শেষ হলো ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা

প্রকাশিত: 1:15 PM, January 15, 2020

শেষ হলো ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা

ডেস্ক প্রতিবেদন : মৌলভীবাজারের শেরপুরে দু’দিনব্যাপী শুরু হওয়া ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা শেষ হয়েছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলে আজ বুধবার ভোররাত পর্যন্ত। কুশিয়ারা নদীর পাড়ে প্রায় ২শ’ বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী এই মেলাটি বসে।

সিলেটের হাকালুকি, টাঙ্গুয়া, কুশিয়ারা নদী, হাইল হাওর, কাউয়াদীঘি হাওর, বড় হাওর, সুরমা ও মনু নদীসহ সিলেট অঞ্চলের প্রাকৃতিক জলাশয়ের মাছ নিয়ে আসেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাওর, নদী, বিলসহ নানা জলাশয়ের মাছ নিয়ে এখানে আসেন ব্যবসায়ীরা। কোথাও তিল পরিমাণ জায়গা খালি থাকে না। সর্বত্র মানুষের আনাগোনা। কেউ মাছ কিনছেন, কেউবা ঘুরে ঘুরে দেখছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, বোয়াল, আইড়, বাঘাইড়, চিতল, কাতলা, বাউশ, কালাবাউশ, রুইসহ ছোট-মঝারি-বড় নানা ধরনের মিঠাপানির সুস্বাদু মাছে ছেয়ে গেছে মেলা। সন্ধ্যার পর বৈদ্যুতিক বাতি আর কুপির আলোয় চকচক করছে বড় বড় রুই-কাতলা কিংবা চিতল-বোয়ালের রুপালি শরীর। পাইকার আর খুচরা ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁক-ডাকে শীতের রাতে সরগরম হয়ে ওঠে কুশিয়ারার পাড়। এর টানে মাছের মেলায় জড়ো হন দেশ-বিদেশের লাখো মানুষ। এটিই এখানকার ঐতিহ্য।

মৌলভীবাজারের জেলা শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে শেরপুরের এই মাছের মেলায় আসা মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে রাত যত গভীর হয় বেচাকেনা ততই বাড়ে। দূরদূরান্ত থেকে মাছ নিয়ে যেমন বিক্রেতারা আসেন, তেমনি আসেন পাইকার ও খুচরা ক্রেতারাও। বড় আকারের বিভিন্ন জাতের অনেক মাছ একসঙ্গে দেখার সুযোগ পেয়ে সাধারণ দর্শনার্থীরাও ভিড় করেন এখানে।

মেলার মধ্যে ঢুকতেই চোখে পড়ে আড়তে আড়তে স্তূপ করে রাখা নানা জাতের মাছ। পাইকার আর খুচরা ক্রেতা বিক্রেতারা নিজেদের মধ্যে দরকষাকষি করছেন। পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী দলা মিয়া বলেন, মাছের মেলা এ অঞ্চলের একটি ঐতিহ্য। মেলাকে কেন্দ্র করে এলাকাটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। বৃহত্তর সিলেটের মধ্যে মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন হাওর-নদীর মাছ ছাড়াও খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, রাজশাহী, চাঁদপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের মাছ এখানে আসে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মতিন জানান, হাজার টাকার নিচে এখানে কোনো মাছ পাওয়া যায় না। ছোট আকারের মাছের দাম ৫-১০ হাজার, মাঝারি সাইজের মাছের দাম ২৫-৩০ হাজার এবং বড় সাইজের মাছের দাম ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত হাঁকানো হয়। এক রাতেই মাছের মেলায় কোটি কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়ে থাকে।

সিলেট থেকে এসেছেন প্রবাসী আমিরুল ইসলাম। ১২ হাজার টাকায় কিনেছেন একটি চিতল মাছ। মৌলভীবাজারের আরেক ক্রেতা সাদিকুর রহমান ২৫ হাজার টাকায় কিনেছেন এ অঞ্চলের বিখ্যাত আইড় মাছ। এ সময় তিনি বলেন, দাম বিষয় নয়। শখটাই বড়। পুরো বছর এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করি। আরেক ক্রেতা আব্দুল হাকিম বলেন, আজকালের ছেলেমেয়েরা মাছ চেনে না। তাদের মাছ চেনাতেই বাজারে নিয়ে এসেছি।

কুশিয়ারা নদীর প্রসিদ্ধ চিতল মাছ মেলায় তুলেছেন শামছুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী। প্রায় ২০ কেজি ওজনের চিতল মাছটির দাম ৩২ হাজার টাকা হাঁকেন তিনি। হাকালুকি হাওর থেকে বিশাল আকারের ১ জোড়া কাতল ও ১ জোড়া বোয়াল নিয়ে এসেছেন হিরা মিয়া ও লাল মিয়া। কাতলের জোড়ার দাম হাঁকছেন ২৬ হাজার এবং বোয়াল জোড়ার দাম হাঁকছেন ৪৮ হাজার টাকা। তারা বলেন, এমন দামের অনেক মাছ রাত ১২টার আগেই বিক্রি হয়ে যায়।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর