ঢাকা |
প্রকাশিত: 6:52 PM, June 25, 2026
আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পালিত হবে। এ উপলক্ষে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) এলাকায় ৭৬ হাজার ৩৯০ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ক্যাম্পেইন সফল করতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার নগরভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক বলেন, “আমরা শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি থেকে শুরু করে সমাজকল্যাণমূলক সব কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করি। প্রতিবারের মতো এবারও সবার সহযোগিতায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে চাই।”
ক্যাম্পেইন সম্পর্কে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানান। পাশাপাশি জুমার খুতবায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের গুরুত্ব তুলে ধরে মুসল্লিদের সচেতন করতে নগরীর মসজিদগুলোর ইমামদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, “বিশেষ জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট এ ধরনের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে ব্যর্থতার কোনো সুযোগ নেই। অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সফল হতে হবে।”
সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধে দেশে নিয়মিতভাবে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়ে থাকে। সাধারণত বছরে দুইবার ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।
তিনি বলেন, আগামী ২৮ জুন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সিসিক এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। কোনো শিশু ওইদিন ক্যাপসুল গ্রহণ করতে না পারলে পরবর্তী এক সপ্তাহ নির্ধারিত কেন্দ্র থেকে তা গ্রহণ করতে পারবে।
ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
তিনি আরও জানান, ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে ৮৪ জন সুপারভাইজারের তত্ত্বাবধানে মোট ৩৬৮টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১টি ইপিআই স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র, ২৫৯টি ইপিআই অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র, ৮৩টি ভিটামিন ‘এ’ অস্থায়ী কেন্দ্র এবং ২৫টি অতিরিক্ত কেন্দ্র রয়েছে। এ কার্যক্রমে মোট ৭৩৬ জন স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করবেন।
ক্যাম্পেইনের আওতায় মোট ৭৬ হাজার ৩৯০ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৮ হাজার ১১৪ জন শিশুকে একটি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৬৮ হাজার ২৭৬ জন শিশুকে একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত শিশুদের মধ্যে ৭৬ হাজার ৩৩০ জন স্বাভাবিক শিশু এবং ৬০ জন প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host