হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন
হাওরে ফসলহানি হলে দায় নিতে হবে কর্তৃপক্ষকে’

প্রকাশিত: ৮:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০২৬

<span style='color:#077D05;font-size:19px;'>হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন</span> <br/> হাওরে ফসলহানি হলে দায় নিতে হবে কর্তৃপক্ষকে’

বিশেষ প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে চরম অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’ কেন্দ্রীয় কমিটি। সরকারি নির্ধারিত সময় পার হওয়ার ২০ দিন পরেও জেলাজুড়ে অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণ না হলে এবং কোনো কারণে ফসলহানি ঘটলে এর দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে সুনামগঞ্জ শহরের শহীদ জগতজ্যোতি পাঠাগারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এসব অভিযোগ ও দাবি উত্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠন, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ১৫ ডিসেম্বর নামমাত্র উদ্বোধনের ২০ দিন পার হলেও সুনামগঞ্জের শাল্লা, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দিরাই ও শান্তিগঞ্জসহ কোনো উপজেলাতেই পুরোদমে কাজ শুরু হয়নি। এমনকি অনেক স্থানে এখনো পূর্ণাঙ্গ পিআইসি গঠনই সম্পন্ন হয়নি।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ হালি, শনি, দেখার, কানলা, ছায়া, মহালয়া ও সোনামড়লসহ বিভিন্ন হাওর সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানান, অধিকাংশ স্থানে বাঁধ মেরামত ও ভাঙা বন্ধকরণের কাজ এখনো শুরু হয়নি। নেতৃবৃন্দ বলেন, “বাস্তবতা হলোÑডাকঢোল পিটিয়ে ফিতা কাটা হয়েছে, কিন্তু মাঠে কাজ নেই। পিআইসি নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সার্ভে টিম প্রভাবিত হয়ে মনগড়া সার্ভে করেছে। অনেক স্থানে গত বছরের অক্ষত বাঁধেও প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। একটি বড় প্রকল্পকে একাধিক ছোট প্রকল্পে ভাগ করে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়। বক্তারা বলেন, তড়িঘড়ি করে শেষ মুহূর্তে যে বাঁধ নির্মাণ করা হয়, তা টেকসই হয় না এবং এতে আগাম বন্যায় ফসলহানির ঝুঁকি বেড়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে কৃষকদের পক্ষ থেকে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়, অবিলম্বে সব পিআইসি গঠন শেষ করে মাঠ পর্যায়ে কাজ দৃশ্যমান করতে হবে। কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) স্কিমের নীতিমালা শতভাগ অনুসরণ করতে হবে। কাগজ-কলম আর নকশার মারপ্যাঁচ বন্ধ করে দ্রুত কাজ শুরু করতে হবে। কোনো প্রকার অনিয়ম বা গাফিলতি হলে তার দায় মনিটরিং কমিটিকে নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট স্বপন কুমার দাস রায় ও সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, সুনামগঞ্জের দুই লাখ বোরো চাষী পরিবারের জীবন ও জীবিকা এই একটি ফসলের ওপর নির্ভরশীল। সময়মতো কাজ শেষ না হলে কৃষকদের নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন তারা। প্রয়োজনে জন-আদালত ও সরকারি আদালতে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে বলেও জানান তারা।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা চিত্তরঞ্জন তালুকদার, কেন্দ্রীয় সদস্য ইসমাইল মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খলিল রহমান, এ কে কুদরত পাশা, দপ্তর সম্পাদক আনোয়ারুল হক এবং জেলা শাখার সহ-সভাপতি আলী নূর প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে হাওরের সংকট নিরসনে ও প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ ২৪ খবর