ঢাকা ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:১৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেট নগরের দরগা গেইট এলাকায় নিজ মালিকানাধীন জমি সংস্কার করতে গিয়ে ভূমি খেকোদের মবের শিকার হয়ে জেল হাজতে রয়েছেন অসহায় মশরুর আহমদ। তিনি সিলেট মহানগরের সৈয়দ মুগনী রোডের তরঙ্গ-৬/৫ আবাসিক এলাকার শেখ মো. ফজলুর রহমানের ছেলে।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, সিলেট মিউনিসিপ্যালিটি মৌজার এসএ ৯১ নং জে.এল এর অন্তর্গত এসএ ৪১০০ নং খতিয়ানের ৪৭৪৪ নং দাগে দোকান রকম ০.০৫ শতাংশ ও ৪৭৪৫ নং দাগে ভিটা রকম সাড়ে ০.১০ শতাংশ, মোট সাড়ে ১৫ শতাংশ জমিতে ক্রয় সূত্রে মালিক মশরুরের পিতা মাওলানা শেখ মো. ফজলুর রহমান। তিনি ১৯৮৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর সিলেট সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত ৩৪৮৬৫ নং সাফ কবালা দলিলে মো. আবুল হাছনাত চৌধুরীর কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করে সেখানে টিনশেড ঘর নির্মাণ করে বসবাসরত ছিলেন। বাসার সামনে একটি দোকান কোঠা করে সেখানে ব্যবসাও করতেন ফজলুর রহমান। ওই দোকানে ম্যানেজার হিসেবে জনৈক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেন। বেতনভোগী ওই ব্যক্তি দোকানটি দেখাশোনা করতেন। এমতাবস্থায় বিগত ১৯৯৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ফজলুর রহমান মৃত্যু বরন করলে তাঁর উত্তরাধিকারী হিসাবে ছেলে মশরুর আহমদ গং মালিক হন। এরপর থেকে তারা সেখানে মালিক স্বত্ববান থেকে বসবাস করতে থাকা অবস্থায় বেশ কয়েক দিন পর তাদের উপর শুরু হয় অজ্ঞাত ওই ম্যানেজারের অত্যাচার। দোকান ম্যানেজার নিজেকে দোকান কোঠাসহ পেছনের টিনশেড বাসাটির ক্রয় করেছেন দাবি করে তাদেরকে জায়গা থেকে উচ্ছেদ করে দেন। এসময় মশরুর আহমদ ছোট থাকায় তিনি ম্যানেজারের নাম জানতে পারেননি বা কোনো প্রতিরোধ করতে পারেননি। এমনটি জানানো হয়েছে ভুক্তভোগী মশরুরের পরিবারের পক্ষ থেকে।
তারা বলেন, ওই সময় মশুরুর আহমদ ছোট ছিলেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মহিলা থাকায় তারা কেউ ম্যানেজারের নামও জানতে পারেননি বা জানার প্রয়োজনও মনে করেননি। শেষ পর্যন্ত তারা নিরুপায় হয়ে অন্যত্র বসবাস শুরু করেন।
তারা বলেন, এতোদিন আমরা আমাদের জায়গার সমূহ কাগজপত্র খুঁজে পেয়েছি। আমার জায়গাটিও আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। সেই সুবাদে গত ১২ ফেব্রুয়ারি মশরুর আহমদ তাঁর পিতার ক্রয়কৃত জায়গা সংস্কার করতে গেলে সেখানকার ভূমিখেকোরা তার উপর মব সৃষ্টি করে সেনা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী তাকে কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করে এবং পরদিন পুলিশ তাকে ১৪৪ ধারায় জেল হাজতে প্রেরণ করে।
মশরুর আহমদের পরিবার জানায়, তারা ওই জায়গায় গেলে সেখানকার কেয়ারটেকার বাধা প্রদান করে এবং জায়গাটি তার মালিক বিগত ১৯৮২ সালে মশরুরের পিতা শেখ মাওলানা ফজলুর রহমানের বিক্রিত দলিলের বায়া হয়ে মালিক স্বত্ববান বলে দাবি করে। সে জানায় তার মালিক এখন স্বপরিবারে লন্ডনে বসবাস করছেন। তারা আসার পর ওই জায়গাতে স্থাপনা নির্মাণ করবেন।
এ প্রতিবেদককে প্রশ্ন করে মশরুরের পরিবার জানায়, যদি ১৯৮৪ সালে শেখ মাওলানা ফজলুর রহমান ক্রয় করেন, তাহলে তিনি আবার কীভাবে ১৯৮২ সালে কোনো ব্যক্তির নিকট একই জমি বিক্রি করতে পারেন?
তারা সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ভূমি খেকোরা কোনো জাল সৃজন করে জায়গাটি আত্মসাতের পায়তারা করছে। যার কারণে, তারা ঘটনার সময় কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারে নাই। তাছাড়া, ১৯৮২ সালের দলিলের বিষয়টি সম্পূর্ণ অমূলক। তারা বৈধভাবে ওই জায়গার মালিক নয় বিধায় এখনও পর্যন্ত মূল্যবান এই জায়গাটিতে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করেনি।
বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের আকুতি জানিয়ে তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
সর্বশেষ অবস্থায় জায়গাটি এখন সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মশরুরকে নিয়ে যাওয়ার সময় তারা ঘরটি সিলগালা করে রেখে যান এবং হাজত থেকে বের হওয়ার পর তাদের সাথে যোগাযোগ করারও পরামর্শ দেন।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host