মুজিববর্ষে ৫ প্রধান লোককবিকে নিয়ে সুনামগঞ্জে সংস্কৃতি মেলার উদ্যোগ

প্রকাশিত: 8:03 PM, December 22, 2019

মুজিববর্ষে ৫ প্রধান লোককবিকে নিয়ে সুনামগঞ্জে সংস্কৃতি মেলার উদ্যোগ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : মরমী কবি হাছন রাজার ১৬৫ তম জন্মবার্ষিকীতে জেলার ৫ম রত্ন বাউল শিল্পীদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছে জেলা প্রশাসন। সুনামগঞ্জের সকল শ্রেণীপেশার সংস্কৃতানুরাগী সাহিত্যকর্মী কবি লেখক সাংবাদিক গীতিকার বাউল শিল্পী ও সঙ্গীত শিল্পীদের সক্রিয় অংশগ্রহনে শনিবার বিকেল ৫টা হতে রাত পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগে আলোচনা ও সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে ৫ লোককবিকে স্মরণ করা হয়।
জেলার ৫ম প্রধান লোককবি যথাক্রমে বৈষ্ণব কবি রাধারমন দত্ত,মরমী কবি হাছন রাজা,গানের সম্রাট কামাল পাশা (কামাল উদ্দিন),বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম ও জ্ঞানের সাগর দূর্বীণ শাহ স্মরণে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর হাছন রাজা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ।
এসময় সুনামগঞ্জের প্রথম শহীদ আবুল হোসেনের স্ত্রী রহিমা বেগম,জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল,জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম,বাউল কল্যাণ পরিষদের সভাপতি বাউল তছকীর আলী,বাউল কামাল পাশা স্মৃতি সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাউল সাহেব উদ্দিন,সদর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারন সম্পাদক সন্তোষ কুমার চন্দ মন্তোষ,বাউল কামাল পাশা সংস্কৃতি সংসদের সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক বাউল আল-হেলাল,জেলা গীতিকার ফোরামের সাধারন সম্পাদক অরুন তালুকদার,লোকদল শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি বিধান চন্দ্র বণিক বাধন, এনজিও পদক্ষেপ এর এরিয়া ম্যানাজার গোলাম এহিয়া,শ্রমিক নেতা ফারুক হোসেন,শিল্পী চয়ন চৌধুরী,সংগীত শিল্পী কৃষ্ণ চন্দ ও শিল্পী সোহেল রানাসহ স্থানীয় সংস্কৃতানুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ৫ লোককবির গান পরিবেশন করেন, বাউল কামাল পাশা সংস্কৃতি সংসদ এর বাউল সাহেব উদ্দিন,বাউল আমজাদ পাশা,বাউল আলাউদ্দিন,বাউল আব্দুল কাইয়্যুম,বাউল জয়নাল আবেদীন,সাংবাদিক বাউল আল-হেলাল,গীতিকার নির্মল কর জনি,ক্বারী আমিরুল ইসলাম,শিস্তার আলী,মাফরোজা সিদ্দিকা বুশরা,আনহা আনোয়ার,লোকদল শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পী প্রাপ্তি পাল,কলি বর্মণ,বন্যা সরকার,ঝুমা দাস,রুহী দেবনাথ,দিয়া পাল,স্পন্দন শিশু সংগঠন এর শিল্পী কাকলী রানী মল্লিক,রীতা আচার্য্য,প্রিয়া পাল,জান্নাতুল ফেরদৌস মরিয়ম,শতদল শিল্পীগোষ্ঠীর শতাব্দী তালুকদার জুই,শামীম আহমদ,শর্মিষ্টা চৌধুরী তমা,মনিরুজ্জামান মনির,শিবানী দাস শ্রাবনী,আবীর আহমদ,তন্নী দাস,এমরান হোসেন,মাধুরী তালুকদার,গোলাম রসুল ও আমির হোসেনসহ স্থানীয় শিল্পীবৃন্দ।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ পঞ্চরত্ন বাউলদের সঙ্গীত কর্মের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন,আগামী ২০২০ সালে মুজিববর্ষের শুরুতে আমরা সুনামগঞ্জের ৫ প্রধান লোককবিকে নিয়ে আলাদাভাবে একটি সংস্কৃতি মেলা করবো। সেখানে এই ৫ লোকশিল্পীর গান ও জীবনী নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপনের পাশাপাশি তাদের গান পরিবেশন করা হবে। তিনি বলেন,সুনামগঞ্জে লোকজ সংস্কৃতির অফুরন্ত ভান্ডার রয়েছে। জেলার সকল লোকজ কবি সাহিত্যিক ও সঙ্গীত শিল্পীদেরকে খুজে বের করতে হবে। কাজে লাগাতে হবে সকল সংগীত শিল্পকে। এজন্য জেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাপনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিক বাউল আল-হেলাল বলেন,৫ প্রধান লোককবিকে স্মরণ ও তাদের সঙ্গীতকর্মকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রুপ দিতে জেলা প্রশাসকের সদিচ্ছাকে কাজে লাগিয়ে আমরা সুনামগঞ্জকে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর