বরাদ্দ নিয়ে নানা প্রশ্ন, চলতি মাসেই শেষ হচ্ছে ১৭নং পিআইসি
৯ লাখ টাকার ফসল রক্ষায় ১৬ লাখ টাকার ‘বেড়িবাঁধ’

প্রকাশিত: ১১:০২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>বরাদ্দ নিয়ে নানা প্রশ্ন, চলতি মাসেই শেষ হচ্ছে ১৭নং পিআইসি</span> <br/> ৯ লাখ টাকার ফসল রক্ষায় ১৬ লাখ টাকার ‘বেড়িবাঁধ’

আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের কালনার হাওর সংলগ্ন বালিকান্দি গ্রামের পাশে প্রায় ৬০ কেয়ার জমির আনুমানিক ৯ লাখ টাকার ফসল রক্ষায় ১৫ লাখ ৯৮ হাজার ৭৭৬ টাকা ব্যয়ে হাওরের রাস্তা উন্নয়ন (বেড়িবাঁধ) প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ১৭নং পিআইসির মাধ্যমে এ কাজের অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সাইনবোর্ডে উল্লেখ রয়েছে, বরাদ্দের পরিমাণ ১৫ লাখ ৯৮ হাজার ৭৭৬ টাকা এবং মাটির পরিমাণ ৪,৫৫২.৮৪ ঘনমিটার। কাজ শুরুর তারিখ ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এবং সমাপ্তির তারিখ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানান,পিআইসি কমিটি ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি খাস ও ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে। বালিকান্দি গ্রামের মাটি কর্তনকারী ড্রেজার ব্যবসায়ি কালা ফারুক জানান, ফিরোজ মেম্বার সরকারি খাস জমি থেকে মাটি উত্তোলনের অনুমতি নিয়েছেন। তাই তারা সরকারি অনুমোদন নিয়েই মাটি উত্তোলনের কাজ করছেন।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, এটি মূলত হাওরের একটি গ্রামীণ রাস্তা, যা আগে কখনো বেড়িবাঁধ ছিল না। এবার রাস্তা উন্নয়ন কাজকে ‘বেড়িবাঁধ নির্মাণ’ হিসেবে দেখিয়ে বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এটি কেবল রাস্তা হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। নির্মাণকাজে কোথাও কোথাও পুরোনো রাস্তার স্থায়ী মাটি কেটে নতুন কাজ দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
তাদের দাবি, বাঁধের পাশ দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি মুগাই খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়। বর্ষা মৌসুমে এই খাল দিয়েই পানি চলাচল করে। যে জমি রক্ষার কথা বলা হচ্ছে, সেটি বন্যার ঝুঁকিতে নয় বলেও তারা দাবি করেন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মচারী বশির মিয়া পিরোজ মেম্বারের ভাগিনা। তার যোগসাজশে এ বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। প্রতি বছরেই পিরোজ মেম্বার পর্দার আড়ালে থেকে বালিকান্দিস্থ কালনার হাওরের একাংশে বাঁধের কাজ নিয়ে সরকারি ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে তড়িঘড়ি করে বাধ নির্মাণ করায় ঝুকির মধ্যে থাকেন তীরবর্তী কৃষকরা।
পিআইসি কমিটির সভাপতি মো. রেজু মিয়া ও সদস্য সচিব, বর্তমান ইউপি সদস্য মো. ফিরোজ মিয়ার নেতৃত্বে কাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পাঁচকেয়ারি গ্রামের বাসিন্দা ফুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, সদর উপজেলা পাউবোর এসও’র সঙ্গে যোগসাজশ করে অপ্রয়োজনীয় বেড়িবাঁধের বরাদ্দ এনে লুটপাট করা হচ্ছে। তার দাবি, ফিরোজ মেম্বারের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন সরকারি কাজের বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ফিরোজ মেম্বার বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম করেন। তবে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছেন না।
এ বিষয়ে সদস্য সচিব ফিরোজ মিয়া বলেন, আমরা এখনো কোনো বিল পাইনি। সবার পরে ফেব্রুয়ারি মাসে আমার পিআইসির অনুমোদন হয়েছে। নির্বাচনের পর বাঁধের কাজ শুরু করেছি। আশা করছি এক সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শেষ করবো। এটি নির্মাণ করা হলে হাওরের মারাই করা ধান,বিলের মাছ,বালিকান্দি থেকে অল্প সময়ে মঙ্গলকাটা বাজারে যাতায়াত সহ গরু বাছুর চলাচল করতে পারবে। জমির মাটি কর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি অনুমোদন নিয়েই কাজ করা হচ্ছে এবং বিল পাওয়া নিয়ে কোনো জটিলতা হবে না।
তিনি আরও বলেন, সুরমা ইউনিয়নের ১৭নং পিআইসির কাজের অনুমোদন কয়েকদিন আগে হয়েছে। এলাকা পরিদর্শনের সময় স্থানীয়রা প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন বলেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আদিত্য পাল বলেন,মাটি কাটার অনুমতির বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দেখব।
সদর উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিনের মোবাইল ফোন একাধিক বার ফোন করে কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। তাই বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিআইসি সভাপতি রেজু মিয়া, সদস্য গফুর মিয়া, মো. লিল মিয়া, ভ্যাপু মেশিনচালক ফারুক মিয়া, কৃষক করিম মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, কবির হোসেন, কুদ্দুছ মিয়া, সুরুজ মিয়া ও মো. শহীদুল মিয়া প্রমূখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর