ঢাকা |
প্রকাশিত: 6:21 PM, August 10, 2026
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার খাসিয়ামারা নদীতে জমে থাকা বালু ডেসপাস করে উত্তোলনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ রাবারড্যামটি রক্ষায় পরিকল্পিতভাবে এ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে দীর্ঘদিন ধরে খাসিয়ামারা নদীর বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ বালু জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে পড়েছে। এতে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি রাবারড্যামের কার্যক্রম ও স্থায়িত্ব নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এ অবস্থায় নদী থেকে জমে থাকা বালু ডেসপাসের মাধ্যমে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নৌ-শ্রমিক তাজুল ইসলাম বলেন, খাসিয়ামারা নদীতে সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের সঙ্গে হাজার হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবার জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে তারা জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। সনাতন পদ্ধতিতে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে রাবার ড্যাম রক্ষায় পাইপের মাধ্যমে নৌকায় বালু লোড করা হচ্ছে। এতে একদিকে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও জীবিকা নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে পরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে রাবারড্যামও নিরাপদ থাকছে।
বালু ব্যাবসায়ী করিম মিয়া বলেন, নদীতে বালু উত্তোলনের কারণে আমাদের নৌযান চলাচল ও কাজের পরিবেশ অনেকটাই সহজ হয়েছে। তবে বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও রাবারড্যামের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। সঠিকভাবে ডেসপাস কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে একদিকে নদীর নাব্যতা বজায় থাকবে, অন্যদিকে রাবারড্যামও সুরক্ষিত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নদীর নির্দিষ্ট স্থান থেকে নিয়ম মেনে বালু উত্তোলন ও ডেসপাস করা হলে একদিকে নদীর নাব্যতা ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে, অন্যদিকে রাবার ড্যামকে অতিরিক্ত বালুর চাপ ও ক্ষতির ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিকল্পিতভাবে বালু অপসারণের কারণে নদীর পানি চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনেও সুবিধা হবে। পাশাপাশি রাবারড্যাম সচল থাকলে কৃষিকাজে সেচ সুবিধা অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি হবে। তবে নদী ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত স্থান, পরিমাণ ও নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, অবৈধ বা অতিরিক্ত বালু উত্তোলন নয়, বরং রাবারড্যাম ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ও নিয়ন্ত্রিত ডেসপাস কার্যক্রমই অব্যাহত থাকবে।
খাসিয়ামারা নদীর ইজারাদার মোঃ হারুণ-অর-রশিদ বলেন, খাসিয়ামারা নদীতে বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর নিয়ম মেনেই শ্রমিকরা
বালু উত্তোলন করছে। পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের সঙ্গে স্থানীয় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও তাদের পরিবার পরিজন অতপ্রতভাবে জড়িত রয়েছে। ডেসপাসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বালু অপসারণের ফলে নদীর নাব্যতা বজায় রাখার পাশাপাশি রাবারড্যামের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। আমরা রাবারড্যামের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, খাসিয়ামারা নদীতে বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে নদীর নাব্যতা, পরিবেশ এবং রাবারড্যামের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ডেসপাস কার্যক্রমের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হলেও কোনোভাবেই যাতে রাবারড্যামের ক্ষতি বা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে। প্রকট শব্দ দূষণের বিষয়ে ভূমি কর্মকর্তার মাধ্যমে একটি টিম দু এক দিনের মধ্যে সরেজমিন গিয়ে তদন্ত করবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়ম মেনে খাসিয়ামারা নদীর জমে থাকা বালু অপসারণ করা গেলে রাবারড্যাম রক্ষার পাশাপাশি নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host