সুনামগঞ্জ জেলার তৃণমূলে ৫৭ ডাক্তার নিয়োগ

প্রকাশিত: 1:13 PM, December 12, 2019

সুনামগঞ্জ জেলার তৃণমূলে ৫৭ ডাক্তার নিয়োগ

ডেস্ক প্রতিবেদন :: হাওরাঞ্চলের প্রত্যন্ত জনপদের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ৫৭ জন ডাক্তার পদায়ন করেছেন। আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে এঁদের সকলেরই কাজে যোগদানের শেষ তারিখ। এক সঙ্গে হাওরাঞ্চলে এতো ডাক্তার আগে কখনো পদায়ন হয় নি।

গত ৮ ডিসেম্বর ৫৭ ডাক্তারের পদায়নের আদেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। পদায়নকৃতদের বেশিরভাগকেই থাকতে হবে ইউনিয়ন উপস্থাস্থ্য কেন্দ্রে।
গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের জন্য সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এই লক্ষেই ৩৯ তম (বিশেষ) বিসিএস পরীক্ষার ফলাফল বেরোনোর পর সুনামগঞ্জের স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর শূন্যপদ পূরণের জন্য নতুন ৫৭ জন ডাক্তার পদায়ন করা হয়েছে। এরমধ্যে ৫২ জন সহকারী সার্জন এবং ৫ জন রয়েছেন ডেন্টাল সার্জন। এই ৫৭ জনকেই বাধ্যতামূলক ভাবে (আজ) বৃহস্পতিবারের মধ্যে যোগদানের কথা। তাঁরা স্ব স্ব কর্ম এলাকায় যোগদান করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাকে রিপোর্ট করবেন। সুনামগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুধবার বিকাল পর্যন্ত ৫৭ জনের বেশির ভাগেই যোগদান করেন নি। অবশ্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজকের মধ্যে ডাক্তারদের যোগদান করতে হবে। বিকাল ৫ টার পর যারা যোগদান করেন নি, তাদের তালিকা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জে পদায়নকৃত ডাক্তাররা হলেন- মো. সাইফুর রহমান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দোয়ারাবাজার। আয়েশা আক্তার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, তাহিরপুর। নাহিদ হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ। এসএম ইমরান হাসান সৈকত, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শাল্লা। ফাহমিদা আক্তার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জামালগঞ্জ। সাইম রেজা, গোবিন্দনগর উপস্বাস্থকেন্দ্র, বিশ্বম্ভরপুর। সুমাইয়া আফরিন শান্তা, সালুকাবাদ ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র, বিশ্বম্ভরপুর। আবু জাহিদ মো. মাহমুদ, পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ। মো. নাহিয়ান ফারুক চৌধুরী, পাণ্ডারগাঁও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, দোয়ারাবাজার। মারুফা আক্তার, গৌরারং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, সদর, সুনামগঞ্জ। সিফাত আরা সামরিন, দোহালিয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্র, দোয়ারাবাজার। ফারজানা আক্তার, চরমহল্লা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ছাতক। লুৎফুন নাহার, মান্নারগাঁও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, দোয়ারাবাজার। মো. বদিউল আলম ভুঞা রঙ্গারচর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, সুনামগঞ্জ সদর।

প্রিয়াংকা আচার্য দরগাপাশা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ। মো. রায়হান উদ্দিন, ইসলামপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ছাতক, মো. আশিকুর রহমান আদিত, ভাটিপাড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, দিরাই। নিরুপম রায় চৌধুরী ও সালমা বেগম উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স, শাল্লা। ফাহমিদা ওয়াফা, মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, সুনামগঞ্জ সদর। ফয়েজ আহমদ হাসান, বালিজুরি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, তাহিরপুর। মো. আনোয়ার জাহিদ সরকার, চামারদানী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ধর্মপাশা। মো. সফিকুল ইসলাম, জয়কলস ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ।

এসএম মুনিরা, লক্ষীপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, দোয়ারা। উম্মে তানিয়া সুলতানা, মোহনপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, দোয়ারাবাজার। সৈয়দ মো. জোবায়ের, বুধরাইল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, জগন্নাথপুর।

মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, রানীগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, জগন্নাথপুর। কুশল চক্রবর্তী, উত্তর খুরমা ইউনিয়ন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার ক্যলাণ কেন্দ্র, ছাতক। মাহমুদা বেগম, বিল্লাই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ছাতক। জাহানারা আরজু, বাদাঘাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, তাহিরপুর। মারুফ আহমেদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জগন্নাথপুর। সানজিদা তাওরিন, ফেনারবাক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, জামালগঞ্জ। মো. সজীব কবির ভুঁইয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ।

আব্দুল্লাহ আল সাকী, ধনপুর ইউনিয়ন সেন্টার, বিশ্বম্ভরপুর। বর্ষা চক্রবর্তী, তাড়ল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, দিরাই। সাবিনা ইয়াসমিন, শ্রীপুর (উত্তর) ইউনিয়ন সেন্টার, তাহিরপুর। মো. আবু সাঈদ, সোনারবাংলা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, জামালগঞ্জ। স্বপন সরকার, জগদল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, দিরাই। ফাতিমা আক্তার, পাথারিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ।

মুক্তাদির হোসেন, বংশিকুন্ডা (উত্তর) ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ধর্মপাশা।

স্নিগ্ধা তালুকদার, কামারখাল উপস্থাস্থ কেন্দ্র, জগন্নাথপুর। আফরোজ জাহান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জগন্নাথপুর। আয়েশা ফারহানা, দরগাপাশা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ। জয়ন্ত চক্রবর্তী, রফিনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র দিরাই। দেবাশিষ নাথ, বাংলাবাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, দোয়ারাবাজার। মানস তালুকদার, ছাতক সদর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ছাতক। খোকন চন্দ্র সাহা, বাংলাবাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, জগন্নাথপুর। মো. জাহিদুল হাসান, জহিরপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, জগন্নাথপুর।

সুপ্রিয়া রানী রায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জগন্নাথপুর। মো. নুরুল হুদা মজুমদার, শাল্লা ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, শাল্লা। যুথি দাস, পাগলা উপস্বাস্থ কেন্দ্র, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ। মির্জা মোর্শেদা, হবিবপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, শাল্লা।, মৌমিতা চৌধুরী, বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, বিশ্বম্ভরপুর। ইসরাত জাহান, ছৈলা আফজালাবাদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ছাতক। ইসরাত জাহান লুবনা, হলদিপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, জগন্নাথপুর। মাকসুদা আক্তার রিমি, হাসান ফাতেমাপুর উপস্থাস্থ্য কেন্দ্র জগন্নাথপুর, দেলোয়ারা ইয়াসমিন, পাটলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, জগন্নাথপুর এবং নুসরাত খান, সাচনাবাজার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, জামালগঞ্জ।

সকলেরই আজ (বৃহস্পতিবার) যোগদানের শেষ তারিখ। বিকাল ৫ টার মধ্যে যোগদান করার কথা তাঁদের। যোগদান না করলে বিকালেই সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর নির্দেশনা রয়েছে।
টিআইবি’র সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)’এর সদস্য শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে বলেন, আমরা মনে করছি গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সুনামগঞ্জের সন্তান মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি, মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং সুনামগঞ্জের সন্তান পিএসসি চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক’এর প্রচেষ্টায় হাওরাঞ্চলে একসঙ্গে ৫৭ জন ডাক্তারের পদায়ন হয়েছে। আমার জানামতে এর আগে কখনোই একসঙ্গে এতো ডাক্তার পদায়ন হয় নি। আমরা আশা করছি নতুন নিয়োগ হওয়া মেধাবী এই তরুণ-তরুণিরা গ্রামের মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করণের লক্ষে কাজ করবেন। তাঁরা সকলেই যথাসময়ে যোগদান করবেন। সর্বোচ্চ মেধা-শ্রম মানুষের ক্যালণে নিবেদিত করবেন।

সনাক, সুনামগঞ্জের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট খলিল রহমান মনে করেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজকর্মী ও গণমাধ্যম কর্মীরদের এই চিকিৎসকদের নানাভাবে সহযোগিতা করতে হবে। একইসঙ্গে তাঁরা কর্মস্থলে না থাকলে বা চিকিৎসা প্রদানে অবহেলা করলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম মহিম নতুন পদায়ন হওয়া ডাক্তারদের ভালো কাজ গণমাধ্যমে তুলে ধরা এবং যারা অনুপস্থিত থাকেন, দায়িত্বে অবহেলা করেন, তাঁদের বিষয়টিও গণমাধমের মাধ্যমে তুলে ধরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কাজ গণমাধ্যম কর্মীরা করতে পারেন বলে মন্তব্য করেন।

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাস বলেন, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে একসঙ্গে এতো ডাক্তার এর আগে কখনোই পদায়ন হয় নি। আজ পদায়নকৃত ডাক্তারদের যোগদানের শেষ তারিখ। বিকাল ৫ টার মধ্যে যোগদান না করলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। তিনি জানান, পদায়নকৃত ডাক্তারদের যোগদানের পর থেকে ২ বছর কর্মস্থলে কাজ করতেই হবে। এর আগে কারও বদলী কিংবা উচ্চতর ডিগ্রী বা প্রশিক্ষণ নেবার জন্যও কর্মস্থল ত্যাগের সুযোগ নেই।

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর