সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট অবনী মোহন দাসের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশিত: 11:51 AM, August 4, 2026

সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট অবনী মোহন দাসের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী

তৌফিকুর রহমান তাহের,
সুনামগঞ্জ জেলা রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, দিরাই-শাল্লার তৃণমূলের একমাত্র গণমানুষের নেতা, প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট অবনী মোহন দাসের আজ প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। এক বছর আগে আজকের এই দিনে তিনি সহকর্মী, অনুসারী ও এলাকার সাধারণ মানুষকে শোকসাগরে ভাসিয়ে চিরবিদায় নিয়েছিলেন। তবে দেহাবসানেও তাঁর আদর্শ, ত্যাগ এবং জনসেবার স্মৃতি আজও মানুষের হৃদয়ে অমলিন।
১৯৮৬ সালে আইনজীবী হিসেবে পেশাজীবন শুরু করলেও সাধারণ মানুষের সেবা করার অদম্য আকাঙ্ক্ষা তাঁকে পরবর্তীতে রাজনীতির মাঠে টেনে আনে। ১৯৯৬ সালে আইন পেশা ছেড়ে তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে রাজনীতি ও জনসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। রাজনীতি তাঁর কাছে শুধুই কোনো পেশা ছিল না; বরং তা ছিল এক আজীবন লালিত সাধনা, ভালোবাসা ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার।
দিরাই-শাল্লা অঞ্চলের একজন পরম জনবান্ধব প্রতিনিধি হিসেবে তিনি দুইবার উপজেলার চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া দলীয় সাংগঠনিক অঙ্গনেও ছিল তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা। তিনি সুনামের সঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক, পরবর্তীতে সহ-সভাপতি এবং সর্বশেষ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পদ-পদবির চেয়েও তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল দিরাই-শাল্লাসহ পুরো সুনামগঞ্জের দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের আপনজন হিসেবে। সততা, বিনয় এবং পরোপকারী মানসিকতার কারণে তৃণমূলের প্রতিটি মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেছিলেন তিনি। নিজের সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তিনি আমৃত্যু সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন।
জীবনের শেষভাগে তাঁকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বিভিন্ন মামলার কারণে কারাবাস ও রিমান্ডের মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রতিকূল সেই সময়ের পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। তবে চরম প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি তাঁর সততা ও আদর্শ থেকে বিন্দুপরিমাণ বিচ্যুত হননি।
আজ তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে মরহুমের বিদেহী আত্মার পরম শান্তি কামনা করে পরিবার, সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে বিশেষ প্রার্থনা ও দোয়া চাওয়া হয়েছে।
দিরাই-শাল্লার তৃণমূল রাজনীতি ও জনসেবায় রেখে যাওয়া অবনী মোহন দাসের এই অবদান এবং সুমহান আদর্শ গণমানুষের স্মৃতিতে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর