মাউন্ট এডোরা হসপিটালে জমজমাট টেস্ট বাণ্যিজ্য

প্রকাশিত: 12:38 AM, September 21, 2020

মাউন্ট এডোরা হসপিটালে জমজমাট টেস্ট বাণ্যিজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটে ডাক্তারদের মালিকানা প্রতিষ্ঠান মাউন্ট এডোরা হসপিটাল সবার কাছে পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে মিরবক্সটুলার একটা ভাড়া বিল্ডিং এ শুরু করলেও সময়ের ব্যবধানে লাভের কারি কারি টাকার লোভে বর্তমানে আখালিয়ায় নিজস্ব ভুমি উপর হসপিটাল নির্মান করেছেন হসপিটাল কর্তৃপক্ষ। হসপিটালের মালিক পক্ষ প্রায় সবাই পেশায় ডাক্তার হওয়াতে তাদের নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চেম্বারের ব্যবস্থা রয়েছে যে যার ইচ্ছা মতো অপ্রয়োজনীয় মেডিকেল টেস্ট দিয়ে রোগিদের কাছ থেকে জমজমাট মেডিকেল টেস্ট ব্যবসা করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের শেষ নেই তাদের ডায়োগনিস্টিক শাখায় রোগ নির্ণয়ের কারখানায় পরিণত হয়ছে। মাউন্ট এডোরায় ডাক্তাররের কাছে যাওয়া মানি যেনেশুনে সাপের গর্তে পা দেওয়া,
ডাক্তারের কাছে গেলেই সিরিয়াল টেস্ট। পরে দেখা যায় এসব টেস্টের কোন রোগই নেই। প্রাথমিক পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় টেস্ট দেওয়ার কথা থাকলেও এখানকার ডাক্ততাররা এমনটা না করে টেস্ট দিয়েই রোগ নির্ণয় করেন। আর এতেই তাদের ডায়োগনিস্টিক শাখায় ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। অসহায় রোগিদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন সুনামগঞ্জ থেকে আশা এক ভক্তভোগি রোগির। তাদের ডায়োগনিস্টিক শাখায় টেস্ট করতেই হবে, না হয় টেস্ট গ্রহন যোগ্য হবেনা এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। করোনা এই সময়ে শুধু অপ্রয়োজনীয় মেডিকেল টেস্ট ব্যবসার মধ্যে সিমাবদ্ধ নয় ভর্তি রোগিদেরকে তাদের মনগড়া বিল প্রদান করে ইতি মধ্যে মাউন্ট এডোরা হসপিটাল জনসাধারনের কাছে অনেক সমালিচিত হয়েছে সম্প্রতি অনেক অনলাইন পোর্টালে তাদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ প্রচারিত হয়েছে।
যতো পরীক্ষা ডাক্তারের ততো মাউন্ড এডোরা হসপিটালের লাভ, আর মাথায় হাত রোগীদের। বিশেষ করে গরিব ও নিম্নবিত্ত রোগীরা অপ্রয়োজনীয় টেস্ট করিয়ে রীতিমতো নিঃস্ব। রোগযন্ত্রণায় এমনিতে মানুষ কাতর। তারপর যদি অপ্রয়োজনীয় টেস্ট করিয়ে পকেট খালি করা হয় তাহলে কেমন লাগে। চরম শত্রুরও যেন কোন রোগ না হয়Ñ এমন কামনাই করেন অনেক রোগী।
মাউন্ট এডোরা হসপিটাল এর ডাক্তারদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলে এর প্রতিকার দাবি করছেন অনেক ভুক্তবোগি রোগিরা। ডাক্তারি একটি মানবসেবা মূলক পেশা, এ পেশাকে ভুলে ব্যবসায়ী চিন্তায় গড়ে তুলেন হসপিটাল/ক্লিনিক অথচ ডাক্তাররা সবার আগে রোগীর স্বার্থের কথা চিন্তা না করে আগে করেন নিজের স্বার্থের চিন্তা। শরীরের কোনো সমস্যা নিয়ে তাদের কাছে গেলেই ধরিয়ে দেন একগাদা টেস্ট। রক্ত, এমআরআই থেকে শুরু করে অনেক কিছু।
অথচ ডাক্তাররা অহেতুক টেস্ট না দিলে রোগীদের অনেক টাকা বেঁচে যেত। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বাড়তি খরচ জোগাড় করতে গিয়ে ভিটেমাটিও বিক্রি করতে হতো না।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে সিলেটের একটি ক্লিনিকের চেয়ারম্যন মাউন্ড এডোরা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, আমরা একটি ক্লিনিক পরিচালনা করতে ব্যবসায়ীক ভাবে অনেক অসুবিদার মধ্যে আছি। অথচ তারা (মাউন্ড এডোরা ) দুইটি প্রতিষ্ঠান করেও জমজমাট ব্যবসা করে যাচ্ছে। মাউন্ড এডোরার মালিকরা প্রায় সবাই ডাক্তার তাদের প্রতিষ্ঠানের লাভের জন্য অপ্রয়োজনীয় টেস্টতো দিবেই, রোগিরা কেন ব্যবসায়ী ডাক্তারের কাছে যাবে। তাদের কাছে আজ সিলেটের অনেক ক্লিনিক মালিকরা জিম্মি।
বেশিরভাগ সময় ডাক্তারই অপ্রয়োজনে টেস্ট করাচ্ছেন। তবে ব্যতিক্রম ডাক্তারও আছেন, যারা অপ্রয়োজনে টেস্ট করাতে রাজি নন। তারা বলছেন, প্রতিটি ডাক্তারের উচিত রোগীর সমস্যার কথা ভালো করে শোনা, রোগীর কথা ভালো করে শুনলে অনেক রোগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই শনাক্ত করা যায় এবং চিকিৎসা দেওয়া যায়। এমনই খ্যাতিমান ডাক্তারও রয়েছেন সিলেটে। অতীতে সিলেটের নামকরা অনেক ডাক্তার ও মেডিকেল প্রফেসর ছিলেন যারা রোগীর চেহারা দেখে ও কথা শোনেই রোগ নিরীক্ষণ করে নিতে পারতেন। রোগীর লক্ষণ শুনেই অনেক রোগ ধরা যায় এমন মন্তব্য অনেক বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, প্রতিটি ডাক্তারের উচিত প্রথমেই বেশি বেশি টেস্ট না দিয়ে ওষুধ দিয়ে রোগীকে কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রাখা। তাতে দেখা যায় কিছুরোগী টেস্ট ছাড়াই সুস্থ হচ্ছে। তবে লক্ষণ জানার পর অনেক ক্ষেত্রেই টেস্ট প্রয়োজন আছে। তবে অবশ্যই অপ্রয়োজনীয় টেস্ট যেন না দেওয়া হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এ প্রতিবেদককে এই বিষয়টি সম্পর্কে বলেছেন, রোগীর সমস্যার কথা শুনে এবং সাধারণ যন্ত্র দিয়ে দেখেই অনেক রোগ বোঝা যায়। তাহলে শুধু রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা কেন? তিনি সব ডাক্তারকেই রোগী দেখার সময় নিজের সর্বোচ্চ মেধা প্রয়োগ করার পরামর্শ দেন।
মাউন্ট এডোরা হসপিটালের অপ্রয়োজনীয় টেস্ট বিষয়ে যান্তে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যন প্রফেসর ডাক্তার এম এ আহবাব সাহেবের মোবাইলে বার বার কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্রতিষ্ঠানের মার্কেটিং দায়িত্বে থাকা রাসেদুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে এ বিষয় জান্তে চাইলে তিনি বলেন, চিকিৎসা তো আর বিনা টাকায় হয়না, কোন প্রতিষ্ঠান বিনা টাকায় করবেও না। আমরা অপ্রয়োজনিয় মেডিকেল টেস্ট দিলে সিলেটের সিভিল সার্জন আছেন এটা উনার দেখার দায়িত্ব ।
অনুসন্ধ্যানে আরও অনেক মাউন্ট এডোরা হসপিটালের কুকীর্তির ব্যাপক তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং বিজয়ের কণ্ঠ’র অনুসন্ধ্যায়ী টিম মাঠে রয়েছে।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর