ঢাকা ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:৩৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬
বিজয়ের কণ্ঠ ডেস্ক
শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঢামাঢোল। সিলেট বিভাগে ভূমিধস জয় পেয়েছে বিএনপি। বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে সিলেটের মানুষ ১৮টি উপহার দিয়েছে বিএনপিকে। আর জামায়াত কোন আসনে জয় না পেলেও শরীক খেলাফত মজলিস পেয়েছে ১টি আসন। বিএনপির এই ভূমিধস জয়ে প্রত্যাশা বেড়েছে সিলেটের মানুষের। এবার চোখ তাদের মন্ত্রীসভায়।
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার মন্ত্রীসভায় সিলেটের একাধিক দাপুটে মন্ত্রী ছিলেন। তারেক জিয়ার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রীসভায়ও সিলেটের একাধিক মন্ত্রী থাকবেন- এমন প্রত্যাশা এই অঞ্চলের মানুষের। আগামী মন্ত্রীসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন- এই আলোচনায় এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ৭ নেতার নাম। এর মধ্যে থেকে ৩-৪ জন মন্ত্রীসভায় স্থান করে নিতে পারেন বলে মনে করছেন সিলেটের মানুষ।
বিগত নির্বাচনগুলোতে সিলেট বিভাগে বিএনপির ফলাফলে ছিল উত্থান-পতন। কখনো পেয়েছে অর্ধেকের চেয়ে বেশি আসন, আবার কখনো ১-২টি আসন নিয়েই থাকতে হয়েছে সন্তুষ্ট। কিন্তু এবারের মতো ভূমিধস বিজয় পায়নি কখনো। সিলেটের মানুষ এ বিজয়কে তাদের ‘জামাই’ তারেক রহমানকে উৎসর্গ করছেন। গণতন্ত্রের জন্য খালেদা জিয়ার আমৃত্যু সংগ্রাম ও তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে সিলেটের মানুষ এবার ধানের শীষে তাদের নিরঙ্কুশ সমর্থন দিয়েছেন বলে মনে করছেন এ অঞ্চলের মানুষ। সিলেটে অভাবনীয় জয়ের কারণে এবার মন্ত্রীসভা নিয়ে প্রত্যাশারও বিস্তৃতি ঘটেছে।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে সিলেটজুড়ে আলোচনা চলছে মন্ত্রীসভা নিয়ে। সিলেট থেকে কোন কোন নেতার ঠাঁই হচ্ছে মন্ত্রীসভায় এ আলোচনা এখন সর্বত্র। গত দুইদিন ধরে এই আলোচনায় যাদের নাম ঘুরপাক খাচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ূন কবীর, সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচিত খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সিলেট-৪ আসন থেকে বিজয়ী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হওয়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, হবিগঞ্জ-১ আসনের বিজয়ী ড. রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জি কে গৌছ ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী।
এর মধ্যে হুমায়ূন কবীর পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। সিলেট-১ আসন থেকে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা সবসময় মন্ত্রীসভায় স্থান পেয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এ আসনে বিজয়ী বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ‘জেন্টলম্যান’খ্যাত খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরেরও মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভোটযুদ্ধে ‘ম্যাজিকম্যান’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সিলেট-৪ আসন থেকে নির্বাচিত আরিফুল হক চৌধুরীও মন্ত্রী সভায় ঠাঁই করে নিতে পারেন বলে মনে করছেন তার সমর্থক-শুভাকাঙ্খিরা।
সিলেট-৫ আসন থেকে বিএনপি জোটের প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হতে পারেননি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। তার পরাজয়ের জন্য দায়ি করা হচ্ছে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদকে। নির্বাচনে তিনি ৯ হাজার ৫৮১ ভোটের ব্যবধানে খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। আর তৃতীয় স্থানে থাকা বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মামুনুর রশিদ ফুটবল প্রতীকে ৫৭ হাজার ২৫১ ভোট।
বিএনপির মামুনুর রশিদ বিদ্রোহী প্রার্থী না হলে আসনটিতে বিপুল ভোটের ব্যবধানে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বিজয়ী হতেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে আগামী মন্ত্রীসভায় ধর্মমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে সিলেটে।
এছাড়া মন্ত্রীত্বের আলোচনায় রয়েছেন হবিগঞ্জ থেকে নির্বাচিত রেজা কিবরিয়া ও জি কে গৌছ।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন সিলেটের মানুষ। কাইয়ূম চৌধুরী সিলেট-৩ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দলের চেয়ারম্যান তাকে মনোনয়ন না দিয়ে জেলার সবকটি আসনের নির্বাচনী সমন্বয়ক করেন।
সূত্র জানায়, সিলেট সফরকালে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান আশ্বস্থ করেছেন বিএনপির সরকার গঠন করলে কাইয়ূম চৌধুরীকে মূল্যায়নের। খালেদা জিয়ার মন্ত্রীসভার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী সাইফুর রহমানের এপিএস কাইয়ুম চৌধুরী ছিলেন বিসিবির পরিচালক। পরিকল্পনা, যুব ও ক্রীড়া এবং প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কাইয়ূম চৌধুরী ত্যাগের পুরস্কার হিসেবে মন্ত্রীসভায় ঠাঁই করে নিতে পারেন বলে মনে করছেন তার সমর্থক ও শুভাকাঙ্খিরা।
১
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host