শাল্লার আলোর দিশারী সীমান্ত তালুকদার এবার জেলা পর্যায়ে সম্মানিত ‘গুণী শিক্ষক’

প্রকাশিত: 8:55 PM, September 23, 2026

শাল্লার আলোর দিশারী সীমান্ত তালুকদার এবার জেলা পর্যায়ে সম্মানিত ‘গুণী শিক্ষক’

তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জঃ

নিজের মেধা, নিষ্ঠা ও ভালোবাসায় প্রতিনিয়ত শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত হয়ে আগেই শাল্লাবাসীকে গর্বিত করেছিলেন। এবার সুনামগঞ্জ জেলা পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক’ হিসেবে মনোনীত হয়ে সেই অর্জনের মুকুটে যোগ করলেন আরও একটি উজ্জ্বল পালক।

তিনি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার শান্তিপুর ইসলামিয়া মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সীমান্ত তালুকদার। ধারাবাহিকভাবে পাওয়া এই অর্জন শাল্লার শিক্ষা অঙ্গনসহ পুরো উপজেলায় এনে দিয়েছে আনন্দ ও গৌরবের বন্যা।

গত ২১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রেরিত এক চিঠিতে সীমান্ত তালুকদারকে জেলা পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক’ হিসেবে মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সাথে পরামর্শক্রমে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রাপ্ত তালিকার মধ্যে মোট ৩৩ জন শিক্ষককে জেলা পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক’ হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
যার মধ্যে অন্যতম নাম সীমান্ত তালুকদার। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহন লাল দাস স্বাক্ষরিত উক্ত চিঠিতে মনোনীত শিক্ষকদের তথ্য চূড়ান্ত যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা পর্যায় পেরিয়ে আজ জেলা পর্যায় থেকে পাওয়া এই বড় স্বীকৃতি শাল্লার প্রতিটি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের হৃদয়ে এনে দিয়েছে এক অপার আনন্দ। স্থানীয়রা বলছেন, এটি কেবল সীমান্ত তালুকদারের একক অর্জন নয়, পুরো শাল্লার শিক্ষা অঙ্গনের জন্যই এক বিরাট সম্মান।

এমন আবেগঘন মুহূর্তে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে গুণী শিক্ষক সীমান্ত তালুকদার বলেন, “আমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সাধারণ শিক্ষক। আমার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ইতিপূর্বে আমি শাল্লা উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলাম। আজ জেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষকের তালিকায় স্থান পাওয়া আমার জন্য এক পরম আশীর্বাদ ও অসীম আনন্দের। আমি মনে করি, স্বীকৃতি কেবল সম্মাননা নয়—এটি দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে দেয়, আরও ভালো কাজ করার এবং নিজের সীমাকে অতিক্রম করার প্রেরণা জোগায়।”
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “যাঁরা আমাকে এই দীর্ঘ পথচলায় উৎসাহ, সাহস ও ভালোবাসা দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।

এই সম্মাননা আমার একার নয়; এর পেছনে জড়িয়ে আছে আমার পরিবারের ভালোবাসা, সহকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং প্রিয় শাল্লাবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন। তাই আমার এই অর্জন আমি আমার পরিবার এবং প্রাণের শাল্লাবাসীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধায় উৎসর্গ করছি।

সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন জীবনের শেষদিন পর্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করে যেতে পারি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর