়া কর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে জানিয়েছেন জামেয়ার ফাযিল মুফতি তাজুল ইসলাম।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর