পলাশের কারণে দুই উপজেলার মানুষজন জিম্মি

প্রকাশিত: 7:15 PM, October 4, 2019

পলাশের কারণে দুই উপজেলার মানুষজন জিম্মি

ডেস্ক প্রতিবেদন :::
কানাইঘাটের শতাধিক আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী ও মুক্তিযোদ্ধা এক যুক্তবিবৃতিতে জানিয়েছেন কানাইঘাট উপজেলার জুলাই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান ওরফে বারহালী মিয়াছাব’র পুত্র মস্তাক আহমদ পলাশ প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোক নন। তিনি একাত্তরের কুখ্যাত এক রাজাকারের পুত্র। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার পিতা আব্দুল মান্নান ছিলেন আলবদর বাহিনীর সশস্ত্র কমান্ডার ও পাকহানাদার বাহিনী গঠিত শান্তি কমিটির শীর্ষ নেতা। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে মস্তাক আহমদ পলাশ বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব পলাতক হারিস চৌধুরীর ঘনিষ্টজন ছিলেন। এ কারণে ২০০৫ সালে তাকে কানাইঘাটের সাতবাক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কারও করা হয়েছিল। কালক্রমে তিনি রাজনৈতিক খোলস পাল্টিয়ে সম্পূর্ন যোগাযোগী মূলে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক পদ আঁকড়ে ধরে দলের নামে নানা অপরাধ-অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের প্রভাব খাটিয়ে দুইবার সাতবাক ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাতি হন। সরকারী দল আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে ও দলের প্রভাব খাটিয়ে মস্তাক আহমদ পলাশ কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ আওয়ামী লীগকে কোনঠাসা করে রেখেছেন। সরকার দলীয় চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে তিনি এই দুই উপজেলায় জনহয়রানী ও মামলা-হামলার মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছেন। স্থানীয় প্রশাসনকে জিম্মি করে গ্রেফতার,মামলা ও তদবীর বানিজ্য করে অবৈধ পন্থায় কোটি কোটি টাকা কামাই করে নিজ এলাকা কানাইঘাটে এবং সিলেট নগরীতে গাড়ি-বাড়িসহ বহু বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন। দলের প্রভাব খাটিয়ে কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার সকল জলমহাল পাথর মহাল নিজের নিয়ন্ত্রন ও দখলে নিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাত করেছেন।
বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ, অঙ্গ সংগঠনের ও মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ নেতৃবৃন্দ বলেন, মাত্র ১৭শতক পৈত্রিক ভূমির মালিক মস্তাক আহমদ পলাশ আওয়ামীগের নাম ভাঙ্গিয়ে এখন শত শত কোটি টাকার মালিক। মস্তাক আহমদ পলাশের নিজস্ব একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। এই বাহিনী দিয়ে টেন্ডারবাজি ও জুলুম নির্যাতন চালিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষদের জিম্মি করে রেখেছেন। তার কারণে কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ দুই উপজেলায় সরকার ও সরকারী দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মস্তাক আহমদ পলাশ রাজাকার পুত্র ও নিছক একজন রাজাকার প্রজন্ম। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে। সরকার দল আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের সাথে বিদ্রোহ করে মস্তাক আহমদ পলাশ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে সরকার ও সরকারী দলকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছেন। তার এহেন আষ্ফালন বহাল থাকলে অচিরেই কানাইঘাট উপজেলা এমনকি পুরো জেলায় সরকার ও সরকারী দল চরম ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বিবৃতিতে তারা সাবেক চেয়ারম্যান মস্তাক আহমদ পলাশকে সমস্ত্র সন্ত্রাসী, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী এবং সরকারী অর্থ আত্মসাতকারী আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
বিবৃতি দাতারা হলেন- রফিক আহমদ সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক (সচিবি দায়িত্বপ্রাপ্ত), কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগ, এডভোকেট আব্দুস সাত্তার যুগ্ম আহ্বায়ক উপজেলা আওয়ামী লীগ, ফকর উদ্দিন শামীম যুগ্ম আহ্বায়ক কানাইঘাট আওয়ামী লীগ, এডভোকেট মামুন রশীদ যুগ্ম আহ্বায়ক কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগ, জালাল উদ্দিন যুগ্ম আহ্বায়ক কানাইঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগ, এইচ এম আব্দুল্লা সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পৌর আওয়ামী লীগ, যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল আহমদ, নছির আহমদ, সাহেদ আহমদ, সিরাজুল ইসলাম খোকন সাবেক সভাপতি কানাইঘাট বাজার সমিতি, আব্দুল হেকিম শামীম সাবেক সদস্য জেলা যুব লীগ, সদস্য এডভোকেট ফখরুল ইসলাম, এডভোকেট আব্দুল খালিক, এডভোকেট ইয়াহিয়া, জালাল উদ্দিন, হেলাল উদ্দিন, মাসুক আহমদ সাবেক আহ্বায়ক যুগলীগ, নুরুল হক মেম্বার, আলাউদ্দিন চেয়ারম্যান, আবুল হারিছ, মৌলভী ফজলে হক সাবেক চেয়ারম্যান, মাস্টার মর্তুজ আলী মেম্বার, সোহেল আহমদ মেম্বার, এডভোকেট অরুন কুমার দাশ, জাকারিয়া আহমদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী বাবুল, বীর মুক্তিযোদ্ধা সামছুল হক, আলীম উদ্দিন মেম্বার, বোরহান উদ্দিন মরির, এডভোকেট আসিক উদ্দিন, এডভোকেট আলাউদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক চেয়ারম্যান শফিক আহমদ, নূর উদ্দিন কুটি রেজা, অলিউর রহমান ম্যানেজার, আলাউদ্দিন মেম্বার সভাপতি ৮নং ইউপি সভাপতি, হবিব আহমদ সাধারণ সম্পাদক ৮নং ইউপি, আব্দুল খালিক সাধারণ সম্পাদক ২নং ইউপি, শহীদ আহমদ সাধারণ সম্পাদক ৯নং ইউপি, আলী হোসেন কাজ সভাপতি দিঘিরপার ইউপি, আব্দুল বাছিত সাধারণ সম্পাদক দিঘির পার ইউপি, মাস্টার মামুন আহমদ সভাপতি সদর ইউপি, তাজউদ্দিন সাধারণ সম্পাদক সদর ইউপি, কয়ছর রশীদ চৌধুরী সভাপতি ১নং ইউপি, আম্বিয়া সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, রাসেল সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, মাসুক আহমদ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক, আজমল সাবেক আহ্বায়ক কানাইঘাট স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আব্দুল অদুদ আহ্বায়ক কানাইঘাট স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জহির উদ্দিন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কানাইঘাট স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আবুল আহাদ সভাপতি কৃষক লীগ, শাহাব উদ্দিন চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক কৃষক লীগ কানাইঘাট, হারিছ সাধারণ পৌর কৃষক লীগ, কাওসার সাধারণ সম্পাদক পৌর কৃষক লীগ, আলমগীর সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক লীগ, আকতার হোসেন সভাপতি কানাইঘাট ছাত্রলীগ, নোমান সভাপতি কানাইঘাট পৌর ছাত্র লীগ, আব্দুর রহমান সভাপতি কানাইঘাট সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ, আছাদ উদ্দিন ছাত্রনেতা, দেলোয়ার ছাত্রনেতা, এমাদুর রহমান মুজাহিদ যুবনেতা, মাহবুব চৌধুরী মুক্তিযোদ্ধা সন্তান, নজমুল হক সাবেক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান, বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা উমর আলী, বীরমুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহিম, বীরমুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান মানিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন (গাসই), বীর মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুল, বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান প্রমুখ।
বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে মিথ্যা বিবৃতি দেওয়ায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ।

  •  

সর্বশেষ ২৪ খবর