ঢাকা |
প্রকাশিত: 6:41 PM, June 25, 2026
মো আব্দুল শহীদ সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ দীর্ঘ প্রায় সাঁতশত বছর পূর্বে ৩৬০ আউলিয়ার মধ্যে অন্যতম সাধক হযরত শাহ আরেফিন (রাঃ) আলাইহি ভারতের সিলং জেলার ঘুমাঘাট থানার নলিকাতা মেঘালয়ের পাদদেশে পাথরের মধ্যে সাঁতগুহা নামক স্থানে উনার আস্তানা। কিন্তু
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের অর্ন্তগত লাউড়েরগড় শাহিদাবাদ সীমান্তে স্থানীয় একটি কু-চক্রী মহল হযরত শাহ আরেফিন (রাঃ) আলাইহির নামে মোকাম আস্তানায় দানবাক্স তৈরি করে।
সেখানে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন শ্রেণীপেশার আশিকান ভক্তবৃন্দরা মাজারের যৌথ একাউন্টে টাকা পাঠান আবার নিজেরাও নগদ টাকা পয়সা,গরু,মহিষ,ছাগল,হাস,মুরগী,সোনা,রুপা ইত্যাদি সঙ্গে নিয়ে হযরত শাহ আরেফিন (রাঃ) আলাইহির আস্তানায় মানত করতে আসা ভক্তবৃন্দদেরকে আস্তানা-মোকামের নিয়োগকৃত ১৭ জন খাদেম এবং ৫২ জন ভলান্টিয়ার তাদের তৈরি আস্তানার দানবাক্সে দান ও মানত করার পরামর্শ দেন। পরে ভক্তবৃন্দরা মূল আস্তানা ভারতের পাদদেশের সাতগুহায় না যেতে পেরে হযরত শাহ আরেফিন (রাঃ) মোকাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলম ছাব্বির এবং খাদেম আব্দুল করিম,জমাদর আলী ও হাসেন আলীর জিম্মায় দিয়ে যান। এভাবেই বছরের পর বছর প্রতারিত হচ্ছেন ভক্তবৃন্দরা।
স্থানীয় আশেকান ভক্ত মো জসিম উদ্দিন বলেন, ১৯৮৯ সালে আমি পুরান লাউর মোকসেদপুর যৌথ সমাজ কল্যাণ হযরত শাহ আরেফিন (রাঃ) আলাইহি যুব সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলাম। তৎকালীন মোকামের সভাপতি ছিলেন বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীন সাহেব। উনার আমলে মোকামের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছিল এবং মোকামের বার্ষিক আয় ব্যয়ের টাকা পয়সা পাই পাই করে কমিটি ও ভক্তবৃন্দদেরকে বুঝিয়ে দিতেন। আমি ঐ সংঘটনের সভাপতি থাকাকালিন অবস্থায় মোকামের সার্বিক উন্নয়ন দেখে বর্তমান কমিটির সেক্রেটারী আলম ছাব্বির আমাকে সরিয়ে দিতে বিভিন্নভাবে হয়রানির এক পযার্য়ে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় জড়ায়। পরে আমি মানসম্মানের ভয়ে স্বেচ্ছায় আস্তানা-মোকাম থেকে সরে আসি। তখন মোকামের ফান্ডে জমা ছিল সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা। প্রত্যেক বছরের চৈত্র মাসে শাহ আরেফিন (রাঃ) আলাইহির মোকামে বার্ষিক ঔরস মোবারক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রায় অস্থায়ী পাঁচ শতাধিক দোকান বসে। মোকাম কমিটির সেক্রেটারী আলম ছাব্বির নিয়োগকৃত খাদেমগণ ও ভলান্টিয়ারা প্রতি দোকান থেকে ১০০০/১৫০০ টাকা ভাড়া নেন। ভাড়ার টাকা, দানবাক্সের টাকা,গরু,মহিষ,ছাগল,হাস,মোরগ,স্বর্ণ-রুপার প্রায় অর্ধ কোটি
টাকা জমা রাখা হয় সেক্রেটারী আলম ছাব্বির এর কাছে। সব মিলিয়ে আয় থেকে খরচ হয় প্রায় দেড় দুই লক্ষ টাকা কিন্তু ব্যয় দেখানো হয় ৮/৯ লক্ষ টাকা। সারা বছরে মোকামের আয় হয় প্রায় অর্ধ কোটি টাকা কিন্তু বর্তমান কমিটির সেক্রেটারী কমিটিকে হিসেব দেখায় বার্ষিক আয় হয়েছে ১২/১৩ লক্ষ টাকা,বাকি টাকা আত্মসাৎ। আসলে হযরত শাহ আরেফিন (রাঃ) মূল আস্তানা সাতশত বছর আগেও ছিল ভারতের মেঘালয়ের পাদদেশে এবং বর্তমানেও সেখানেই আছে। কিন্তু একটি মহল লাউড়েরগড় শাহিদাবাদ সীমান্তে আস্তানা তৈরি করে মোকামের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভক্তবৃন্দের সাথে চরম প্রতারণা করছে। মোকামের বার্ষিক অর্থ আত্মসাত ও লুটপাটের ঘটনায় আমি মোকামের দানবাক্সে তালাবদ্ধ করেছিলাম। পরে বিষয়টি স্থানীয় এমপি এবং প্রশাসনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। মোকামের অর্থ উদ্ধার সহ যাবতীয় কার্যক্রম প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য আমরা জোর দাবি জানাই।
হযরত শাহ আরেফিন (রাঃ) মোকামের ভক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী শাহেদ মিয়া বলেন,প্রতি বছরেই শাহ আরেফিন (রাঃ) মোকামে ঔরস মোবারক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেশ বিদেশ থেকে আশিকান ভক্তবৃন্দরা মোকামের একাউন্টে লক্ষ লক্ষ টাকা অনুদান দেয় এবং গরু,মহিষ,ছাগল,বেড়া,মোরগ,হাস,সোনা,রুপা ইত্যাদি নিয়ে নিজেরাও আসেন। কিন্তু মূল আস্তানায় না যেতে পেরে সেক্রেটারী এবং খাদেমের জিম্মায় দান সদকা রেখে যান। মোকামের আস্তানার দানবাক্সের টাকা মাসে ২ বার খুলেন সেক্রেটারী সাহেব।
সঠিক ভাবে কোন ধরনের আয় ব্যয়ের হিসেব পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের জোর দাবি যেন মোকামের যাবতীয় কার্যক্রম প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
খাদেম আব্দুল করিম,জমাদর আলী,হাসেন আলী বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছর যাবৎ এই মোকামের খেজমত করে আসছি। ভক্তবৃন্দরা মোকামে গরু,মহিষ,ছাগল,হাস,মোরগ,সোনা,রুপা নগদ টাকা পয়সা যা পাই সবই আলম ছাব্বির এর কাছে জমা দেওয়াই আমাদের কাজ। এর চেয়ে আর বেশি কিছু জানি না।
মোকাম পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারী মো আলম ছাব্বির জানান, দীর্ঘ ২২ বছর যাবৎ আমি সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করে আসছি। নিজের পকেটের অর্থ ব্যয় করে বাবার খেজমত করছি। মূল আস্তানা ভারতের মেঘালয়ের পাদদেশে জানতে চাইলে তিনি প্রশ্নের জবাবে আরো বলেন, আমি এতো সব জানি না তবে জন্মের পর থেকেই দেখছি মোকাম আস্তানা লাউড়েরগড়ে আর ভক্তবৃন্দরা ওখানেই সদকা,দান কয়রাত করে যান। ফান্ডের অর্থ আত্মাসাতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউএনও মহোদয়ের উপস্থিতিতে দানবাক্সের টাকা গুনা হয়। মোকামের যৌথ একাউন্টে ২ লক্ষ ৮৬ হাজার ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে। বার্যিক ১২/১৩ লক্ষ টাকা আয় হয় এবং ব্যয় ৭/৮ লক্ষ টাকা। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর মোকামে অনেক গুলো স্থাপনা তৈরি করেছি। যা পূর্বে কেউ করতে পারেনি। খরচের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন ভাউচার দেখাতে পারেননি। কোন কোন খাতে অর্থ ব্যয় হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা মো মেহেদী হাসান মানিক বললেন,তাহিরপুরে যোগদান করার পর থেকে আমি একবার শাহ আরেফিন (রাঃ) আস্তানা মোকামে গিয়ে দানবাক্স খুলে ১ লক ১৬ হাজার পেয়েছিলাম। সেগুলো মোকামের যৌথ একাউন্টে রাখা হয়েছে। মোকামের টাকা আত্মসাৎ এর বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host