ঢাকা ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:২৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
হাওর এলাকায় ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণে অনিয়ম, লাগামহীন দুর্নীতি ও কাজের ধীরগতির প্রতিবাদে হাওর বাঁচাও আন্দোলন সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব বখত বাহলুল।
বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়, সহ-সভাপতি সুখেন্দু সেন ও চিত্তরঞ্জন তালুকদার, জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ নুর আহমদ, সহ-সভাপতি আলী নূর, জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহিদুল ইসলাম বকুল, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান মিয়া, বাবুল দাস, শান্তিগঞ্জ উপজেলা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবু সাইদ, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, হাজী আব্দুর নুর।
এছাড়াও বক্তব্য দেন আনোয়ারুল হক, ইসমাইল হোসেন, নূর হোসেন, মোহাম্মদ আশরাফ আলী, শওকত আলী, মুক্তার আলী ও শুকুর আলী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত গুপ্ত।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসন বিগত বছরগুলোর মতো এবারও অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের কাজের চাপকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে অনিয়ম আরও বেড়েছে বলে তারা দাবি করেন। অনেক অপ্রয়োজনীয় বাঁধে উৎকোচের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং নামেমাত্র কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। তারা দাবি করেন জেলায় বাঁধ নির্মাণ ৩০% হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো কোনো উপজেলায় দৃশ্যমান কাজ পরিলক্ষিত হয়নি।
তারা জানান, গত বছর বাঁধ নির্মাণে ১৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যা চলতি বছরে বাড়িয়ে ১৪৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। অথচ ভরা বর্ষা না হওয়ায় জেলার অধিকাংশ বাঁধ অক্ষত ছিল। সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়াই মনগড়া সিদ্ধান্তে অপরিকল্পিত বাঁধে দ্বিগুণ-তিনগুণ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে বলে বক্তারা দাবি করেন।
তারা বলেন, সুষ্ঠু কাজ না হলে এর দায়িত্ব নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসন। প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবেন।
বক্তারা আরও বলেন, সদর, শান্তিগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলায় বাঁধ নির্মাণ ও পিআইসি গঠনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। বিশেষ করে জামালগঞ্জের পাকনার হাওরের বগলার খালী এবং সদরের সিলুয়ার হাওরে ক্লোজার ও খনন কাজে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়।
মানববন্ধন থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, জেলায় এখন পর্যন্ত বাঁধের কাজ ৬৮% হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবার অনেক দুর থেকে মাটি এনে বাঁধ নির্মাণ করতে বেশি ব্যয় হয়েছে। তাই বরাদ্দের পরিমাণ বেশি। এছাড়া ভ্যাট ও বেড়েছে।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host