জামালগঞ্জে এসিল্যান্ডের রহস্যজনক ফেসবুক পোস্ট: ইউএনওর বিরুদ্ধে মৃত্যুর জন্য দায়ী করার অভিযোগ ও পদত্যাগের ঘোষণা

প্রকাশিত: 10:25 PM, October 26, 2026

জামালগঞ্জে এসিল্যান্ডের রহস্যজনক ফেসবুক পোস্ট: ইউএনওর বিরুদ্ধে মৃত্যুর জন্য দায়ী করার অভিযোগ ও পদত্যাগের ঘোষণা

তৌফিকুর রহমান তাহের, বিশেষ প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ:

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুর রহমান শান্তর একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলে ও এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি নিজের মৃত্যুর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রাণী মোদককে দায়ী করেন এবং প্রশাসন ক্যাডার থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

জন্মদিনের অনুষ্ঠান ও আকস্মিক ঘটনা

গত শুক্রবার দিবাগত রাতে জামালগঞ্জ উপজেলার ইউএনও শিল্পী রাণী মোদকের তিন বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে স্ত্রীসহ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসিল্যান্ড আরিফুর রহমান শান্ত।

অস্বাভাবিক আচরণ, ইউএনওর ভাষ্য অনুযায়ী, আনন্দঘন ওই অনুষ্ঠান শেষ করে বাসা থেকে বের হওয়ার পরই এসিল্যান্ড আরিফুরের আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়।

মারধর ও হুমকি, এসময় তিনি এক আনসার সদস্যকে মারধর করেন এবং ইউএনওর ছোট মেয়েকে ক্ষতি করার হুমকি দেন বলে দাবি করেন শিল্পী রাণী মোদক। বিষয়টি জানাজানি হলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা তাঁর বাসায় ছুটে যান।
ফেসবুক পোস্টের
দায়ভার অর্পণ,ওই রাতেই ‘এসিল্যান্ড জামালগঞ্জ’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে পরপর দুটি পোস্ট করা হয়। প্রথম পোস্টে নিজের মৃত্যুর জন্য সরাসরি ইউএনও শিল্পী রাণী মোদককে দায়ী করা হয়।

পদত্যাগের ঘোষণা: এর পরপরই দেওয়া দ্বিতীয় পোস্টে প্রশাসন ক্যাডার থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন আরিফুর রহমান শান্ত।

মানসিক চাপ ও চিকিৎসার উদ্যোগ
মানসিক অবসাদ: ইউএনও শিল্পী রাণী মোদক জানান, আরিফুর রহমান গত দুই মাস ধরে জামালগঞ্জে কর্মরত ছিলেন এবং বেশ কিছুদিন ধরে তিনি তীব্র মানসিক চাপ ও ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন।

তবে তাঁকে কেন ফেসবুক পোস্টে দায়ী করা হলো, সে বিষয়ে নিজের অজ্ঞতার কথা জানান ইউএনও।
উন্নত চিকিৎসা, জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী মিয়া জানান, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে চিকিৎসকদের পরামর্শে এসিল্যান্ড আরিফুর রহমানকে প্রথমে সিলেটে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ও আলোচনা চললেও ফেসবুক পোস্টের পেছনের আসল কারণ এবং আনীত অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর