সাফল্যের যাত্রায় এগিয়ে চলা রোভারস্কাউট সদস্য চিত্রশিল্পী – সাদিয়া

প্রকাশিত: 9:26 PM, December 21, 2019

সাফল্যের যাত্রায় এগিয়ে চলা রোভারস্কাউট সদস্য চিত্রশিল্পী – সাদিয়া

মিসবাহ উদ্দিন, বিয়ানীবাজার ঃ প্রত্যেক মানুষেরই একটা একটা স্বপ্ন থাকে, সে স্বপ্নকে ধরেই প্রত্যেকে নিজেদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁঁছনোর চেষ্টা করে। আমারও একটা স্বপ্ন আছে। ছোটবেলায় যখন চিত্রাঙ্কন অঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হই, তখন থেকেই এই স্বপ্ন অন্তরে লালন করে আসছি। আর সেটা হলো ভালোমানের একজন চিত্রশিল্পী হিসেবে নিজেকে আলোকিত করে তোলা। এ ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী। সাফল্য আমার আসবেই। কথা গুলি বলছিলাম আপাদমস্তক শিল্পী হয়ে ওঠার প্রত্যয়ী বিয়ানীবাজার উপজেলার পৌর শহরের ব্যংক কর্মকর্তা রহুল আমিন ও লাভলী আক্তার রেলি’ মেয়ে রেজওয়ানা সাদিয়ার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেয়া রেজওয়ানা সাদিয়া পরিবারের ১ ভাই ২ বোনের মধ্যে সে সবার বড় নিজের চঞ্চলতা কে দূর করে স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে । বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের রোভার স্কাউট ইউনিট এর সদস্য একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রেজওয়ানা সাদিয়া লেখাপড়ার পাশাপাশি বিয়ানীবাজার উপজেলায় অবস্থিত চারুলেখা আর্টস্কুলে একজন শিক্ষিকা প্রথম শ্রেণী থেকে লেখা পড়ার পাশাপাশি নিজের মতো করে ছবি আঁকাআঁকি শুরু করেন। মা-বাবার প্রেরনায় চিত্রাঙ্কন জগতে তার প্রবেশ। এরপর দ্বিতীয় শ্রেণীতে থাকাকালীন ভর্তি হন চারুলেখায়। শিক্ষক সাইদুর রহমানের কাছেই তার ছবি আঁকার জীবন শুরু।২০০৮ সনে চারুলেখা আয়োজিত একটি চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশ নেন সাদিয়া।
‘উড়ন্ত পতাকা’ বিষয়ক এই প্রতিযোগিতায় ভুল বুঝে জাতীয় পতাকা এঁকে দেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হতে না পারায় মনের মধ্যে দাগ কাটে লালিত হয় চিত্রশিল্পী হবার ইচ্চা। সেই লালিত স্বপ্ন কে আরো বিশাল করতে ছবি আঁকার প্রতি মনযোগ বেড়ে যায়। এভাবেই রঙ আর তুলির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে সাদিয়ার। নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে থাকেন বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়।২০০৯ সালে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে এবং বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অর্জন করতে সক্ষম হয় । ২০১১ সালে সিলেটে ফেবার ক্যাস্টেল আর্ট প্রতিযোগিতায় সিলেট জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন সাদিয়া। তারপর ২০১৭ সালে গোলাপগঞ্জের দি আর্ট স্কুলে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অর্জন করেন। এভাবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন তিনি। তার সাফল্যের প্রেরনা হিসেবে একাদিক পুরস্কার যুক্ত হয়েছে।
পঞ্চখন্ড গোলাবিয়া পাবলিক লাইব্রেরিতে বিজয় উল্লাস নামক চিত্র প্রদর্শনীতে ‘জয়নুল আবেদীন’, ‘নারী নির্যাতন’, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ’ এবং ‘নিসর্গ প্রকৃতি’ বিষয়ক তার কয়েকটি ছবি স্থান পায় দেয়ালে । এছাড়া গোলাপগঞ্জে দি আর্ট স্কুলে উত্তাল মার্চ প্রদর্শনীতে ‘ফুল বাগান’ এবং ‘কীন ব্রিজ’ নামক তার ছবি স্থান পায়। এই শেষনয় , নৃত্যে শাখায় সাদিয়ার সাফল্য অনেক। ছবি আঁকার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকে নৃত্যের প্রতি তার অন্যরকম অনুরাগ ভালোবাসা । সময় এবং সুযোগ পেলেই নৃত্যচর্চায় ব্যস্ত হয়ে ওঠে সে। বিয়ানীবাজার আদর্শ কিন্ডার গার্টেন, শেখ ওয়াহিদুর রহমান একাডেমি, খলিল চৌধুরী আদর্শ বিদ্যানিকেতন, বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ এবং উপজেলায় নৃত্যের বিভিন্ন ইভেন্টে অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১০ সালে নৃত্য শাখায় সাদিয়ার পদার্পন। টিভিতে নৃত্য দেখে পর্দাপন, তার আগ্রহ দেখে নিকট আত্মীয় এক ফুফু তাকে নৃত্য শেখাতে শুরু করেন। পরে নৃত্যশিল্পী স্বর্ণার কাছে সে পুরোদমে নৃত্য শেখে। বিয়ানীবাজার আদর্শ কিন্ডার গার্টেনে কাব স্কাউট, খলিল চৌধুরী আদর্শ বিদ্যানিকেতনে স্কাউট এবং বর্তমানে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের রোভারিং স্কাউট করছেন সাদিয়া। রোভারিংয়ের মূলমন্ত্র মানবসেবা এই দীক্ষা নিয়ে সে অনেকদূর এগিয়ে যেতে চায়। আন্তর্জাতিক রোভারিং-এ অংশগ্রহণ করার আশাবাদ ব্যক্ত করে সাদিয়া সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
গান নিয়েও তার আগ্রহের কমতি নেই। সুর আর লয়ের খেলায় কিছুদিন বিচরণ করলেও পড়াশোনার চাপে তা আর নিয়মিত করা হয়নি। বর্তমানে পড়ালেখার পাশাপাশি ছবি আঁকা, রোভারিং, আবৃত্তি, অভিনয় এসব বিষয়ে সে বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর ইচ্ছে ভবিষ্যতে বিজ্ঞান বিষয়ে কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করার । তবে বিজ্ঞানবিভাগে সুযোগ না হলে চারুকারু নিয়ে তিনি পড়বেন বলে জানান।এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে সাদিয়া বলেন, ‘মা, বাবা এবং পরিবার-পরিজনের সমর্থন ভালোবাসা থাকার কারণে এতদূর আসতে পেরেছি।’ মায়ের উৎসাহ ও নিরলস পরিশ্রমের কথা স্মরণ করে বলেন ‘মায়ের জন্যই আজকে আমি ছবি আঁকা শিখতে পেরেছি।’শিল্প-সংস্কৃতির শাখায় শুদ্ধচিন্তার একজন চিত্রশিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার শৈশবের লালিত স্বপ্ন আমার।

  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর