শাহজালাল জামেয়া মেধা, মনন ও নৈতিকতায় আদর্শ মানুষ গড়ার প্রত্যয়

প্রকাশিত: 7:34 PM, October 31, 2026

শাহজালাল জামেয়া মেধা, মনন ও নৈতিকতায় আদর্শ মানুষ গড়ার প্রত্যয়

জে. এ কাজল খানঃ
মেধার লালন, প্রতিভার বিকিরণ এবং নৈতিক উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলছে সিলেটের পাঠানটুলায় অবস্থিত শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল (এম.এ) মাদ্রাসা।

 

সাধারণ ও বিজ্ঞান বিভাগসহ বহুমুখী শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।


শিশু শ্রেণি (নার্সারি) থেকে কামিল স্নাতকোত্তর পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগ রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানে। পাশাপাশি মহিলা বিভাগে জামেয়া-৫ থেকে জামেয়া-১০ পর্যন্ত এবং আলিম, ফাজিল স্নাতক ও কামিল স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ছাত্রীদের অধ্যয়নের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।


শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল (এম.এ) মাদ্রাসা কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; বরং শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি মানবিকতা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যাপীঠ। এখানকার শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষা শেষে বাস্তব জীবনে যোগ্য, দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, সে লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। এ প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মজীবনে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছেন।


পাঠ্যশিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম
শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে নিয়মিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে উৎসাহিত করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় ও সরকারি দিবসগুলো যথাযথভাবে পালনের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা রয়েছে।


প্রতি বছর সিরাতুন্নবী মাহফিল ও ইসলামী মহাসম্মেলনের আয়োজন করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এসব অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার, আলেম ও বিশেষ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার জন্য জ্ঞানচর্চা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করে।

শিক্ষার মান ও ফলাফলে সাফল্যের প্রত্যাশা
শিক্ষার মান, নিয়মশৃঙ্খলা ও ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে সিলেটের শিক্ষাঙ্গনে প্রতিষ্ঠানটি আলোচিত। সংশ্লিষ্টদের দাবি, চূড়ান্ত পরীক্ষাগুলোতে শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জনের মধ্য দিয়ে জামেয়া ইতোমধ্যে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে। তবে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক, মানবিক ও সামাজিক গুণাবলির বিকাশকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।


শিক্ষার্থীদের আবাসন ও উন্নত পরিবেশ নিশ্চিতের উদ্যোগ
আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি আন্তরিক। শিক্ষার্থীদের আবাসনসুবিধা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বর্তমানে খোলামেলা ও মনোরম পরিবেশে বহুতলবিশিষ্ট ছাত্রাবাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাত্রাবাস নির্মিত হলে শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট নিরসনের পাশাপাশি পড়াশোনার জন্য আরও উন্নত পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও আন্তরিক পরিবেশের চিত্র দেখা যায়। শিক্ষকেরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন, যা একটি ইতিবাচক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক।
বিশেষ করে মহিলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে এমন আন্তরিকতা প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
অধ্যক্ষ মো. লুৎফুর রহমানের আন্তরিক নেতৃত্ব
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মানোন্নয়ন, সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন অধ্যক্ষ মো. লুৎফুর রহমান। একজন বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার, শিক্ষাবিদ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় আন্তরিক ভূমিকা রাখছেন।
দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসা মো. লুৎফুর রহমান প্রতিষ্ঠানটিকে নিজের হৃদয়ের গভীর থেকে ভালোবাসেন। শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে তিনি নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক ও মানসম্মত বহুতল ছাত্রাবাস নির্মাণ তাঁর অন্যতম স্বপ্ন। দায়িত্বে থাকাকালীন এ স্বপ্ন বাস্তবায়নের উদ্যোগ এগিয়ে নিতে পারলে তিনি নিজেকে গর্বিত মনে করবেন। এ লক্ষ্য পূরণে সাবেক শিক্ষার্থী, দাতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আর্থিক সহযোগিতা সংগ্রহেও তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মূল্যায়ন
অনেক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মতে, অধ্যক্ষ মো. লুৎফুর রহমান জামেয়ার এযাবৎকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আন্তরিকতা এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগ তাঁকে স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল (এম.এ) মাদ্রাসা শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং জ্ঞান, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে একটি আদর্শ প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সম্মিলিত সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটির চলমান উন্নয়ন উদ্যোগ আরও গতিশীল হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর