সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
জামায়াত নেতা সেলিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর হামলা

প্রকাশিত: ৮:৩০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ</span> <br/> জামায়াত নেতা সেলিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর হামলা

বিয়ানীবাজার সংবাদদাতা
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিয়ানীবাজারে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন-এর কর্মী-সমর্থকদের ওপর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার রাতে বিয়ানীবাজার উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, “নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর বিয়ানীবাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি সমর্থক ও তাদের ছত্রছায়ায় মাথাচাড়া দিয়েও উঠা অপশক্তি উত্তেজিত হয়ে এলাকার জামায়াত সমর্থকদের বাড়িতে হামলা করেছে। তিলপারা ইউনিয়নের ইনাম গ্রামের শরিফা বেগমের উপর শারীরিক নির্যাতন ও বাড়িঘরে হামলা করা হয়েছে। লাউতা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়িয়াবহর গ্রামের মোস্তফা উদ্দিন, আইয়্যুব ও সাহেদ আহমেদের বাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।”
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে উপজেলার কয়েকটি গ্রামে সেলিম উদ্দিনের সমর্থকদের শারীরিক নির্যাতন ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে এলাকায় বসবাস করছেন। অনেকের ফোনে কিংবা সামনাসামনি মারধরের হুমকি দেওয়া অভিযোগ করা হয়।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, “(বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জে) দাঁড়িপাল্লার জনপ্রিয়তার ভয়ে ভীত হয়ে অনেকে এক হয়ে যেকোনো মূল্যে দাঁড়িপাল্লা সেলিম উদ্দিনকে হারানোর জন্য সবাই এক হয়ে কাজ করেছেন। তাদেরকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে তাদের মামলা তুলে নেওয়া হবে। নির্বাচন পরবর্তী দেখছি অনেক এজাহারভুক্ত আসামী প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসছে। বিভিন্নভাবে জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে এটি একটি অশনিসংকেত। এমন যদি হয় নতুন বাংলাদেশের অবস্থা তবে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হবে যা মোটেই কাম্য না।”
তিনি বলেন, “নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে প্রশাসনের যতটুকু আন্তরিক পরিবেশ তৈরি করার কথা ছিল তার অনেকটা ঘাটতি দেখা গেছে। আমরা তো ইলেকশন মেনে নিয়েছি। সারাদেশে ভোটের রেশিও অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী একটা বড় বিরোধী দল হিসেবে সরকারে আসছে। এখনো সরকাই গঠন হয় নাই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রয়েগেছে এরই মধ্যে এমন আচরণ দুঃখজনক। আমর দেখেছি সরকার দলের সবসময় বিরোধী দলের প্রতি আন্তরিক কথা তাদের নিরাপত্তা দিতে না পারলে সেটা তো সরকারের বিরুদ্ধে যায়। আমরা বিএনপির কাছে একটি সংযত দল হিসবে আচরণ রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।”
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত দু’জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “নির্বাচনে পরাজয়ের ক্ষোভ থেকে পরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। একজন মাকে মারধর করা হয়েছে শুধু তার বাড়িতে দাঁড়িপাল্লার উঠান বৈঠক হয়েছিল বলে এটা খুবই দুঃখজনক। প্রশাসনের কাছে আমরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করছি।”
বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হামলার শিকার আহত পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ানীবাজার থানায় মামলা করা হয়েছে। তাদের সুষ্ঠু বিচারের পক্ষে জামায়াতে ইসলামী দল হিসবে যতটুকু প্রয়োজন সহযোগিতা করবে।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন- বিয়ানীবাজার উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ফয়জুল ইসলাম, সেক্রেটারি কাজী আবুল কাশেম, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি, মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, মোহাম্মদ রুকন উদ্দিন, বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রশিবির দক্ষিণের সভাপতি ফাতেহুল ইসলাম।

সর্বশেষ ২৪ খবর