সিলেটে বিলীন ২০০ ফুট বাঁধ, ঝুঁকিতে বসতবাড়ি

প্রকাশিত: 11:01 PM, November 6, 2026

সিলেটে বিলীন ২০০ ফুট বাঁধ, ঝুঁকিতে বসতবাড়ি
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সিলেটের জকিগঞ্জে সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে এক রাতেই বেড়িবাঁধের প্রায় ২০০ ফুট অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলার ৩ নম্বর কাজলসার ইউনিয়নের আটগ্রাম নালুহাটি এলাকায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোররাত থেকে এ ভাঙন শুরু হয়। এতে নদীতীরের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথ হুমকির মুখে পড়েছে।

হঠাৎ বাঁধের বড় একটি অংশ ভেঙে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতে সেই ফাটল বড় আকার ধারণ করে। পরে বাঁধের প্রায় ২০০ ফুট অংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আশপাশের আরও বাড়িঘর ও কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

এলাকাবাসী জানান, এই বেড়িবাঁধ শুধু নদীর ভাঙন থেকে জনপদ রক্ষার অবলম্বন নয়, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতেরও গুরুত্বপূর্ণ পথ। এর ওপর দিয়ে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। বাঁধের বড় অংশ নদীতে বিলীন হওয়ায় তাঁদের চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। সংস্কারের দুই বছর না পেরোতেই বাঁধটি আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল বলেন, কয়েক দিন ধরেই বাঁধে ফাটল দেখা যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে বড় আকারে ভাঙন শুরু হয়েছে। আশপাশের বাড়িঘর এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নদীতীরের বাসিন্দারা নিজেদের বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

শামসুল হক নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত ভাঙন ঠেকানোর উদ্যোগ না নিলে নদীর পাড়ের বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। দ্রুত মানুষের জীবন ও বসতভিটা রক্ষা করা জরুরি।

স্থানীয় শিক্ষার্থী ইমরুল আহমদ বলেন, এটি শুধু বেড়িবাঁধ নয়, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও এ পথ ব্যবহার করেন। নদীভাঙনে রাস্তার অংশ বিলীন হওয়ায় এখন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।

এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের অংশে ব্লক স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর দাবি, শুধু ভেঙে যাওয়া অংশ সংস্কার নয়, ভবিষ্যতে যাতে নতুন করে ভাঙন দেখা না দেয়, সে জন্য কার্যকর ও টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সুরমা নদীর ভাঙন আরও বিস্তৃত হতে পারে। এতে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত অংশে দ্রুত ব্লক স্থাপনসহ স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জকিগঞ্জ কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাঁধটি গত বছর সংস্কার করা হয়েছিল। হঠাৎ করে আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আগে যে ঠিকাদারের মাধ্যমে সংস্কারকাজ করা হয়েছিল, তাঁকে দিয়েই দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ব্লক ফেলে বাঁধটি টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর