ঢাকা ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১১:৩০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬
বিজয়ের কণ্ঠ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে। এতে ৫৩ শিশুসহ ৫৬ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। পাল্টা আক্রমণের অংশ হিসেবে ইসরাইলি ভূখণ্ড এবং মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ব্যাপক মিসাইল ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বাহিনী।
মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে টার্গেট করার জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোতেও প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে তেহরান। এতে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীতে।
ইরানের স্থানীয় সময় শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে দেশটিতে যৌথ হামলা চালায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে উপসাগরীয় তেল পরিবহণকারীদের মধ্যে। ধীরে ধীরে কমতে থাকে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণ। ইতোমধ্যে প্রায় সব বড় কোম্পানি তাদের নৌযানগুলো চলাচল বন্ধ করেছে।
চলমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় তেল এবং বাণিজ্যিক কোম্পানি হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচল স্থগিত করেছে। একটি শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক কোম্পানির এক নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের জাহাজগুলো আগামী কয়েক দিন বর্তমান অবস্থানেই স্থির থাকবে।’
আরব উপদ্বীপ এবং ইরানের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ পানিপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং অন্যান্য জ্বালানি পরিবাহিত হয়। ফলে যেকোনো ধরনের স্থগিতাদেশ বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের সংকটের হুমকি তৈরি করছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের প্রধান তেল করিডোর। এই পথে পৃথীবিতে ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের এক-চতুর্থাংশেরও পরিবহণ করা হয়। আবার গ্যাস সরবরাহেরও মূল পথ। বিশ্বের মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এশিয়া ও ইউরোপে গ্যাস পাঠানোর এটিই প্রধান মাধ্যম। তাই এ পথ বন্ধ হয়ে গেলে ইউরোপ ও আমেরিকায় হাহাকার শুরু হয়ে যাবে, যে ঝুঁকি তারা কখনেই নিতে চাইবে না।
গুরুত্বপূর্ণ এই তেল করিডোরে পরিবহণ বন্ধ হলে বিপর্যয় নেমে আসবে বিশ্ববাজারে, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম। ইতোমধ্যে হামলার আশঙ্কায় শুক্রবারই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৭২ দশমিক ৪৮ ডলারে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই ৬৭ দশমিক ০২ ডলারে থিতু হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে দাম আরও লাফিয়ে বাড়তে পারে। এমনকি দাম ১০০-১৩০ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা আছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের প্রধান ও দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত হয়েছেন। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে। শনিবার সকালে ইরানে আকস্মিকভাবে যৌথ হামলা চালায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র।
রয়টার্সকে সূত্রগুলো বলেছেন, হামলার শুরুতেই বিপ্লবী গার্ডের প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ পাকপোর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাহেদ প্রাণ হারান।
এরআগে ইসরাইল জানিয়েছিল, তারা তাদের অনুসন্ধান থেকে জানতে পেরেছে বিপ্লবী গার্ড প্রধান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছাড়াও ইরানের গোয়েন্দা শাখার প্রধান নিহত হয়েছেন।
শনিবারের সকালের হামলায় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকেও টার্গেট করা হয়। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ একটি সূত্রের বরাতে দাবি করেছে, খামেনি মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তারা এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি।
সম্পাদক : জে.এ কাজল খান
স্বত্ত্ব: দৈনিক বিজয়ের কণ্ঠ (প্রিন্ট ভার্সন)
০১৭১৮৩২৩২৩৯
Design and developed by Yellow Host