সংসদ ভোটের চেয়ে গণভোটের হার বেশি কেন? ব্যাখ্যা দিল ইসি
গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ

প্রকাশিত: ৭:২৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>সংসদ ভোটের চেয়ে গণভোটের হার বেশি কেন? ব্যাখ্যা দিল ইসি</span> <br/> গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ

বিজয়ের কণ্ঠ ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংবিধান সংস্কারের ওপর জাতীয় গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এই গেজেট প্রকাশ করা হয়।
গেজেটে ফলাফলের তথ্য প্রকাশ করে বলা হয়েছে, হ্যাঁ ভোটের সংখ্যা চার কোটি ৮০ লাখ ৮২ হাজার ৬৬০ এবং ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ না ভোট। এছাড়াও মোট বৈধ ভোটারের সংখ্যা ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ২৮৬, বাতিল ভোটের সংখ্যা ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭ এবং মোট ভোট ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও আইনি জটিলতা ও প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে কিছু আসনে ফলাফল স্থগিত রাখা হয়। প্রাপ্ত ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে ইসি।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারের ওপর জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন ২৯৭ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে। এবার আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২৯৭ আসনের গেজেট ঘোষণা করলো ইসি।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ ভোটের তুলনায় গণভোটে ভোটার উপস্থিতি বেশি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনায় দুটি সংসদীয় আসনের ফল স্থগিত থাকলেও সেখানে গণভোটের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় গণভোটের মোট ভোটের হার বেশি হয়েছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
ইসি সচিব বলেন, ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হচ্ছে না। বাকি ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে।
তিনি জানান, অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি আসন। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৭টি আসনে।
ভোটের হার প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। অন্যদিকে গণভোটে কাস্ট হওয়া ভোটের হার ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, যে দুটি আসনের সংসদ ফল স্থগিত রয়েছে, সেখানে গণভোটের ভোট গণনায় যুক্ত হয়েছেÑএ কারণেই গণভোটের হার তুলনামূলক বেশি।
গণভোটের ফলাফল তুলে ধরে তিনি জানান, পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি এবং বিপক্ষে ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।
গেজেট প্রকাশের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে চূড়ান্ত ফলাফলের হার্ড কপি পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যত দ্রুত সম্ভব গেজেট প্রকাশ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সন্ধ্যার মধ্যেই হার্ড কপি আসা শুরু হবে।
এ সময় নির্বাচনসংক্রান্ত সংবাদ প্রচারে সহযোগিতার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।
এদিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিব সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
গেজেট প্রকাশ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে চূড়ান্ত রেজাল্ট শিট (হার্ড কপি) আসার পর তা যাচাই-বাছাই করে যত দ্রুত সম্ভব গেজেট প্রকাশ করা হবে। আশা করছি আজ সন্ধ্যা নাগাদ হার্ড কপি আসা শুরু হবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফলাফল অর্থ ঋণ সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে বর্তমানে আটকে রয়েছে।গেজেট প্রকাশের পরবর্তী ধাপ হিসেবে সচিব জানান যে রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে কমিশনের তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্ভুল গেজেট প্রকাশই এখন ইসির প্রধান লক্ষ্য। গেজেট প্রকাশের পর নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে শপথ কে পড়াবেন সেটি সংসদ সচিবালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ফলাফল ঘোষণা করে ইসি সচিব বলেন, ‘২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দুটি আসনের (চট্টগ্রাম ২ ও ৪) ফলাফল ঘোষণা করা হচ্ছে না। বাকি ২৯৭টি আসনের প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি ২০৯টি ও জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে।’
অন্যান্য দলের ফলাফলের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া ৭টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
ভোটের হার প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আর গণভোটে কাস্ট হওয়া ভোটের হার ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। ’ গণভোটে ভোটের হার কিছুটা বেশি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনায় সংসদ নির্বাচনের দুটি আসনের ফল স্থগিত থাকলেও সেখানে গণভোটের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তাই সেই ভোটগুলো গণভোটে যুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘গণভোটে পরিবর্তনের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি। আর বিপক্ষে বা ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।’

সর্বশেষ ২৪ খবর