মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগে অবরুদ্ধ জাপা মহাসচিব

প্রকাশিত: 5:30 PM, November 26, 2018

মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগে অবরুদ্ধ জাপা মহাসচিব

ডেস্ক প্রতিবেদন
জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্য, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেছেন দলটির মনোনয়নবঞ্চিত ত্যাগী নেতা-কর্মীরা। এ অভিযোগে তাকে দল থেকে অবিলম্বে বহিস্কারেরও দাবি তুলেছেন তারা।

জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার জাতীয় পার্টির মহাসচিবের পদ ব্যবহার করে কেবলই নিজের স্বার্থ দেখেছেন, নিজের আখের গুছিয়েছেন। কেবলমাত্র জাতীয় পার্টির রাজনীতিকে ব্যবহার করে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। এবার নির্বাচনকে সামনে রেখেও বেপরোয়া মনোনয়ন বানিজ্যে মেতে ওঠেন তিনি।
নিজের ও স্ত্রী নাসরিন জাহান রতœার আসন নিশ্চিত করতে গিয়ে দলের স্বার্থ, মাঠ পর্যায়ের নিবেদিত জনপ্রিয় ও ত্যাগ নেতা-কর্মীদের স্বার্থকে পুরোপুরি জলাঞ্জলি দিয়েছেন। দলটির নেতা-কর্মীরা মনে করেন, দলীয় স্বার্থ উপো করে নিজের স্বার্থ হাসিল করার মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। তিগ্রস্ত হয়েছে জাতীয় পার্টি। দলটির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় পার্টি। এর অংশ হিসেবে সোমবার বেলা ৩ টায় দলটির প্রার্থী তালিকা ঘোষণার কথা জানান জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। সে অনুযায়ী পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বনানী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনেরও আহবান করা হয়।

কিন্তু এরই মধ্যে মহাসচিবের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের খবর ওঠে। এ অবস্থায় বিুব্ধ নেতা-কর্মীরা বনানী কার্যালয়ে ভিড় করেন। এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের সঙ্গে দেখা করে তার কাছে জানতে চান- কেনো এমনটা হলো? জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতারা কেনো মনোনয়ন পাওয়া থেকে বাদ পড়লো? নেতা-কর্মীদের এ ধরণের মারমুখী আচরণ দেখে সিদ্ধান্ত বদলান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। প্রার্থী তালিকা ঘোষণা দেয়া থেকে বিরত থাকেন তিনি।

পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি ২০০ আসনে প্রার্থী দেবে। তার এ ঘোষণায় নেতা-কর্মীরা আরও ুব্ধ হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে তারা মহসচিবকে বনানী কার্যালয়েই প্রায় দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদেরর অনুগতরা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে গুলশানের বাসায় নিয়ে যান।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের প থেকে জাতীয় পার্টিকে প্রত্যাশিত আসনে ছাড় দেয়ার কথা থাকলেও মূলত. মনোনয়ন বানিজ্যের জন্য অনেক জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের নাম বাদ দেন এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। জোটগত নির্বাচনে ন্যুনতম ৫০টি আসন দাবি ছিলো জাতীয় পার্টির।

কিন্তু মহাসচিবের রহস্যপূর্ণ ভূমিকার কারণে জাতীয় পার্টির বেশ ক’জন সংসদ সদস্য, মনোনয়ন প্রত্যাশী তালিকা থেকে বাদ পড়েন। বিশেষ করে, ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির বর্তমান সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম, চট্টগ্রাম-৯ আসনে জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, কুমিল্লা-২ আসনে জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি আমির হোসেনকে মহাজোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর