ঢাকা |
প্রকাশিত: 10:19 PM, October 25, 2026
তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি সুনামগঞ্জঃ
বর্ষার দিগন্তজোড়া থইথই পানি আর বিশাল ঢেউয়ের সেই চেনা রূপ এখন আর নেই। আশ্বিন গড়িয়ে কার্তিক আসতেই সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা উপজেলার বিস্তৃত হাওরাঞ্চল ধারণ করেছে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারা,একদম রুক্ষ ও পানিশূন্য। বর্ষায় যে হাওরে উত্তাল তরঙ্গে নৌকা চলেছে অবাধে, সেই হাওর এখন শুধুই এক শুষ্ক, ফাটলধরা বিস্তীর্ণ প্রান্তর।
হাওরপাড়ের এই কার্তিক মাস কেবল ঋতুর রূপ বদলই আনে না, নিয়ে আসে স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের এক চরম অস্বস্তি ও কষ্টের প্রহর।
নৌকাও বন্ধ, হাঁটারও উপায় নেই
কার্তিকের এই সময়টাতে হাওরের নিম্নাঞ্চলগুলো থেকে পানি খুব দ্রুত নেমে যায়। ফলে পানি কমে গিয়ে ডিঙ্গি বা ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচলের পথ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে।
অনেক স্থানে কাদামাটি ও পলি জমে খাল-বিল শুকিয়ে চরা জেগে উঠেছে।
অন্যদিকে, কাদা পুরোপুরি না শুকানোয় এবং বিস্তীর্ণ হাওরে যোগাযোগব্যবস্থা বা পাকা রাস্তা না থাকায় হেঁটে যাতায়াত করাও চরম দুষ্কর হয়ে পড়েছে। হাঁটু সমান কাদা আর অসমতল শুকনা মাটির কারণে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে হেঁটে যাওয়া যেন এক অসাধ্য সাধন। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, হাট-বাজারগামী সাধারণ মানুষ এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রত্যাশীরা।
প্রচণ্ড রোদ আর হঠাৎ ঠাণ্ডা: আবহাওয়ার বৈরী খেলা
কার্তিকের এই দিনে হাওরে আবহাওয়ার আচরণও রূপ পরিবর্তন করছে ক্ষণে ক্ষণে:
* দিনের বেলা তীব্র খরা ও রোদ: সূর্য ওঠার পর থেকেই মাথার ওপর ছড়ায় তীব্র উত্তাপ।
পানিশূন্য রুক্ষ হাওরের বুক থেকে উঠে আসা ভ্যাপসা গরমে হাঁপিয়ে ওঠে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।
রাতে ঘন কুয়াশা ও ঠাণ্ডা: সূর্য ডোবার পরপরই নামতে শুরু করে ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া। শেষ রাতে রীতিমতো শীতের ঠাণ্ডা অনুভূত হয়।
দিনের এই প্রখর রোদ আর রাতের হঠাৎ ঠাণ্ডা—আবহাওয়ার এমন খামখেয়ালিপনায় হাওরপাড়ের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে ঋতু পরিবর্তনজনিত নানাবিধ অসুখ-বিসুখ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা ফ্লু, ঠান্ডা-কাশি ও জ্বরে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
কৃষকের অপেক্ষার প্রহর
কার্তিকের এই রুক্ষতা ও কাদা-পানির টানাপোড়েন অবশ্য এক নতুন আশা ও কর্মচাঞ্চল্যেরও ইঙ্গিত দেয়। কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হবে বোরো ধান চাষের মূল প্রস্তুতি—জমি তৈরি ও বীজতলা তৈরির কাজ। তবে এই খরা ও পানিশূন্যতার মুহূর্তে পরিবহন সংকট এবং আবহাওয়া পরিবর্তনের ধাক্কা সামলে ওঠার লড়াইটাই এখন দিরাই-শাল্লার হাওরবাসীদের মূল চ্যালেঞ্জ।
সব মিলিয়ে কার্তিকের এই প্রখর রোদ, হঠাৎ শীতল হাওয়া আর শুকিয়ে যাওয়া পথঘাট হাওরবাসীকে মনে করিয়ে দিচ্ছে প্রকৃতির চেনা নিয়মে সামনেই আসছে আরও এক নতুন সংগ্রামের দিন।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host