বিএনপি কার্যালয়ের ল্যাপটপ চুরির মামলায় এম এ মান্নানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

প্রকাশিত: 8:18 PM, October 31, 2026

বিএনপি কার্যালয়ের ল্যাপটপ চুরির মামলায় এম এ মান্নানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
নিজস্ব প্রতিবেদকঃসুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় বিএনপির একটি কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে মামলায় সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী ও স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মান্নানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

উপজেলার মীরপুর বাজারে ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুরের এ মামলায় এম এ মান্নানসহ সহ ৯৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে।

গত ৩১ জুলাই জগন্নাথপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অনিক পাল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরআগে ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর জগন্নাথপুর থানায় এই মামলা দায়ের করা হয়। ওইদিনই হামলার ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানকে ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি এবং ঘটনার প্রধান ষড়যন্ত্রকারী ও উসকানিদাতা হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

মামলার বাদী মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: আব্দুর নূরের দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতাকর্মী বাজারে সংঘবদ্ধ হয়ে ক্রমাগত উসকানিমূলক পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টার দিকে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মীরপুর বাজারে অবস্থিত বিএনপি কার্যালয়ে তাণ্ডব চালায়।

চার্জশিটে বলা হয়, ১৭ নভেম্বর রাতের এই হামলায় ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান (৭২)-এর নির্দেশ ও প্ররোচনা ছিল। ‘অপরাধের রূপরেখা তৈরির’ দায়ে সাবেক এই মন্ত্রীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

তদন্তে প্রাপ্ত প্রমাণের দাবি করে পুলিশ চার্জশিটে উল্লেখ করেছে, মান্নানের সবুজ সংকেত ও প্ররোচনাতেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালায়।

চার্জশিটের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় কার্যালয়ের ভেতরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়। এর মধ্যে মামলার ৩৫ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি মীরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জামিল হোসেন ইফতি (২৪) বিএনপির কার্যালয় থেকে ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ল্যাপটপ চুরি করে নেন। এছাড়া ২৫ নম্বর আসামি নুর মোহাম্মদ জুয়েল অফিসকক্ষে থাকা ২০,০০০ টাকা মূল্যের একটি ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি চুরি করেন। দ

হামলার সময় ১১ নম্বর আসামি আব্দুস সালাম রিজভি পেট্রোলিয়াম বা দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে অফিসে আগুন ধরিয়ে দেন এবং অন্যান্য আসামিরা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিসহ দলীয় প্রতীক ও জাতীয় পতাকায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালান।

চার্জশিটভুক্ত মোট ৯৯ জন আসামির মধ্যে এক নম্বর এজাহারনামীয় আসামি সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ মোট ৪৯ জন আসামি আদালত থেকে জামিন লাভ করেছেন। সরাসরি হিংসাত্মক হামলায় অভিযুক্ত ২ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি রেজাউল করিম রিজু এবং ৭ নম্বর আসামি আব্দুস সহীদ মেম্বার বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন। ল্যাপটপ ও টিভি চুরির সাথে জড়িত জামিল হোসেন ইফতিসহ মোট ৪৮ জন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর থানার ওসি মোখলেছুর রহমান জানান, তিনি গতকালই যোগদান করেছেন এই চার্জশীটের বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে অভিযোগপত্রটি দেখে বিস্তারিত জানাতে পারবেন বলে জানান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর