সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি বিএনপির সংসদ সদ্যরা

প্রকাশিত: ৯:৩০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন</span> <br/> সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি বিএনপির সংসদ সদ্যরা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে উপেক্ষা করেছে সরকারি দল : জামায়াত আমির

বিজয়ের কন্ঠ ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথগ্রহণ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
প্রথমে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান সিইসি। পরে তারা সবাই শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যসহ অন্যান্য দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পর্যায়ক্রমে শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির উদ্দিন।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত প্রার্থীরা।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র ছয়জন নির্বাচিত এমপিও শপথ নিয়েছেন। এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার কিছু আগে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হয় বলে ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার দৈনিক প্রথম আলো জানায়। শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে শপথের জন্য নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি ফরম দেওয়া হয়। এর একটি ছিল সাদা রঙের, যেটি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম। অন্যটি ছিল নীল রঙের, যেটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম।
শপথ অনুষ্ঠান শুরুর আগে কক্সবাজার–১ আসনে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ শপথকক্ষে উপস্থিত দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে একটি নির্দেশনা দেন।
নির্দেশনায় সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়ে দেন, তারা সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হননি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার হলে, সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথের ফরম যুক্ত হলে, কে এই শপথ পড়াবেন তা নির্ধারিত হলে, তখন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া যাবে। তিনি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানেরসিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে সহকর্মীদের জানান।
শপথ গ্রহণ শেষে বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীরা সংসদ সদস্যের শপথপত্রে সই করেন। এরপর বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান সমাপ্তি ঘোষণা করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
মঙ্গলবার সকালে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রথম আলোকে বলেছিলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনো শপথই নেবেন না। কারণ, তারা মনে করেন, সংস্কারবিহীন সংসদ অর্থহীন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন।
বিএনপি সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে উপেক্ষা এবং অবজ্ঞা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা মনে করি, সরকারি দল শপথ না নিয়ে তারা জুলাইকে উপেক্ষা এবং অবজ্ঞা করেছে। এতে জন–আকাক্সক্ষার বিপরীতে তাদের অবস্থান বলে আমরা মনে করি। সংস্কারের বিপরীতে তাদের এই অবস্থান স্পষ্ট।’
মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।
মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার কিছু আগে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হয়। শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। তবে তাঁরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আজ ছিল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথের দিন। আমাদের চিঠি দেওয়া হয়েছিল গভীর রাতে। যেটা আমাদের জন্য কিছুটা অস্বস্তিদায়কও ছিল। তারপর আমাদের নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে দেশবাসীর প্রতি সম্মান রেখে আমরা এসেছিলাম শপথ নিতে। ইতিপূর্বে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা লক্ষ করেছি, একই দিনে একই সময়ে শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতো। এবারই বোধ হয় আপনারা তার ব্যতিক্রম লক্ষ করেছেন। সরকারি দল আমাদের আগে শপথ নিয়েছে।’
জামায়াতসহ ১১ দলকে সংসদ সচিবালয় থেকে যে পত্র বা চিঠি দেওয়া হয়েছিল, সেখানে দুটি শপথের কথা উল্লেখ ছিল বলে জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, চিঠিতে বলা হয়েছিল, সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁরা প্রথমে শপথ নেবেন। সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আরেকটা শপথ হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা হলে প্রবেশ করার পর সংসদ সচিব আমাদের জিজ্ঞেস করলেন যে “স্যার, সকালবেলা সরকারি দলের তাঁরা শপথ নিয়েছেন। তাঁরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আপনারা কী করবেন?” আমরা তখন বললাম যে আমরা দুটিরই শপথ নিতে এখানে এসেছি।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর