বানিয়াচঙ্গে প্রতিবন্ধীর টাকা ছিনিয়ে নিলেন এক সমাজকর্মী ও ইউপি সদস্য!

প্রকাশিত: 2:34 PM, December 6, 2019

বানিয়াচঙ্গে প্রতিবন্ধীর টাকা ছিনিয়ে নিলেন এক সমাজকর্মী ও ইউপি সদস্য!

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি- হবিগঞ্জের বানিয়াচঙ্গে প্রতিবন্ধীর টাকা ছিনিয়ে নিলেন এক ইউনিয়ন সমাজকর্মী ও ইউপি সদস্য। ঘটনাটি ঘটেছে বানিয়াচং উপজেলার বড়বাজার সোনালী ব্যাংক এলাকায় (৪ ডিসেম্বর) মঙ্গলবার বিকেলে। এ বিষয়ে ভোক্তভোগী প্রতিবন্ধী মকসিনা আক্তার গতকাল সকালে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুন খন্দকারের কাছে বিষয়টি জানালে তিনি তাৎক্ষণিক বানিয়াচং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে ডেকে এনে বিষয়টি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করে প্রতিবন্ধীর ভাতা ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ প্রদান করেন। একই সাথে ওই ইউনিয়ন সমাজকর্মী ও ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।
জানা যায়, বানিয়াচং সোনালী ব্যাংক বড়বাজার শাখা থেকে ২৪ হাজার টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা তুলেন সাগরদীঘি পাড় এলাকার আঃ সাত্তার এর প্রতিবন্ধী মেয়ে মকসিনা আক্তার। ব্যাংক থেকে ভাতার টাকা উত্তোলন করে ব্যাংকের নীচে আসামাত্র সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজ কর্মী রেজাউল হক রতন ও ৩নং ইউনিয়নের মেম্বার সুমন আখনজী ওই প্রতিবন্ধীর কাছ থেকে পুরো ২৪ হাজার টাকা ও ভাতার বই ছিনিয়ে নেন। কিছুক্ষন পরে পুনরায় আবার ১১ হাজার টাকা প্রতিবন্ধী মকসিনার মা এর কাছে ফেরত দিয়ে অবশিষ্ট ১৩ হাজার টাকা ও ভাতার বই তাদের হাতে রেখে দেয়। গতকাল প্রতিবন্ধী মকসিনা তার মা ও বাবাকে সাথে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ জানান।
এ ব্যাপারে প্রতিবন্ধী মকসিনার মা জানান, আমি গত মঙ্গলবার সারাদিন আমার প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে কষ্ট করে ভাতার টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে নিয়ে আসার পর সমাজ সেবা অফিসের রতন ও মেম্বার সুমন আখনজী জোর পূর্বক আমার মেয়ের কাছ থেকে টাকা ও প্রতিবন্ধী ভাতার বইটি নিয়ে যায়। তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে ইউএনও’র কাছে তার প্রতিবন্ধী মেয়ের ভাতার টাকা ও বই ফেরত দেয়ার আকুতি জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বার্হী অফিসার মোঃ মামুন খন্দকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রতিবন্ধী মেয়েটি তার বাবাকে সাথে নিয়ে আমার কাছে এসে অভিযোগ দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই সমাজসেবা অফিস এর রতন ও ইউপি মেম্বার সুমন আখনজীকে আমার অফিসে তলব করা হয়েছে। ঘটনাটি সত্য প্রমানিত হলে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ইউএনও মহোদয় বিষয়টি দেখার জন্য আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। ইউনিয়ন সমাজকর্মী রেজাউল হক রতন ইতিমধ্যে নবীগঞ্জ উপজেলায় বদলী হয়েছেন। তিনি আমার অফিসের কর্মী নন তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার জন্য আমার অফিসে এসেছিলেন। ভোক্তভোগী প্রতিবন্ধী মকসিনা আক্তার এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগও আমার কাছে দিয়েছেন। উভয়পক্ষকে ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি জিটুপি পদ্ধতিতে ভাতা ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর বানিয়াচং উপজেলায় ভাতাভোগী ১০ ভাগ লোকের কোন অস্থিত্বই খোজে পায়নি বানিয়াচং সমাজসেবা অফিস। কে বা কারা এই ভাতাগুলো নিয়েছে শীঘ্রই ব্যাংকের মাধ্যমে তা খোঁজে বের করার উদ্যোগ নিবে বানিয়াচং উপজেলা প্রশাসন। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সুমন আখনজীর মতামত জানতে চাইলে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একাজ আমি করিনি, এটা আমার বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র।

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর